০১:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাপান-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হস্তক্ষেপে ঘুরে দাঁড়াল ইয়েন, আরও পদক্ষেপের ইঙ্গিত সিন্ধু পানি চুক্তি: ছয় দশক পর বদলে যাওয়া বাস্তবতায় নতুন হিসাবের সময় ভাঁজযোগ্য আইফোনের উৎপাদন দিনে মাত্র কয়েকশ, বাজারে সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা ট্রাম্পের নতুন দাবি: ইউক্রেনকে দেওয়া শত শত বিলিয়ন ডলার ইউরোপের কাছ থেকে ফেরত চান রাশিয়ার নাশকতায় ইউরোপে বাড়ছে সংঘাতের ঝুঁকি, চাপে ন্যাটো ছয় মাসের যুদ্ধে আরও আত্মবিশ্বাসী ইরান, বাড়তে পারে সংঘাত পেন্টাগনে ফাঁস ঠেকাতে ৫০ কর্মকর্তার পলিগ্রাফ পরীক্ষা, ইরান যুদ্ধের তথ্য ঘিরে নজিরবিহীন তদন্ত যে ‘ইয়েনটাউন’ একদিন ছিল ভবিষ্যৎ, ৩০ বছর পর ৪কে-তে ফিরছে ‘Swallowtail Butterfly’ পাকিস্তানে বিদ্যুতের দাম বাড়ল ইউনিটে ২.৫৮ রুপি, গ্রাহকের ওপর বাড়তি চাপ ৪৫.৬৭ বিলিয়ন রুপি পরমাণু ‘লিজ’ ছড়িয়ে পড়ছে, বদলে যেতে পারে বৈশ্বিক নিরাপত্তার চিত্র

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কিছুটা স্থবির ও বাধাগ্রস্ত ছিল: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক খুব মসৃণ ছিল না এবং কিছু ক্ষেত্রে তা স্থবির হয়ে পড়েছিল বলে স্বীকার করেছেন পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সম্পর্ককে আবারও স্বাভাবিক ও মসৃণ করতে পারবে।

সম্পর্কে ভিন্ন প্রত্যাশা ও স্বার্থের পার্থক্য
বৃহস্পতিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তৌহিদ হোসেন বলেন, শুরু থেকেই অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সঙ্গে একটি কার্যকর ও ইতিবাচক কর্মসম্পর্ক বজায় রাখতে গুরুত্ব দিয়েছে এবং উদ্ভূত সমস্যার জন্য কাউকে দোষারোপ করতে চায়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভারত নিজেদের স্বার্থ বিবেচনায় যেমনভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে, বাংলাদেশও তেমনি নিজেদের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দুই পক্ষের প্রত্যাশা একে অপরের সঙ্গে মেলেনি।
তিনি আরও বলেন, উভয় দেশের স্বার্থ উপলব্ধির দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য থাকায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি সম্ভব হয়নি।

অন্তর্বর্তী সময়জুড়ে টানাপোড়েন
আগের সরকারের সময় যে সম্পর্ককে ‘সোনালি অধ্যায়’ বলা হতো, অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময়জুড়েই তা টানাপোড়েনের মধ্যে ছিল। বিভিন্ন ইস্যুর কারণে সম্পর্ক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি। এমনকি অন্তর্বর্তী প্রশাসনের শেষ পর্যায়ে ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ও বৃহত্তর কূটনৈতিক অস্বস্তির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তী সরকারের প্রতি আশাবাদ
বিদায়ী পর্যায়ের এই মতবিনিময়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, পরবর্তী নির্বাচিত সরকার অচলাবস্থা কাটিয়ে সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার পথ খুঁজে পাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তাঁর উত্তরসূরি ও নতুন সরকারের সময়ে আবারও একটি মসৃণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, যেকোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কেই কিছু সমস্যা ও স্বার্থসংঘাত থাকে। তবু একটি স্থিতিশীল ও স্বাভাবিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সম্পর্ক পুরোপুরি মসৃণ ছিল না এবং কয়েকটি ধাক্কার কারণে তা আংশিকভাবে স্থবির হয়ে পড়ে।

শেখ হাসিনার অবস্থান ও প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করায় সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, হতাশ হওয়ার সুযোগ নেই; বরং আশাবাদী হতে হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, শেষ পর্যন্ত একটি সমাধানের পথ বের হবে।
ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যা করা হয়েছে, সেটুকুই বলা যায়। বাংলাদেশ তাঁর প্রত্যাবর্তন চেয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো জবাব পায়নি। এর বেশি নিয়ে অনুমান করা সমীচীন নয়।

সুসম্পর্কের চেষ্টা অব্যাহত ছিল
তৌহিদ হোসেন জোর দিয়ে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ধারাবাহিকভাবে ভারতের সঙ্গে ভালো কর্মসম্পর্ক গড়ে তুলতে চেয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে সরকারের উদ্দেশ্যে কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না; পারস্পরিক বোঝাপড়া ও পারস্পরিকতার ভিত্তিতে একটি ইতিবাচক সম্পর্কই লক্ষ্য ছিল।
তবে প্রত্যাশিত মাত্রায় সম্পর্ক এগিয়েছে কি না—এ প্রশ্নে তিনি নিশ্চিতভাবে সাফল্যের দাবি করেননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বড় ধরনের সংকট না থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্ক স্থবির অবস্থায় রয়েছে।

পরবর্তী সরকারের জন্য বোঝা নয়
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য কোনো বোঝা রেখে যাচ্ছে না। বরং বিভিন্ন ইস্যু এগিয়ে নিয়ে গিয়ে নতুন প্রশাসনের কাজ সহজ করার চেষ্টা করছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য শুল্কচুক্তির কথা উল্লেখ করেন এবং জানান, কিছু চুক্তি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল।

গণমাধ্যমে হামলার নিন্দা
দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলার ঘটনাকে তিনি অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানান। তিনি স্বীকার করেন, সরকার এসব ঘটনা প্রতিরোধ করতে পারেনি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় করতে পারবে বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ পেয়েছে। ১৮ ডিসেম্বরের সহিংসতা ও গণমাধ্যমে হামলার প্রসঙ্গে তিনি বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে উত্থাপনের পরামর্শ দেন।
মতবিনিময় সভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপান-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হস্তক্ষেপে ঘুরে দাঁড়াল ইয়েন, আরও পদক্ষেপের ইঙ্গিত

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কিছুটা স্থবির ও বাধাগ্রস্ত ছিল: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

০৯:৪৮:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক খুব মসৃণ ছিল না এবং কিছু ক্ষেত্রে তা স্থবির হয়ে পড়েছিল বলে স্বীকার করেছেন পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সম্পর্ককে আবারও স্বাভাবিক ও মসৃণ করতে পারবে।

সম্পর্কে ভিন্ন প্রত্যাশা ও স্বার্থের পার্থক্য
বৃহস্পতিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তৌহিদ হোসেন বলেন, শুরু থেকেই অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সঙ্গে একটি কার্যকর ও ইতিবাচক কর্মসম্পর্ক বজায় রাখতে গুরুত্ব দিয়েছে এবং উদ্ভূত সমস্যার জন্য কাউকে দোষারোপ করতে চায়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভারত নিজেদের স্বার্থ বিবেচনায় যেমনভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে, বাংলাদেশও তেমনি নিজেদের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দুই পক্ষের প্রত্যাশা একে অপরের সঙ্গে মেলেনি।
তিনি আরও বলেন, উভয় দেশের স্বার্থ উপলব্ধির দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য থাকায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি সম্ভব হয়নি।

অন্তর্বর্তী সময়জুড়ে টানাপোড়েন
আগের সরকারের সময় যে সম্পর্ককে ‘সোনালি অধ্যায়’ বলা হতো, অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময়জুড়েই তা টানাপোড়েনের মধ্যে ছিল। বিভিন্ন ইস্যুর কারণে সম্পর্ক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি। এমনকি অন্তর্বর্তী প্রশাসনের শেষ পর্যায়ে ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ও বৃহত্তর কূটনৈতিক অস্বস্তির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তী সরকারের প্রতি আশাবাদ
বিদায়ী পর্যায়ের এই মতবিনিময়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, পরবর্তী নির্বাচিত সরকার অচলাবস্থা কাটিয়ে সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার পথ খুঁজে পাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তাঁর উত্তরসূরি ও নতুন সরকারের সময়ে আবারও একটি মসৃণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, যেকোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কেই কিছু সমস্যা ও স্বার্থসংঘাত থাকে। তবু একটি স্থিতিশীল ও স্বাভাবিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সম্পর্ক পুরোপুরি মসৃণ ছিল না এবং কয়েকটি ধাক্কার কারণে তা আংশিকভাবে স্থবির হয়ে পড়ে।

শেখ হাসিনার অবস্থান ও প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করায় সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, হতাশ হওয়ার সুযোগ নেই; বরং আশাবাদী হতে হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, শেষ পর্যন্ত একটি সমাধানের পথ বের হবে।
ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যা করা হয়েছে, সেটুকুই বলা যায়। বাংলাদেশ তাঁর প্রত্যাবর্তন চেয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো জবাব পায়নি। এর বেশি নিয়ে অনুমান করা সমীচীন নয়।

সুসম্পর্কের চেষ্টা অব্যাহত ছিল
তৌহিদ হোসেন জোর দিয়ে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ধারাবাহিকভাবে ভারতের সঙ্গে ভালো কর্মসম্পর্ক গড়ে তুলতে চেয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে সরকারের উদ্দেশ্যে কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না; পারস্পরিক বোঝাপড়া ও পারস্পরিকতার ভিত্তিতে একটি ইতিবাচক সম্পর্কই লক্ষ্য ছিল।
তবে প্রত্যাশিত মাত্রায় সম্পর্ক এগিয়েছে কি না—এ প্রশ্নে তিনি নিশ্চিতভাবে সাফল্যের দাবি করেননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বড় ধরনের সংকট না থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্ক স্থবির অবস্থায় রয়েছে।

পরবর্তী সরকারের জন্য বোঝা নয়
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য কোনো বোঝা রেখে যাচ্ছে না। বরং বিভিন্ন ইস্যু এগিয়ে নিয়ে গিয়ে নতুন প্রশাসনের কাজ সহজ করার চেষ্টা করছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য শুল্কচুক্তির কথা উল্লেখ করেন এবং জানান, কিছু চুক্তি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল।

গণমাধ্যমে হামলার নিন্দা
দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলার ঘটনাকে তিনি অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানান। তিনি স্বীকার করেন, সরকার এসব ঘটনা প্রতিরোধ করতে পারেনি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় করতে পারবে বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ পেয়েছে। ১৮ ডিসেম্বরের সহিংসতা ও গণমাধ্যমে হামলার প্রসঙ্গে তিনি বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে উত্থাপনের পরামর্শ দেন।
মতবিনিময় সভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।