পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারে ৩ রুপি বাড়ানোর পরও ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর লোকসান কমছে না। বরং প্রতিদিন প্রায় ৭৫০ কোটি রুপি ক্ষতির মুখে পড়ছে এসব প্রতিষ্ঠান। পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত, অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ভারতের জ্বালানি খাতে নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ায় আবারও জ্বালানির দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
লোকসান কমছে না
ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাস—সব মিলিয়ে প্রতিদিন বড় অঙ্কের ক্ষতি বহন করতে হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলোকে। গত ১৫ মে জ্বালানির দাম বাড়ানো হলেও লোকসান পুরোপুরি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি।
এর আগে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী বলেছিলেন, প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার কোটি রুপি ক্ষতির মুখে ছিল কোম্পানিগুলো। সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পর সেই ক্ষতি কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক।
পশ্চিম এশিয়ার সংকটের প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে এখন পর্যন্ত তেলের দাম ৫১ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। একই সময়ে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির দরও কমেছে, যা আমদানি ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভারত তার মোট চাহিদার প্রায় ৮৮ শতাংশ অপরিশোধিত তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশটির অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে।
![]()
আবারও দাম বাড়ার শঙ্কা
অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও শিল্প খাতের কর্মকর্তারা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকলে খুব শিগগিরই দ্বিতীয় দফায় জ্বালানির দাম বাড়ানো হতে পারে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক না হওয়ায় জ্বালানি পরিবহন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই রুট দিয়েই বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি সরবরাহ হয়ে থাকে।
তবে ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন, আপাতত জ্বালানি সরবরাহে কোনো সংকট নেই। অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির মজুত পরিস্থিতিও স্থিতিশীল রয়েছে।
রাশিয়ার তেল নিয়েও সতর্কতা
রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আলোচনা চললেও ভারত জানিয়েছে, তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা এখন পর্যন্ত ঝুঁকিতে পড়েনি। বাণিজ্যিক ভিত্তিতেই দেশটি জ্বালানি সংগ্রহ অব্যাহত রাখছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















