০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

তালেবান বিধিনিষেধে কর্মসংস্থান সংকুচিত, ব্যবসার পথে আফগান নারীরা

শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্রমশ সীমিত হয়ে পড়ায় আফগানিস্তানের হাজারো নারী এখন ছোট ব্যবসা ও উদ্যোক্তা কর্মকাণ্ডের দিকে ঝুঁকছেন। আনুষ্ঠানিক চাকরির ক্ষেত্র প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিজেদের ও পরিবারের জীবিকা নির্বাহের জন্য উদ্যোক্তা হওয়াই অনেকের কাছে একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে।

শিক্ষা থেকে প্রায় সম্পূর্ণ বাদ

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফগান নারীদের শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। কয়েক বছর আগেও দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হাজার হাজার নারী শিক্ষার্থী পড়াশোনা করলেও এখন সেই সংখ্যা কার্যত শূন্যে নেমে এসেছে। নতুন ভর্তি, স্নাতক সম্পন্ন করা এবং উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ—সব ক্ষেত্রেই নারীদের উপস্থিতি প্রায় বিলুপ্ত।

শুধু উচ্চশিক্ষাই নয়, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার পথও অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন প্রজন্মের মেয়েদের জন্য ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব দেশের অর্থনীতি, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামাজিক অগ্রগতির ওপর পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ তলানিতে

আফগানিস্তানে নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। কয়েক বছরের ব্যবধানে কর্মজীবী নারীর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অন্যদিকে পুরুষদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।

গণমাধ্যম, শিক্ষা, প্রশাসনসহ বিভিন্ন খাতে কর্মরত বহু নারী চাকরি হারিয়েছেন। ফলে আয় ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সুযোগ সংকুচিত হওয়ায় অনেকেই বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য হয়েছেন।

উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে

শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ কমে যাওয়ার পর নারীদের মালিকানাধীন ব্যবসার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নিবন্ধিত ও অনানুষ্ঠানিক—উভয় ধরনের নারী পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের বিস্তার ঘটেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

বিশেষ করে সেলাই, হস্তশিল্প, কার্পেট বয়ন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ক্ষুদ্র উৎপাদন এবং সেবাভিত্তিক ব্যবসায় নারীদের অংশগ্রহণ বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেক নারী ঘরে বসেই ব্যবসা পরিচালনা করছেন, যা তাদের জন্য সীমিত হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস তৈরি করেছে।

অর্থায়নের সংকট বড় বাধা

তবে ব্যবসা শুরু বা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে নারীরা নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন। অধিকাংশ নারী উদ্যোক্তার প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত নয়। ফলে তারা বাজার সম্প্রসারণ, ব্যাংক ঋণ ও সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

অনেক নারী ব্যবসায়ী ঋণের চাপে থাকলেও খুব কম সংখ্যকই ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে সক্ষম হয়েছেন। ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, সুপারিশপত্র এবং সম্পত্তির কাগজপত্রের মতো শর্ত পূরণ করা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে তারা মূলত পারিবারিক সহায়তা ও ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের ওপর নির্ভর করছেন।

জীবিকার নতুন ভরসা

বর্তমান বাস্তবতায় ছোট ব্যবসা আফগান নারীদের জন্য শুধু আয়ের উৎস নয়, বরং টিকে থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হয়ে উঠেছে। শিক্ষা ও চাকরির দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রমই বহু নারীর অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার শেষ আশ্রয় হিসেবে কাজ করছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে নারীদের প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে শিক্ষা, অর্থায়ন এবং আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানে তাদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় উদ্যোক্তা হওয়ার এই প্রবণতা টিকে থাকলেও নারীদের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন সীমিতই থেকে যাবে।

আফগানিস্তানে শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ সংকুচিত হওয়ায় হাজারো নারী ক্ষুদ্র ব্যবসার দিকে ঝুঁকছেন। তবে অর্থায়ন ও নিবন্ধন সংকট বড় চ্যালেঞ্জ।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

তালেবান বিধিনিষেধে কর্মসংস্থান সংকুচিত, ব্যবসার পথে আফগান নারীরা

০৮:৪৫:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্রমশ সীমিত হয়ে পড়ায় আফগানিস্তানের হাজারো নারী এখন ছোট ব্যবসা ও উদ্যোক্তা কর্মকাণ্ডের দিকে ঝুঁকছেন। আনুষ্ঠানিক চাকরির ক্ষেত্র প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিজেদের ও পরিবারের জীবিকা নির্বাহের জন্য উদ্যোক্তা হওয়াই অনেকের কাছে একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে।

শিক্ষা থেকে প্রায় সম্পূর্ণ বাদ

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফগান নারীদের শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। কয়েক বছর আগেও দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হাজার হাজার নারী শিক্ষার্থী পড়াশোনা করলেও এখন সেই সংখ্যা কার্যত শূন্যে নেমে এসেছে। নতুন ভর্তি, স্নাতক সম্পন্ন করা এবং উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ—সব ক্ষেত্রেই নারীদের উপস্থিতি প্রায় বিলুপ্ত।

শুধু উচ্চশিক্ষাই নয়, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার পথও অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন প্রজন্মের মেয়েদের জন্য ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব দেশের অর্থনীতি, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামাজিক অগ্রগতির ওপর পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ তলানিতে

আফগানিস্তানে নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। কয়েক বছরের ব্যবধানে কর্মজীবী নারীর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অন্যদিকে পুরুষদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।

গণমাধ্যম, শিক্ষা, প্রশাসনসহ বিভিন্ন খাতে কর্মরত বহু নারী চাকরি হারিয়েছেন। ফলে আয় ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সুযোগ সংকুচিত হওয়ায় অনেকেই বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য হয়েছেন।

উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে

শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ কমে যাওয়ার পর নারীদের মালিকানাধীন ব্যবসার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নিবন্ধিত ও অনানুষ্ঠানিক—উভয় ধরনের নারী পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের বিস্তার ঘটেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

বিশেষ করে সেলাই, হস্তশিল্প, কার্পেট বয়ন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ক্ষুদ্র উৎপাদন এবং সেবাভিত্তিক ব্যবসায় নারীদের অংশগ্রহণ বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেক নারী ঘরে বসেই ব্যবসা পরিচালনা করছেন, যা তাদের জন্য সীমিত হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস তৈরি করেছে।

অর্থায়নের সংকট বড় বাধা

তবে ব্যবসা শুরু বা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে নারীরা নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন। অধিকাংশ নারী উদ্যোক্তার প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত নয়। ফলে তারা বাজার সম্প্রসারণ, ব্যাংক ঋণ ও সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

অনেক নারী ব্যবসায়ী ঋণের চাপে থাকলেও খুব কম সংখ্যকই ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে সক্ষম হয়েছেন। ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, সুপারিশপত্র এবং সম্পত্তির কাগজপত্রের মতো শর্ত পূরণ করা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে তারা মূলত পারিবারিক সহায়তা ও ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের ওপর নির্ভর করছেন।

জীবিকার নতুন ভরসা

বর্তমান বাস্তবতায় ছোট ব্যবসা আফগান নারীদের জন্য শুধু আয়ের উৎস নয়, বরং টিকে থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হয়ে উঠেছে। শিক্ষা ও চাকরির দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রমই বহু নারীর অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার শেষ আশ্রয় হিসেবে কাজ করছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে নারীদের প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে শিক্ষা, অর্থায়ন এবং আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানে তাদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় উদ্যোক্তা হওয়ার এই প্রবণতা টিকে থাকলেও নারীদের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন সীমিতই থেকে যাবে।

আফগানিস্তানে শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ সংকুচিত হওয়ায় হাজারো নারী ক্ষুদ্র ব্যবসার দিকে ঝুঁকছেন। তবে অর্থায়ন ও নিবন্ধন সংকট বড় চ্যালেঞ্জ।