০৮:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ৩.৪১ শতাংশ পতন, ১১ মাসে আয় ৩৫.৩১ বিলিয়ন ডলার

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয় কমেছে ৩.৪১ শতাংশ। জুলাই থেকে মে পর্যন্ত সময়ে খাতটি থেকে মোট ৩৫.৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কম।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের রপ্তানি অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত তৈরি পোশাক খাত ঐতিহ্যবাহী ও উদীয়মান বেশিরভাগ বাজারেই কিছুটা সংকোচনের মুখে পড়েছে। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে কানাডার বাজারে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনো শীর্ষ বাজার

শিল্প বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় গন্তব্য এখনো ইউরোপীয় ইউনিয়ন। মোট রপ্তানির ৪৯.১৫ শতাংশই গেছে এ বাজারে।

তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি আয় কমে দাঁড়িয়েছে ১৭.৩৬ বিলিয়ন ডলারে। এ বাজারে বছরওয়ারি হিসাবে প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ৪.৮৮ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বাজারেও ধীরগতি

বাংলাদেশি পোশাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্র। মোট রপ্তানির ১৯.৯০ শতাংশ অংশীদারিত্ব নিয়ে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ৭.০৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। তবে আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি সামান্য কমে ০.০৪ শতাংশ ঋণাত্মক হয়েছে।

অন্যদিকে, মোট রপ্তানির ১১.৩৮ শতাংশ অংশীদারিত্ব থাকা যুক্তরাজ্যে রপ্তানি হয়েছে ৪.০২ বিলিয়ন ডলার। সেখানে প্রবৃদ্ধি কমেছে ০.৫০ শতাংশ।

কানাডায় ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি

প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে কানাডাই একমাত্র দেশ যেখানে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। দেশটিতে রপ্তানি বেড়ে ১.২৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বছরওয়ারি হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২.২৭ শতাংশ। মোট রপ্তানিতে কানাডার অংশীদারিত্ব ৩.৪৭ শতাংশ।

উদীয়মান বাজারেও রপ্তানি কমেছে

অপ্রচলিত বা উদীয়মান বাজারগুলোতেও রপ্তানি আয় কমেছে। এসব বাজার থেকে সম্মিলিত আয় ৫.৯৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৫.৬৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। মোট তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এসব বাজারের অংশীদারিত্ব ১৬.০৯ শতাংশ।

নিট ও ওভেন—দুই খাতেই নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি

পণ্যের ধরনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, তৈরি পোশাক খাতের দুটি প্রধান উপখাতই সংকোচনের মধ্যে রয়েছে। নিটওয়্যার রপ্তানি কমেছে ৪.২৬ শতাংশ, আর ওভেন পোশাক রপ্তানি কমেছে ২.৪২ শতাংশ।

সামগ্রিকভাবে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প বৈশ্বিক বাজারে চাহিদার চাপ ও বাজারভিত্তিক ধীরগতির প্রভাব মোকাবিলা করেছে। যদিও কিছু বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে, তবু সামগ্রিক রপ্তানি আয় আগের বছরের তুলনায় নিম্নমুখী অবস্থানে রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ৩.৪১ শতাংশ পতন, ১১ মাসে আয় ৩৫.৩১ বিলিয়ন ডলার

০৮:২৭:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয় কমেছে ৩.৪১ শতাংশ। জুলাই থেকে মে পর্যন্ত সময়ে খাতটি থেকে মোট ৩৫.৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কম।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের রপ্তানি অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত তৈরি পোশাক খাত ঐতিহ্যবাহী ও উদীয়মান বেশিরভাগ বাজারেই কিছুটা সংকোচনের মুখে পড়েছে। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে কানাডার বাজারে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনো শীর্ষ বাজার

শিল্প বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় গন্তব্য এখনো ইউরোপীয় ইউনিয়ন। মোট রপ্তানির ৪৯.১৫ শতাংশই গেছে এ বাজারে।

তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি আয় কমে দাঁড়িয়েছে ১৭.৩৬ বিলিয়ন ডলারে। এ বাজারে বছরওয়ারি হিসাবে প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ৪.৮৮ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বাজারেও ধীরগতি

বাংলাদেশি পোশাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্র। মোট রপ্তানির ১৯.৯০ শতাংশ অংশীদারিত্ব নিয়ে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ৭.০৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। তবে আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি সামান্য কমে ০.০৪ শতাংশ ঋণাত্মক হয়েছে।

অন্যদিকে, মোট রপ্তানির ১১.৩৮ শতাংশ অংশীদারিত্ব থাকা যুক্তরাজ্যে রপ্তানি হয়েছে ৪.০২ বিলিয়ন ডলার। সেখানে প্রবৃদ্ধি কমেছে ০.৫০ শতাংশ।

কানাডায় ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি

প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে কানাডাই একমাত্র দেশ যেখানে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। দেশটিতে রপ্তানি বেড়ে ১.২৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বছরওয়ারি হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২.২৭ শতাংশ। মোট রপ্তানিতে কানাডার অংশীদারিত্ব ৩.৪৭ শতাংশ।

উদীয়মান বাজারেও রপ্তানি কমেছে

অপ্রচলিত বা উদীয়মান বাজারগুলোতেও রপ্তানি আয় কমেছে। এসব বাজার থেকে সম্মিলিত আয় ৫.৯৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৫.৬৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। মোট তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এসব বাজারের অংশীদারিত্ব ১৬.০৯ শতাংশ।

নিট ও ওভেন—দুই খাতেই নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি

পণ্যের ধরনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, তৈরি পোশাক খাতের দুটি প্রধান উপখাতই সংকোচনের মধ্যে রয়েছে। নিটওয়্যার রপ্তানি কমেছে ৪.২৬ শতাংশ, আর ওভেন পোশাক রপ্তানি কমেছে ২.৪২ শতাংশ।

সামগ্রিকভাবে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প বৈশ্বিক বাজারে চাহিদার চাপ ও বাজারভিত্তিক ধীরগতির প্রভাব মোকাবিলা করেছে। যদিও কিছু বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে, তবু সামগ্রিক রপ্তানি আয় আগের বছরের তুলনায় নিম্নমুখী অবস্থানে রয়েছে।