০২:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

তরুণদের কোলন ক্যান্সার বাড়ছে কেন: নতুন গবেষণা রিপোর্ট

  • Sarakhon Report
  • ১০:০০:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫
  • 223

সারাক্ষণ রিপোর্ট

বিশ্বজুড়ে ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে অন্ত্রের ক্যান্সার বা কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের হার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সম্প্রতি ‘নেচার’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে এই বৃদ্ধির এক গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য কারণ—শৈশবে অন্ত্রে একটি বিশেষ প্রজাতির ই. কোলি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ

গবেষণার মূল তথ্য

এই গবেষণায় ১১টি দেশের ৯৮১ জন ক্যান্সার রোগীর টিউমারের জেনেটিক তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। দেখা যায়, যারা ৪০ বছরের নিচে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের অর্ধেকেরও বেশি টিউমারে কোলিব্যাকটিন নামের একটি বিষাক্ত মিউটেশনের চিহ্ন ছিল। কোলিব্যাকটিন হচ্ছে একটি বিষ, যা Escherichia coli (ই. কোলি)-এর নির্দিষ্ট কিছু প্রজাতি তৈরি করে।

এই মিউটেশনগুলো ক্যান্সার সৃষ্টিকারী জিনে প্রথম ১০ বছরের মধ্যেই ক্ষতি করতে শুরু করে, অর্থাৎ এই সংক্রমণ শিশুকালেই ঘটছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

কোন দেশে বেশি ঝুঁকি?

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব দেশে অকাল ক্যান্সারের হার বেশি, সেসব দেশের শিশুদের মলের নমুনায় কোলিব্যাকটিন উৎপাদনকারী ই. কোলি ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক বেশি। গবেষকরা ধারণা করছেন, সিজারিয়ান ডেলিভারির উচ্চ হার, অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং কিছু প্রোবায়োটিক পণ্যের মাধ্যমে এসব ব্যাকটেরিয়া শিশুদের অন্ত্রে বাসা বাঁধছে।

খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব

আরও কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ফাইবার কম এবং রেড মিট ও চিনি বেশি এমন পশ্চিমা ধাঁচের খাদ্যাভ্যাস কোলিব্যাকটিন বহনকারী ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার ঘটাতে পারে। এমন খাদ্য অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে দুর্বল করে দেয়, ফলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের রক্ষা-প্রাচীর ভেঙে দিয়ে কোষে প্রবেশ করে ক্ষতি করে।

প্রতিরোধ ও চিকিৎসার সম্ভাবনা

গবেষকরা বলছেন, এই মিউটেশনগুলো শনাক্ত করার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের আগেভাগেই চিহ্নিত করা যেতে পারে। এ লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মল পরীক্ষার মাধ্যমে কোলিব্যাকটিন-সৃষ্ট মিউটেশন শনাক্তের একটি টেস্ট চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়াও, ভবিষ্যতে সম্ভাব্য চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে:

  • ই. কোলির বিষক্রিয়া রোধে ওষুধ,
  • উপকারী ব্যাকটেরিয়ার আধিক্য বাড়াতে কার্যকর প্রোবায়োটিক,
  • বিশেষ ভাইরাস (ফেজ) ব্যবহার করে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস।

তবে এসব গবেষণা এখনো ল্যাব পর্যায়ে এবং মানুষের ওপর প্রয়োগের জন্য আরও সময় ও গবেষণা প্রয়োজন।

উপসংহার

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল অকাল অন্ত্র ক্যান্সার নিয়ে বৈজ্ঞানিক বোঝাপড়ায় বড় ধরনের অগ্রগতি। সময়মতো শনাক্তকরণ, সচেতনতা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলে ভবিষ্যতে এই বিপজ্জনক প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

তরুণদের কোলন ক্যান্সার বাড়ছে কেন: নতুন গবেষণা রিপোর্ট

১০:০০:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫

সারাক্ষণ রিপোর্ট

বিশ্বজুড়ে ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে অন্ত্রের ক্যান্সার বা কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের হার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সম্প্রতি ‘নেচার’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে এই বৃদ্ধির এক গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য কারণ—শৈশবে অন্ত্রে একটি বিশেষ প্রজাতির ই. কোলি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ

গবেষণার মূল তথ্য

এই গবেষণায় ১১টি দেশের ৯৮১ জন ক্যান্সার রোগীর টিউমারের জেনেটিক তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। দেখা যায়, যারা ৪০ বছরের নিচে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের অর্ধেকেরও বেশি টিউমারে কোলিব্যাকটিন নামের একটি বিষাক্ত মিউটেশনের চিহ্ন ছিল। কোলিব্যাকটিন হচ্ছে একটি বিষ, যা Escherichia coli (ই. কোলি)-এর নির্দিষ্ট কিছু প্রজাতি তৈরি করে।

এই মিউটেশনগুলো ক্যান্সার সৃষ্টিকারী জিনে প্রথম ১০ বছরের মধ্যেই ক্ষতি করতে শুরু করে, অর্থাৎ এই সংক্রমণ শিশুকালেই ঘটছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

কোন দেশে বেশি ঝুঁকি?

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব দেশে অকাল ক্যান্সারের হার বেশি, সেসব দেশের শিশুদের মলের নমুনায় কোলিব্যাকটিন উৎপাদনকারী ই. কোলি ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক বেশি। গবেষকরা ধারণা করছেন, সিজারিয়ান ডেলিভারির উচ্চ হার, অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং কিছু প্রোবায়োটিক পণ্যের মাধ্যমে এসব ব্যাকটেরিয়া শিশুদের অন্ত্রে বাসা বাঁধছে।

খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব

আরও কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ফাইবার কম এবং রেড মিট ও চিনি বেশি এমন পশ্চিমা ধাঁচের খাদ্যাভ্যাস কোলিব্যাকটিন বহনকারী ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার ঘটাতে পারে। এমন খাদ্য অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে দুর্বল করে দেয়, ফলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের রক্ষা-প্রাচীর ভেঙে দিয়ে কোষে প্রবেশ করে ক্ষতি করে।

প্রতিরোধ ও চিকিৎসার সম্ভাবনা

গবেষকরা বলছেন, এই মিউটেশনগুলো শনাক্ত করার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের আগেভাগেই চিহ্নিত করা যেতে পারে। এ লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মল পরীক্ষার মাধ্যমে কোলিব্যাকটিন-সৃষ্ট মিউটেশন শনাক্তের একটি টেস্ট চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়াও, ভবিষ্যতে সম্ভাব্য চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে:

  • ই. কোলির বিষক্রিয়া রোধে ওষুধ,
  • উপকারী ব্যাকটেরিয়ার আধিক্য বাড়াতে কার্যকর প্রোবায়োটিক,
  • বিশেষ ভাইরাস (ফেজ) ব্যবহার করে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস।

তবে এসব গবেষণা এখনো ল্যাব পর্যায়ে এবং মানুষের ওপর প্রয়োগের জন্য আরও সময় ও গবেষণা প্রয়োজন।

উপসংহার

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল অকাল অন্ত্র ক্যান্সার নিয়ে বৈজ্ঞানিক বোঝাপড়ায় বড় ধরনের অগ্রগতি। সময়মতো শনাক্তকরণ, সচেতনতা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলে ভবিষ্যতে এই বিপজ্জনক প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হতে পারে।