০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন বার্তা, সেপ্টেম্বরে তারেক রহমানের দিল্লি সফরে খুলছে সম্ভাবনার দুয়ার

দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে ফের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ শুরু হয়েছে। গত কয়েক দিনে নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক বৈঠক এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এরই মধ্যে সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস আউটরিচ সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।

সম্পর্ক পুনর্গঠনে ‘অনুকূল পরিবেশ’ চান তারেক রহমান

১০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এটিই তার প্রথম প্রকাশ্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির আহ্বান জানানো হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে নভেম্বরে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার প্রত্যর্পণের অনুরোধ ভারত আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় পরীক্ষা করছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

হাসিনা ইস্যুতে ঢাকার অবস্থান

ঢাকা–দিল্লি সম্পর্ক: ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর না যাওয়া প্রায়  নিশ্চিত | প্রথম আলো

কিছু সূত্রের দাবি, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ  নেতা শেখ হাসিনা ভারতে বিশেষ মর্যাদায় অবস্থান করছেন। এ কারণে বিষয়টি ঢাকা ও দিল্লির কাছে সাধারণ বা রুটিন দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়। এটি রাজনৈতিক আস্থা, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ,  গত দুই বছরের অনেক রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক কর্মকান্ড’র সঠিক বিচার করে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও প্রকৃত রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

সম্প্রতি ভারত থেকে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য ও অনলাইন কার্যক্রম নিয়েও বাংলাদেশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ফলে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগের পাশাপাশি প্রত্যর্পণ ও ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি ঢাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হয়ে রয়েছে।

ভারতের নতুন হাইকমিশনারের ইতিবাচক বার্তা

এর আগে ২৯ ও ৩০ জুলাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ।

বৈঠকের পর ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতে স্বাগত জানানোর বিষয়ে ভারতের আগ্রহ স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, ভারতীয় পক্ষ প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর জন্য অপেক্ষা করছে এবং আশা করছে সফরটি শিগগিরই হবে। তার বক্তব্য, সব সমস্যার সমাধান সম্ভব এবং প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গেলে দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো গঠনমূলকভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

তিস্তা ও গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়েও তিনি ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানান। পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের সক্রিয় ওয়ার্কিং গ্রুপগুলো এসব বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে।

সেপ্টেম্বরে ব্রিকস আউটরিচে দিল্লি সফর

আগামী সপ্তাহে ইরান থেকে বাংলাদেশিদের প্রথম দল দেশে ফিরবে: পররাষ্ট্র  মন্ত্রণালয় | শিরোনাম | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ারম্যান বাংলাদেশ। ২০২৭ সালে ঢাকায় বিমসটেক সম্মেলন আয়োজনের প্রেক্ষাপটেও এই আমন্ত্রণকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর বাইরে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, সেই সফরের সম্ভাবনাও রয়েছে এবং চীন সফরের পর তা হতে পারে।

পানি, বাণিজ্য ও জ্বালানিতে নজর

সম্ভাব্য দিল্লি সফরে প্রত্যর্পণ, পানি বণ্টন, জ্বালানি, বাণিজ্য সহজীকরণ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং বিমসটেক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য জ্বালানি, সার ও অন্যান্য অর্থনৈতিক সহযোগিতায় অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বাণিজ্য ও মানুষের যাতায়াত সহজ করা এবং তিস্তা ও গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে কার্যকর আলোচনা ঢাকার অন্যতম অগ্রাধিকার।

অন্যদিকে ভারতের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক পুনর্গঠন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির ক্ষেত্রেও স্থিতিশীল বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে।

সংকটে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক

সম্পর্কের সামনে বড় পরীক্ষা

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে এখনো বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে। বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ ও পানিবণ্টনের মতো বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি চায়। ভারত চাইছে বৃহত্তর সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো সচল করতে এবং সম্পর্ককে ধীরে ধীরে কার্যকর ধারায় ফিরিয়ে আনতে।

দীনেশ ত্রিবেদীর ‘কোনো সমস্যাই সমাধানের বাইরে নয়’—এই বার্তা থেকে বোঝা যায়, বড় কোনো চূড়ান্ত চুক্তির পরিবর্তে ওয়ার্কিং গ্রুপ ও কারিগরি পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়ার পথেই গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।

সেপ্টেম্বরের ব্রিকস আউটরিচ হতে পারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম দিল্লি-ভিত্তিক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। সেখানে তিস্তা বা বাণিজ্য নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তির চেয়ে আলোচনা পুনরায় সক্রিয় করার উদ্যোগ বেশি সম্ভাব্য। পরে পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় সফর হলে বড় সমঝোতার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

দুই দেশ যদি পারস্পরিক স্বার্থ ও জনগণকেন্দ্রিক সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দিতে পারে, তবে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলো বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি কার্যকর নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন বার্তা, সেপ্টেম্বরে তারেক রহমানের দিল্লি সফরে খুলছে সম্ভাবনার দুয়ার

১২:৩৬:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে ফের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ শুরু হয়েছে। গত কয়েক দিনে নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক বৈঠক এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এরই মধ্যে সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস আউটরিচ সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।

সম্পর্ক পুনর্গঠনে ‘অনুকূল পরিবেশ’ চান তারেক রহমান

১০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এটিই তার প্রথম প্রকাশ্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির আহ্বান জানানো হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে নভেম্বরে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার প্রত্যর্পণের অনুরোধ ভারত আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় পরীক্ষা করছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

হাসিনা ইস্যুতে ঢাকার অবস্থান

ঢাকা–দিল্লি সম্পর্ক: ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর না যাওয়া প্রায়  নিশ্চিত | প্রথম আলো

কিছু সূত্রের দাবি, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ  নেতা শেখ হাসিনা ভারতে বিশেষ মর্যাদায় অবস্থান করছেন। এ কারণে বিষয়টি ঢাকা ও দিল্লির কাছে সাধারণ বা রুটিন দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়। এটি রাজনৈতিক আস্থা, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ,  গত দুই বছরের অনেক রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক কর্মকান্ড’র সঠিক বিচার করে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও প্রকৃত রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

সম্প্রতি ভারত থেকে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য ও অনলাইন কার্যক্রম নিয়েও বাংলাদেশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ফলে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগের পাশাপাশি প্রত্যর্পণ ও ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি ঢাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হয়ে রয়েছে।

ভারতের নতুন হাইকমিশনারের ইতিবাচক বার্তা

এর আগে ২৯ ও ৩০ জুলাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ।

বৈঠকের পর ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতে স্বাগত জানানোর বিষয়ে ভারতের আগ্রহ স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, ভারতীয় পক্ষ প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর জন্য অপেক্ষা করছে এবং আশা করছে সফরটি শিগগিরই হবে। তার বক্তব্য, সব সমস্যার সমাধান সম্ভব এবং প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গেলে দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো গঠনমূলকভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

তিস্তা ও গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়েও তিনি ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানান। পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের সক্রিয় ওয়ার্কিং গ্রুপগুলো এসব বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে।

সেপ্টেম্বরে ব্রিকস আউটরিচে দিল্লি সফর

আগামী সপ্তাহে ইরান থেকে বাংলাদেশিদের প্রথম দল দেশে ফিরবে: পররাষ্ট্র  মন্ত্রণালয় | শিরোনাম | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ারম্যান বাংলাদেশ। ২০২৭ সালে ঢাকায় বিমসটেক সম্মেলন আয়োজনের প্রেক্ষাপটেও এই আমন্ত্রণকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর বাইরে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, সেই সফরের সম্ভাবনাও রয়েছে এবং চীন সফরের পর তা হতে পারে।

পানি, বাণিজ্য ও জ্বালানিতে নজর

সম্ভাব্য দিল্লি সফরে প্রত্যর্পণ, পানি বণ্টন, জ্বালানি, বাণিজ্য সহজীকরণ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং বিমসটেক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য জ্বালানি, সার ও অন্যান্য অর্থনৈতিক সহযোগিতায় অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বাণিজ্য ও মানুষের যাতায়াত সহজ করা এবং তিস্তা ও গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে কার্যকর আলোচনা ঢাকার অন্যতম অগ্রাধিকার।

অন্যদিকে ভারতের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক পুনর্গঠন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির ক্ষেত্রেও স্থিতিশীল বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে।

সংকটে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক

সম্পর্কের সামনে বড় পরীক্ষা

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে এখনো বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে। বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ ও পানিবণ্টনের মতো বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি চায়। ভারত চাইছে বৃহত্তর সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো সচল করতে এবং সম্পর্ককে ধীরে ধীরে কার্যকর ধারায় ফিরিয়ে আনতে।

দীনেশ ত্রিবেদীর ‘কোনো সমস্যাই সমাধানের বাইরে নয়’—এই বার্তা থেকে বোঝা যায়, বড় কোনো চূড়ান্ত চুক্তির পরিবর্তে ওয়ার্কিং গ্রুপ ও কারিগরি পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়ার পথেই গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।

সেপ্টেম্বরের ব্রিকস আউটরিচ হতে পারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম দিল্লি-ভিত্তিক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। সেখানে তিস্তা বা বাণিজ্য নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তির চেয়ে আলোচনা পুনরায় সক্রিয় করার উদ্যোগ বেশি সম্ভাব্য। পরে পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় সফর হলে বড় সমঝোতার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

দুই দেশ যদি পারস্পরিক স্বার্থ ও জনগণকেন্দ্রিক সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দিতে পারে, তবে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলো বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি কার্যকর নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।