০৬:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুও বাজারে এলো ভারত ও চীনে কম খরচে হাজার হাজার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উদ্যোগ, নতুন চ্যালেঞ্জ মার্কিন অস্ত্রশিল্পে ছোট নৌকার বিক্ষোভ নয়, আসল সংকট ব্রিটেনের ভেঙে পড়া অভিবাসন ব্যবস্থা ইউরোপে আবাসন সংকট, এয়ারবিএনবির ওপর আরও কড়াকড়ির প্রস্তাব অর্থের বিনিময়ে প্রচার, অথচ বিজ্ঞাপনের পরিচয় গোপন রাখতে বলছে ব্র্যান্ড ৯/১১-এর পর যে পথে বদলে গেল বিশ্বব্যবস্থা এআইকে নিজের গোপন ভাবনা দিলে সেটাই কি একদিন আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে? নাটোরে দিনে ১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই, কমেছে আয়: বিপাকে শ্রমজীবী মানুষ গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশ যাচ্ছে না, আমন্ত্রণ পাননি প্রধানমন্ত্রী: হুমায়ুন কবির

ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, আক্রান্তও ছাড়াল দেড় হাজার

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এক দিনে ডেঙ্গুতে নয়জনের মৃত্যু এবং নতুন করে এক হাজার ৫৭১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। চলতি বছরে এক দিনে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও আক্রান্তের দিক থেকে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যা।

ঢাকাসহ পাঁচ এলাকায় মৃত্যু

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া নয়জনের মধ্যে তিনজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার। খুলনা ও ঢাকা বিভাগের দুজন করে এবং বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের একজন করে মারা গেছেন।

নতুন নয়জনের মৃত্যু এবং এক হাজার ৫৭১ জন আক্রান্ত হওয়ার পর চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩০ জনে। একই সময়ে এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সরকারি হিসাবে মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার ৪৭৫ জনে।

তিন মাসের বিশেষ সচেতনতামূলক কর্মসূচি

ডেঙ্গুতে বছরের সর্বোচ্চ মৃত্যু, হাসপাতালে দেড় হাজারের বেশি

দেশে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি যখন ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে, তখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী শনিবার দেশব্যাপী তিন মাসের একটি বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে এই কর্মসূচি পরিচালিত হবে। মশাবাহিত এই রোগের বিস্তার ঠেকাতে মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

গতকাল সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর এই বিশেষ কর্মসূচি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

শুধু সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু ঠেকানো সম্ভব নয়

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের দায়িত্ব শুধু সরকারি সংস্থা কিংবা মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং শিক্ষার্থীদের সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে যুক্ত করার নির্দেশ দেন।

মহানগরে সিটি করপোরেশন, জেলায় জেলা প্রশাসন

বিশেষ এই কর্মসূচির আওতায় মহানগর এলাকায় কার্যক্রম সমন্বয় করবে সিটি করপোরেশন। জেলা পর্যায়ে কর্মসূচির তদারকি করবেন জেলা প্রশাসকরা। আর উপজেলা পর্যায়ের কার্যক্রম সমন্বয় করবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবক, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর, রোভার স্কাউট ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্যরা এই কার্যক্রমে অংশ নেবেন। পাশাপাশি স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদেরও কর্মসূচিতে যুক্ত করা হবে।

ডেঙ্গুতে এবার একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, বাড়ছে আক্রান্তও

প্রতি শনিবার বাড়ি বাড়ি পরিচ্ছন্নতা অভিযান

কর্মসূচির আওতায় প্রতি শনিবার স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা বাড়ি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যাবেন। সেখানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করা হবে।

বাড়িঘর ও আশপাশে কোথাও পানি জমে আছে কি না, যেখানে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের নিজেদের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে উৎসাহিত করা হবে।

গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের নির্দেশ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানোরও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেতে হবে। বৈঠকে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেগুলো যেন শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়—এ বিষয়েও তিনি জোর দেন।

প্রধানমন্ত্রী মানুষকে নিজেদের বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে এখনই সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি

এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও আক্রান্তের ঘটনা ডেঙ্গু পরিস্থিতির ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ অবস্থায় শুধু মশা নিধন নয়, বাড়িঘর ও আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মানুষের মধ্যে নিয়মিত সচেতনতা তৈরির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবক এবং সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করার ওপরই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুও বাজারে এলো ভারত ও চীনে

ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, আক্রান্তও ছাড়াল দেড় হাজার

০২:২৪:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এক দিনে ডেঙ্গুতে নয়জনের মৃত্যু এবং নতুন করে এক হাজার ৫৭১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। চলতি বছরে এক দিনে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও আক্রান্তের দিক থেকে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যা।

ঢাকাসহ পাঁচ এলাকায় মৃত্যু

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া নয়জনের মধ্যে তিনজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার। খুলনা ও ঢাকা বিভাগের দুজন করে এবং বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের একজন করে মারা গেছেন।

নতুন নয়জনের মৃত্যু এবং এক হাজার ৫৭১ জন আক্রান্ত হওয়ার পর চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩০ জনে। একই সময়ে এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সরকারি হিসাবে মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার ৪৭৫ জনে।

তিন মাসের বিশেষ সচেতনতামূলক কর্মসূচি

ডেঙ্গুতে বছরের সর্বোচ্চ মৃত্যু, হাসপাতালে দেড় হাজারের বেশি

দেশে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি যখন ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে, তখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী শনিবার দেশব্যাপী তিন মাসের একটি বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে এই কর্মসূচি পরিচালিত হবে। মশাবাহিত এই রোগের বিস্তার ঠেকাতে মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

গতকাল সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর এই বিশেষ কর্মসূচি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

শুধু সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু ঠেকানো সম্ভব নয়

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের দায়িত্ব শুধু সরকারি সংস্থা কিংবা মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং শিক্ষার্থীদের সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে যুক্ত করার নির্দেশ দেন।

মহানগরে সিটি করপোরেশন, জেলায় জেলা প্রশাসন

বিশেষ এই কর্মসূচির আওতায় মহানগর এলাকায় কার্যক্রম সমন্বয় করবে সিটি করপোরেশন। জেলা পর্যায়ে কর্মসূচির তদারকি করবেন জেলা প্রশাসকরা। আর উপজেলা পর্যায়ের কার্যক্রম সমন্বয় করবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবক, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর, রোভার স্কাউট ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্যরা এই কার্যক্রমে অংশ নেবেন। পাশাপাশি স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদেরও কর্মসূচিতে যুক্ত করা হবে।

ডেঙ্গুতে এবার একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, বাড়ছে আক্রান্তও

প্রতি শনিবার বাড়ি বাড়ি পরিচ্ছন্নতা অভিযান

কর্মসূচির আওতায় প্রতি শনিবার স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা বাড়ি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যাবেন। সেখানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করা হবে।

বাড়িঘর ও আশপাশে কোথাও পানি জমে আছে কি না, যেখানে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের নিজেদের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে উৎসাহিত করা হবে।

গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের নির্দেশ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানোরও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেতে হবে। বৈঠকে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেগুলো যেন শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়—এ বিষয়েও তিনি জোর দেন।

প্রধানমন্ত্রী মানুষকে নিজেদের বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে এখনই সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি

এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও আক্রান্তের ঘটনা ডেঙ্গু পরিস্থিতির ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ অবস্থায় শুধু মশা নিধন নয়, বাড়িঘর ও আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মানুষের মধ্যে নিয়মিত সচেতনতা তৈরির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবক এবং সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করার ওপরই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।