০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ডুয়েটে সপ্তম দিনের শাটডাউন, ভিসি নিয়োগ ঘিরে অচলাবস্থা তীব্র

গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান ‘সম্পূর্ণ শাটডাউন’ কর্মসূচি সপ্তম দিনে গিয়ে আরও তীব্র আকার নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

বুধবার দুপুরে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে রেখেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ফলে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী কিংবা বাইরের কাউকেই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছিল না। এতে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, ডুয়েটের বাইরে থেকে কাউকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ না দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকেই ভিসি নিয়োগ দিতে হবে। নতুন নিয়োগ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

ক্যাম্পাসে বাড়ছে অস্থিরতা

ডুয়েটে উপাচার্য নিয়োগ ঘিরে অচলাবস্থা: ৫ দিনেও ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেননি  নতুন ভিসি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলমান পরিস্থিতির কারণে অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে হল ছেড়ে চলে গেছেন। তবে শিল্প সংযুক্তি কার্যক্রমে থাকা কিছু শিক্ষার্থী এখনও ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন।

প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, নতুন উপাচার্য বুধবারও ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি। তবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চলছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরাও। রংপুর থেকে আসা এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি ডুয়েটে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ক্যাম্পাস দেখতে এসেছিলেন। কিন্তু প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় ভেতরে ঢুকতে পারেননি।

দেয়াল টপকে যাতায়াত

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় অনেককে বাধ্য হয়ে দেয়াল টপকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও বের হতে হচ্ছে। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীরাও জানান, আন্দোলনকারীরা গেট বন্ধ করে দিয়েছেন এবং কারও প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছেন না। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমও প্রায় বন্ধ হয়ে আছে।

উপাচার্যের অবস্থান

নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল দাবি করেছেন, তিনি নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকদের বেতন, বোনাস এবং বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে কবে প্রবেশ করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নজরদারি অব্যাহত আছে।

গত কয়েকদিন ধরে ডুয়েট ক্যাম্পাসে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দীর্ঘায়িত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম কবে ফিরবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ডুয়েটে সপ্তম দিনের শাটডাউন, ভিসি নিয়োগ ঘিরে অচলাবস্থা তীব্র

০১:৫১:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান ‘সম্পূর্ণ শাটডাউন’ কর্মসূচি সপ্তম দিনে গিয়ে আরও তীব্র আকার নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

বুধবার দুপুরে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে রেখেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ফলে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী কিংবা বাইরের কাউকেই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছিল না। এতে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, ডুয়েটের বাইরে থেকে কাউকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ না দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকেই ভিসি নিয়োগ দিতে হবে। নতুন নিয়োগ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

ক্যাম্পাসে বাড়ছে অস্থিরতা

ডুয়েটে উপাচার্য নিয়োগ ঘিরে অচলাবস্থা: ৫ দিনেও ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেননি  নতুন ভিসি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলমান পরিস্থিতির কারণে অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে হল ছেড়ে চলে গেছেন। তবে শিল্প সংযুক্তি কার্যক্রমে থাকা কিছু শিক্ষার্থী এখনও ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন।

প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, নতুন উপাচার্য বুধবারও ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি। তবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চলছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরাও। রংপুর থেকে আসা এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি ডুয়েটে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ক্যাম্পাস দেখতে এসেছিলেন। কিন্তু প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় ভেতরে ঢুকতে পারেননি।

দেয়াল টপকে যাতায়াত

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় অনেককে বাধ্য হয়ে দেয়াল টপকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও বের হতে হচ্ছে। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীরাও জানান, আন্দোলনকারীরা গেট বন্ধ করে দিয়েছেন এবং কারও প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছেন না। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমও প্রায় বন্ধ হয়ে আছে।

উপাচার্যের অবস্থান

নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল দাবি করেছেন, তিনি নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকদের বেতন, বোনাস এবং বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে কবে প্রবেশ করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নজরদারি অব্যাহত আছে।

গত কয়েকদিন ধরে ডুয়েট ক্যাম্পাসে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দীর্ঘায়িত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম কবে ফিরবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।