০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

তেলের বাজারে বিপর্যয়ের ঘণ্টা: হরমুজ সংকটে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ঝুঁকির মুখে

বিশ্ব জ্বালানি বাজার এখন এক গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে পারস্য উপসাগর ঘিরে তেলের সরবরাহে যে ধাক্কা লেগেছে, তা ধীরে ধীরে একটি বড় বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। বাজারে আপাত স্থিতিশীলতা থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট

সরবরাহ কমে যাওয়ার বড় ধাক্কা

সংঘাত শুরুর প্রায় পঞ্চাশ দিনের মাথায় বিশ্ব বাজার থেকে প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ব্যারেল উপসাগরীয় তেল হারিয়ে গেছে, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় ২ শতাংশ। শুধু তেল নয়, তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রেও বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। প্রতি মাসে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে বিশ্ব বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ কমে যাচ্ছে ।

রাশিয়া থেকে ১৫ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহের ঘোষণা ইন্দোনেশিয়ার | আন্তর্জাতিক  | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

মজুত শেষ, সামনে অনিশ্চয়তা

যুদ্ধ শুরুর আগে সমুদ্রপথে থাকা অতিরিক্ত তেলের মজুত এতদিন বাজারকে কিছুটা সুরক্ষা দিয়েছিল। কিন্তু এখন সেই মজুত প্রায় শেষ। নতুন করে সরবরাহ না আসায় বাজারে তেলের প্রাপ্যতা দ্রুত কমছে। এর ফলে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

এশিয়ায় সবচেয়ে বড় চাপ

এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উপসাগরীয় তেলের ওপর নির্ভরশীল এই অঞ্চল এখন মজুত সংকটে পড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান তাদের কৌশলগত মজুত ব্যবহার করছে, কিন্তু তা দীর্ঘদিন চলবে না। ফলে অনেক দেশেই জ্বালানি ব্যবহার কমাতে বাধ্যতামূলক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

শোধনাগার উৎপাদন কমাচ্ছে

কাঁচা তেলের ঘাটতির কারণে শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমাতে শুরু করেছে। এশিয়ায় দৈনিক কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল উৎপাদন কমেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পেট্রোল, ডিজেল ও বিমান জ্বালানির দামে, যা ইতোমধ্যে অনেক বেড়ে গেছে ।

বিশ্ব বাজারে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম, এক ব্যারেল ৯৫ ডলার ছাড়াল -  বাংলাদেশ টাইমস

ইউরোপে ভিন্ন চিত্র

ইউরোপে এখনো বড় ধরনের চাহিদা কমেনি। সরকারগুলো ভর্তুকি দিয়ে ভোক্তাদের চাপ কমানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু এতে বাজারের ভারসাম্য আরও বিঘ্নিত হচ্ছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় শোধনাগারগুলোর লাভ কমে গেছে এবং সামনে উৎপাদন কমানোর ঝুঁকি বাড়ছে।

সামনে বড় সংকটের আশঙ্কা

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী দ্রুত খুলে না দিলে বিশ্ব জ্বালানি বাজার বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে। এমনকি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। অতীতে হঠাৎ তেলের চাহিদা কমে যাওয়া বা সরবরাহে বড় ধাক্কা বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিয়েছিল। এবারও তেমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না ।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সংকট কতটা গভীর হবে, তা নির্ভর করছে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার ওপর।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

তেলের বাজারে বিপর্যয়ের ঘণ্টা: হরমুজ সংকটে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ঝুঁকির মুখে

১০:৩৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্ব জ্বালানি বাজার এখন এক গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে পারস্য উপসাগর ঘিরে তেলের সরবরাহে যে ধাক্কা লেগেছে, তা ধীরে ধীরে একটি বড় বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। বাজারে আপাত স্থিতিশীলতা থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট

সরবরাহ কমে যাওয়ার বড় ধাক্কা

সংঘাত শুরুর প্রায় পঞ্চাশ দিনের মাথায় বিশ্ব বাজার থেকে প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ব্যারেল উপসাগরীয় তেল হারিয়ে গেছে, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় ২ শতাংশ। শুধু তেল নয়, তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রেও বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। প্রতি মাসে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে বিশ্ব বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ কমে যাচ্ছে ।

রাশিয়া থেকে ১৫ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহের ঘোষণা ইন্দোনেশিয়ার | আন্তর্জাতিক  | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

মজুত শেষ, সামনে অনিশ্চয়তা

যুদ্ধ শুরুর আগে সমুদ্রপথে থাকা অতিরিক্ত তেলের মজুত এতদিন বাজারকে কিছুটা সুরক্ষা দিয়েছিল। কিন্তু এখন সেই মজুত প্রায় শেষ। নতুন করে সরবরাহ না আসায় বাজারে তেলের প্রাপ্যতা দ্রুত কমছে। এর ফলে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

এশিয়ায় সবচেয়ে বড় চাপ

এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উপসাগরীয় তেলের ওপর নির্ভরশীল এই অঞ্চল এখন মজুত সংকটে পড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান তাদের কৌশলগত মজুত ব্যবহার করছে, কিন্তু তা দীর্ঘদিন চলবে না। ফলে অনেক দেশেই জ্বালানি ব্যবহার কমাতে বাধ্যতামূলক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

শোধনাগার উৎপাদন কমাচ্ছে

কাঁচা তেলের ঘাটতির কারণে শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমাতে শুরু করেছে। এশিয়ায় দৈনিক কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল উৎপাদন কমেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পেট্রোল, ডিজেল ও বিমান জ্বালানির দামে, যা ইতোমধ্যে অনেক বেড়ে গেছে ।

বিশ্ব বাজারে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম, এক ব্যারেল ৯৫ ডলার ছাড়াল -  বাংলাদেশ টাইমস

ইউরোপে ভিন্ন চিত্র

ইউরোপে এখনো বড় ধরনের চাহিদা কমেনি। সরকারগুলো ভর্তুকি দিয়ে ভোক্তাদের চাপ কমানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু এতে বাজারের ভারসাম্য আরও বিঘ্নিত হচ্ছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় শোধনাগারগুলোর লাভ কমে গেছে এবং সামনে উৎপাদন কমানোর ঝুঁকি বাড়ছে।

সামনে বড় সংকটের আশঙ্কা

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী দ্রুত খুলে না দিলে বিশ্ব জ্বালানি বাজার বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে। এমনকি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। অতীতে হঠাৎ তেলের চাহিদা কমে যাওয়া বা সরবরাহে বড় ধাক্কা বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিয়েছিল। এবারও তেমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না ।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সংকট কতটা গভীর হবে, তা নির্ভর করছে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার ওপর।