০৮:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

থাইল্যান্ডের স্কুলে গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোর সহিংস ভিডিও দেখত, বলছে পুলিশ

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে স্কুলে ভয়াবহ গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত ১৪ বছর বয়সী কিশোর দীর্ঘদিন ধরে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রতি আগ্রহী ছিল এবং ইন্টারনেটে সহিংসতামূলক বিভিন্ন ভিডিও দেখত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবারের ওই হামলায় কিশোরটি প্রথমে নিজের বাড়িতে তার দাদা-দাদিকে গুলি করে হত্যা করে বলে অভিযোগ। পরে স্কুলে গিয়ে আরও ছয়জনকে হত্যা করার পর নিজেকেও গুলি করে। ঘটনায় ২০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ২০২২ সালের পর এটি থাইল্যান্ডের সবচেয়ে ভয়াবহ গণগুলির ঘটনা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে আগ্রহ ছিল দীর্ঘদিনের

প্রাদেশিক পুলিশ অঞ্চলের উপকমিশনার আথাপল আনুসিত সাংবাদিকদের জানান, তদন্তে এখন পর্যন্ত ১৭ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সাক্ষীদের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত কিশোর প্রায় এক থেকে দুই বছর ধরে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়ে আসছিল।

তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সে আগ্নেয়াস্ত্র চালানোর পদ্ধতি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছিল।

পুলিশ তার ব্যক্তিগত কম্পিউটার পরীক্ষা করে সহিংসতামূলক বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উপকরণ দেখার তথ্য পেয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সে বাস্তবে গুলি চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিল—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা।

Image

স্কুলে নিয়েছিল এয়ারগান

পুলিশ জানিয়েছে, গত বছর ওই কিশোর একটি বিবি বন্দুক বা এয়ারগান স্কুলে নিয়ে গিয়েছিল। পরে একজন শিক্ষক সেটি জব্দ করেন।

হামলার ঘটনাস্থলগুলো থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র, ব্যবহৃত গুলির খোসা এবং একটি কম্পিউটারসহ বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। কিশোরটির ব্যাগ থেকেও একটি ছুরি পাওয়া গেছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর প্রায় ১২ বছর ধরে সে দাদা-দাদির সঙ্গে বসবাস করছিল।

Image

স্কুলের নিরাপত্তায় নতুন ব্যবস্থা

ভয়াবহ এই ঘটনার পর থাইল্যান্ডের শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন নিরাপত্তা নীতিমালা তৈরির কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা যাচাই, ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থী বা ব্যক্তিদের বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার মহড়া এবং স্কুলে হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা যাতে অস্ত্র বা বিপজ্জনক কোনো সামগ্রী স্কুলে নিয়ে যেতে না পারে, তা শনাক্ত করার ব্যবস্থাও জোরদার করা হবে।

আবারও সামনে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন

হামলার পর থাইল্যান্ডে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বেসামরিক মানুষের হাতে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র থাকা দেশগুলোর একটি থাইল্যান্ড।

পরপর এত মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় স্কুলের নিরাপত্তা, শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং ইন্টারনেটে সহিংসতামূলক উপকরণে তাদের প্রবেশাধিকার—সবকিছু নিয়েই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

দেশটির সরকার এরই মধ্যে স্কুল নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

থাইল্যান্ডের স্কুলে গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোর সহিংস ভিডিও দেখত, বলছে পুলিশ

০৭:০২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে স্কুলে ভয়াবহ গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত ১৪ বছর বয়সী কিশোর দীর্ঘদিন ধরে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রতি আগ্রহী ছিল এবং ইন্টারনেটে সহিংসতামূলক বিভিন্ন ভিডিও দেখত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবারের ওই হামলায় কিশোরটি প্রথমে নিজের বাড়িতে তার দাদা-দাদিকে গুলি করে হত্যা করে বলে অভিযোগ। পরে স্কুলে গিয়ে আরও ছয়জনকে হত্যা করার পর নিজেকেও গুলি করে। ঘটনায় ২০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ২০২২ সালের পর এটি থাইল্যান্ডের সবচেয়ে ভয়াবহ গণগুলির ঘটনা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে আগ্রহ ছিল দীর্ঘদিনের

প্রাদেশিক পুলিশ অঞ্চলের উপকমিশনার আথাপল আনুসিত সাংবাদিকদের জানান, তদন্তে এখন পর্যন্ত ১৭ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সাক্ষীদের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত কিশোর প্রায় এক থেকে দুই বছর ধরে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়ে আসছিল।

তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সে আগ্নেয়াস্ত্র চালানোর পদ্ধতি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছিল।

পুলিশ তার ব্যক্তিগত কম্পিউটার পরীক্ষা করে সহিংসতামূলক বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উপকরণ দেখার তথ্য পেয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সে বাস্তবে গুলি চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিল—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা।

Image

স্কুলে নিয়েছিল এয়ারগান

পুলিশ জানিয়েছে, গত বছর ওই কিশোর একটি বিবি বন্দুক বা এয়ারগান স্কুলে নিয়ে গিয়েছিল। পরে একজন শিক্ষক সেটি জব্দ করেন।

হামলার ঘটনাস্থলগুলো থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র, ব্যবহৃত গুলির খোসা এবং একটি কম্পিউটারসহ বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। কিশোরটির ব্যাগ থেকেও একটি ছুরি পাওয়া গেছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর প্রায় ১২ বছর ধরে সে দাদা-দাদির সঙ্গে বসবাস করছিল।

Image

স্কুলের নিরাপত্তায় নতুন ব্যবস্থা

ভয়াবহ এই ঘটনার পর থাইল্যান্ডের শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন নিরাপত্তা নীতিমালা তৈরির কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা যাচাই, ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থী বা ব্যক্তিদের বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার মহড়া এবং স্কুলে হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা যাতে অস্ত্র বা বিপজ্জনক কোনো সামগ্রী স্কুলে নিয়ে যেতে না পারে, তা শনাক্ত করার ব্যবস্থাও জোরদার করা হবে।

আবারও সামনে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন

হামলার পর থাইল্যান্ডে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বেসামরিক মানুষের হাতে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র থাকা দেশগুলোর একটি থাইল্যান্ড।

পরপর এত মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় স্কুলের নিরাপত্তা, শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং ইন্টারনেটে সহিংসতামূলক উপকরণে তাদের প্রবেশাধিকার—সবকিছু নিয়েই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

দেশটির সরকার এরই মধ্যে স্কুল নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে।