০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

তিস্তার ভাঙনে সেতুর সংযোগ সড়ক বিলীন, বছরের পর বছর দুর্ভোগে রংপুরের ৫০ হাজার মানুষ

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বছরের পর বছর চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তিস্তা নদীর ভাঙনে একটি সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক বিলীন হয়ে যাওয়ায় যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশ ও কাঠের অস্থায়ী চলাচলের পথ ব্যবহার করছেন সাধারণ মানুষ।

সেতু আছে, চলাচলের পথ নেই

স্থানীয়দের ভাষ্য, বালাপাড়া ইউনিয়নের গোপীদাঙ্গা মৌলভীবাজার এলাকায় ২০১৪ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর একটি কংক্রিটের সেতু নির্মাণ করে। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই তিস্তার বন্যার পানিতে সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে যায়। এরপর থেকে সেতুটি যানবাহনের জন্য প্রায় অচল হয়ে পড়ে।

সংযোগ সড়ক পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ী চলাচলের ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান ও ঘোড়ার গাড়িসহ হাজারো মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথ ব্যবহার করছেন।

দুর্ঘটনার শঙ্কা বাড়ছে

স্থানীয়দের দাবি, সেতুটি কিছুটা কাত হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিনিয়ত ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান হয়নি। শুধু আশ্বাস মিলেছে, বাস্তব অগ্রগতি দেখা যায়নি।

নতুন সেতুর আশায় এলাকাবাসী

বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য জানান, অন্তত ১০টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল। তাই দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, নতুন সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে এবং সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও শেষ হয়েছে। বর্তমানে নকশা তৈরির কাজ চলছে। দরপত্র অনুমোদনের পরই নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দ্রুত উদ্যোগের অপেক্ষায় মানুষ

দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, নতুন সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মিত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে এবং হাজারো মানুষের কষ্টের অবসান ঘটবে।

রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তার ভাঙনে সেতুর সংযোগ সড়ক বিলীন হওয়ায় ১০ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বছরের পর বছর ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জোরালো।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

তিস্তার ভাঙনে সেতুর সংযোগ সড়ক বিলীন, বছরের পর বছর দুর্ভোগে রংপুরের ৫০ হাজার মানুষ

০৬:০১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বছরের পর বছর চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তিস্তা নদীর ভাঙনে একটি সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক বিলীন হয়ে যাওয়ায় যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশ ও কাঠের অস্থায়ী চলাচলের পথ ব্যবহার করছেন সাধারণ মানুষ।

সেতু আছে, চলাচলের পথ নেই

স্থানীয়দের ভাষ্য, বালাপাড়া ইউনিয়নের গোপীদাঙ্গা মৌলভীবাজার এলাকায় ২০১৪ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর একটি কংক্রিটের সেতু নির্মাণ করে। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই তিস্তার বন্যার পানিতে সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে যায়। এরপর থেকে সেতুটি যানবাহনের জন্য প্রায় অচল হয়ে পড়ে।

সংযোগ সড়ক পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ী চলাচলের ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান ও ঘোড়ার গাড়িসহ হাজারো মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথ ব্যবহার করছেন।

দুর্ঘটনার শঙ্কা বাড়ছে

স্থানীয়দের দাবি, সেতুটি কিছুটা কাত হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিনিয়ত ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান হয়নি। শুধু আশ্বাস মিলেছে, বাস্তব অগ্রগতি দেখা যায়নি।

নতুন সেতুর আশায় এলাকাবাসী

বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য জানান, অন্তত ১০টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল। তাই দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, নতুন সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে এবং সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও শেষ হয়েছে। বর্তমানে নকশা তৈরির কাজ চলছে। দরপত্র অনুমোদনের পরই নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দ্রুত উদ্যোগের অপেক্ষায় মানুষ

দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, নতুন সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মিত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে এবং হাজারো মানুষের কষ্টের অবসান ঘটবে।

রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তার ভাঙনে সেতুর সংযোগ সড়ক বিলীন হওয়ায় ১০ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বছরের পর বছর ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জোরালো।