০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ড্রোন যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা: রাশিয়ার কৌশল শিখে ইরানের প্রস্তুতি, বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধচিত্র

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কৌশলে দ্রুত পরিবর্তন আসছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট হয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শেখা ড্রোন প্রযুক্তি এখন ইরানের সামরিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। এর ফলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র যদি সরাসরি সামরিক অভিযান চালায়, তবে তাদের জন্য পরিস্থিতি হতে পারে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও জটিল।

নতুন ধরনের যুদ্ধক্ষেত্রের ইঙ্গিত

ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ফাইবার-অপটিক নিয়ন্ত্রিত ড্রোন ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হচ্ছে। এই ধরনের ড্রোনে প্রচলিত ইলেকট্রনিক জ্যামিং কার্যত অকার্যকর, যা যুদ্ধক্ষেত্রে বড় ধরনের কৌশলগত সুবিধা দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তি ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখন তা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে, যেখানে আকাশ থেকে ছোট ড্রোনই হয়ে উঠছে প্রধান আক্রমণ অস্ত্র।

Thousands More US Troops Deploying to Middle East in Response to Iranian  Threats | Military.com

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাড়তি ঝুঁকি

যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে তারা স্থল ও নৌ অভিযান বিবেচনা করছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযান হলে মার্কিন বাহিনীকে এমন এক যুদ্ধক্ষেত্রে নামতে হবে, যেখানে ড্রোনই প্রধান হুমকি।

এ ধরনের ড্রোন হামলায় সামরিক ঘাঁটি, হেলিকপ্টার এমনকি রাডার ব্যবস্থাও সহজে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই নতুন ধরনের ড্রোন মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।

রাশিয়া-ইরান সহযোগিতার প্রভাব

রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক প্রযুক্তি বিনিময় এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অর্জিত অভিজ্ঞতা ইরান দ্রুত আত্মস্থ করছে এবং নিজেদের কৌশলে তা প্রয়োগ করছে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এই সহযোগিতা শুধু প্রযুক্তিগত নয়, বরং যুদ্ধের ধারণা ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতেও বড় পরিবর্তন আনছে। ফলে ভবিষ্যতের যুদ্ধে ইরান আরও প্রস্তুত প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়াতে পারে।

Why is the Strait of Hormuz critical to Europe?

সমুদ্রপথেও নতুন হুমকি

শুধু আকাশে নয়, সমুদ্রেও ড্রোনের ব্যবহার বাড়ছে। ইউক্রেন যেমন নৌ ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার নৌবহরকে বড় ক্ষতির মুখে ফেলেছে, তেমনি ইরানও এই প্রযুক্তি উন্নত করার চেষ্টা করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীর মতো সংকীর্ণ জলপথে এই ড্রোন অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে, যা যুদ্ধজাহাজ ও তেলবাহী জাহাজের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখনও এই নতুন ধরনের যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। যদিও তারা ড্রোন ব্যবহারে প্রশিক্ষণ শুরু করেছে, তবে তা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

ফলে প্রশ্ন উঠছে, ভবিষ্যতের ড্রোননির্ভর যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কতটা দ্রুত নিজেদের কৌশল বদলাতে পারবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ড্রোন যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা: রাশিয়ার কৌশল শিখে ইরানের প্রস্তুতি, বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধচিত্র

১১:৪৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কৌশলে দ্রুত পরিবর্তন আসছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট হয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শেখা ড্রোন প্রযুক্তি এখন ইরানের সামরিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। এর ফলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র যদি সরাসরি সামরিক অভিযান চালায়, তবে তাদের জন্য পরিস্থিতি হতে পারে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও জটিল।

নতুন ধরনের যুদ্ধক্ষেত্রের ইঙ্গিত

ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ফাইবার-অপটিক নিয়ন্ত্রিত ড্রোন ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হচ্ছে। এই ধরনের ড্রোনে প্রচলিত ইলেকট্রনিক জ্যামিং কার্যত অকার্যকর, যা যুদ্ধক্ষেত্রে বড় ধরনের কৌশলগত সুবিধা দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তি ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখন তা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে, যেখানে আকাশ থেকে ছোট ড্রোনই হয়ে উঠছে প্রধান আক্রমণ অস্ত্র।

Thousands More US Troops Deploying to Middle East in Response to Iranian  Threats | Military.com

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাড়তি ঝুঁকি

যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে তারা স্থল ও নৌ অভিযান বিবেচনা করছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযান হলে মার্কিন বাহিনীকে এমন এক যুদ্ধক্ষেত্রে নামতে হবে, যেখানে ড্রোনই প্রধান হুমকি।

এ ধরনের ড্রোন হামলায় সামরিক ঘাঁটি, হেলিকপ্টার এমনকি রাডার ব্যবস্থাও সহজে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই নতুন ধরনের ড্রোন মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।

রাশিয়া-ইরান সহযোগিতার প্রভাব

রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক প্রযুক্তি বিনিময় এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অর্জিত অভিজ্ঞতা ইরান দ্রুত আত্মস্থ করছে এবং নিজেদের কৌশলে তা প্রয়োগ করছে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এই সহযোগিতা শুধু প্রযুক্তিগত নয়, বরং যুদ্ধের ধারণা ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতেও বড় পরিবর্তন আনছে। ফলে ভবিষ্যতের যুদ্ধে ইরান আরও প্রস্তুত প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়াতে পারে।

Why is the Strait of Hormuz critical to Europe?

সমুদ্রপথেও নতুন হুমকি

শুধু আকাশে নয়, সমুদ্রেও ড্রোনের ব্যবহার বাড়ছে। ইউক্রেন যেমন নৌ ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার নৌবহরকে বড় ক্ষতির মুখে ফেলেছে, তেমনি ইরানও এই প্রযুক্তি উন্নত করার চেষ্টা করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীর মতো সংকীর্ণ জলপথে এই ড্রোন অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে, যা যুদ্ধজাহাজ ও তেলবাহী জাহাজের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখনও এই নতুন ধরনের যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। যদিও তারা ড্রোন ব্যবহারে প্রশিক্ষণ শুরু করেছে, তবে তা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

ফলে প্রশ্ন উঠছে, ভবিষ্যতের ড্রোননির্ভর যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কতটা দ্রুত নিজেদের কৌশল বদলাতে পারবে।