০৮:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

থাইল্যান্ডে বাঁধের জলাধার থেকে উঠল ডেথ রেলওয়ের নিথে স্টেশন: ৪০ বছরের পর দেখা মিলল যুদ্ধকালীন ধ্বংসাবশেষের

থাইল্যান্ডের সাংখ্লাবুরিতে ভাজিরালংকর্ন বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণের কাজে জলাধার খালি করার পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কুখ্যাত ডেথ রেলওয়ের নিথে স্টেশন ৪০ বছরেরও বেশি সময় পরে প্রথমবারের মতো দৃশ্যমান হয়েছে। থাইল্যান্ড-বার্মা রেলওয়ে সেন্টারের গবেষক অ্যান্ড্রু স্নো লন্ডনের ন্যাশনাল আর্কাইভস থেকে সংগ্রহ করা ঐতিহাসিক আকাশচিত্র ব্যবহার করে স্টেশনের বিন্যাস চিহ্নিত করছেন। স্টেশনটি ছিল ৪১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ঐতিহাসিক রেলপথের একটি প্রধান ডিপো। আগামী আগস্টে বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণ শেষ হলে এবং বর্ষা মৌসুম শুরু হলে স্টেশনটি আবার পানির নিচে চলে যেতে পারে, তাই গবেষকেরা দ্রুত জরিপ চালাচ্ছেন।

ডেথ রেলওয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম নিষ্ঠুর শ্রম-ইতিহাসের প্রতীক। জাপানি দখলদার বাহিনী তৎকালীন সিয়াম ও বার্মাকে — অর্থাৎ আধুনিক থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারকে — রেলপথে যুক্ত করতে এই পথ নির্মাণ করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সামরিক সরবরাহ সহজ করা। কিন্তু নির্মাণের পেছনে ছিল অসংখ্য মিত্রবাহিনীর যুদ্ধবন্দি ও এশীয় শ্রমিকের জোরপূর্বক শ্রম, অপুষ্টি, রোগ এবং মৃত্যু।

Historians race to explore resurfaced WWII 'Death Railway' station | The  Independent

ইতিহাসের নিচে চাপা পড়ে থাকা স্থান

বাঁধ নির্মাণের পর নিথে স্টেশনসহ আশপাশের এলাকার বড় অংশ জলাধারের পানির নিচে চলে যায়। এখন পানি কমে যাওয়ায় গবেষকেরা পুরোনো নথি, মানচিত্র ও ভৌগোলিক চিহ্ন মিলিয়ে স্থাপনাটি শনাক্ত করছেন। তাদের লক্ষ্য শুধু প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান নয়; বরং যুদ্ধ, শ্রম ও স্মৃতির ইতিহাসকে নতুনভাবে সংরক্ষণ করা।

কেন এই গল্প আজও গুরুত্বপূর্ণ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে বহু আগে, কিন্তু ডেথ রেলওয়ের স্মৃতি এখনো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইতিহাসে গভীর ক্ষত হিসেবে রয়ে গেছে। মিত্রবাহিনীর যুদ্ধবন্দিদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক এশীয় শ্রমিক এই রেলপথ নির্মাণে প্রাণ হারান। অনেকের নাম, পরিচয় বা কবরও সংরক্ষিত হয়নি। তাই নিথে স্টেশনের পুনরাবির্ভাব শুধু পুরোনো কাঠামো দেখা নয়; এটি হারিয়ে যাওয়া শ্রমিকদের স্মৃতি ফিরে দেখার সুযোগ।

বাংলাদেশি পাঠকের জন্য এই গল্পের গুরুত্ব আরও আছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শ্রম, যুদ্ধ, ঔপনিবেশিকতা এবং সামরিক অবকাঠামোর ইতিহাস পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। আজকের অভিবাসী শ্রম, বড় প্রকল্প ও মানবিক নিরাপত্তার প্রশ্ন বুঝতেও এমন অতীত ফিরে দেখা জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

থাইল্যান্ডে বাঁধের জলাধার থেকে উঠল ডেথ রেলওয়ের নিথে স্টেশন: ৪০ বছরের পর দেখা মিলল যুদ্ধকালীন ধ্বংসাবশেষের

০৯:০৪:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

থাইল্যান্ডের সাংখ্লাবুরিতে ভাজিরালংকর্ন বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণের কাজে জলাধার খালি করার পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কুখ্যাত ডেথ রেলওয়ের নিথে স্টেশন ৪০ বছরেরও বেশি সময় পরে প্রথমবারের মতো দৃশ্যমান হয়েছে। থাইল্যান্ড-বার্মা রেলওয়ে সেন্টারের গবেষক অ্যান্ড্রু স্নো লন্ডনের ন্যাশনাল আর্কাইভস থেকে সংগ্রহ করা ঐতিহাসিক আকাশচিত্র ব্যবহার করে স্টেশনের বিন্যাস চিহ্নিত করছেন। স্টেশনটি ছিল ৪১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ঐতিহাসিক রেলপথের একটি প্রধান ডিপো। আগামী আগস্টে বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণ শেষ হলে এবং বর্ষা মৌসুম শুরু হলে স্টেশনটি আবার পানির নিচে চলে যেতে পারে, তাই গবেষকেরা দ্রুত জরিপ চালাচ্ছেন।

ডেথ রেলওয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম নিষ্ঠুর শ্রম-ইতিহাসের প্রতীক। জাপানি দখলদার বাহিনী তৎকালীন সিয়াম ও বার্মাকে — অর্থাৎ আধুনিক থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারকে — রেলপথে যুক্ত করতে এই পথ নির্মাণ করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সামরিক সরবরাহ সহজ করা। কিন্তু নির্মাণের পেছনে ছিল অসংখ্য মিত্রবাহিনীর যুদ্ধবন্দি ও এশীয় শ্রমিকের জোরপূর্বক শ্রম, অপুষ্টি, রোগ এবং মৃত্যু।

Historians race to explore resurfaced WWII 'Death Railway' station | The  Independent

ইতিহাসের নিচে চাপা পড়ে থাকা স্থান

বাঁধ নির্মাণের পর নিথে স্টেশনসহ আশপাশের এলাকার বড় অংশ জলাধারের পানির নিচে চলে যায়। এখন পানি কমে যাওয়ায় গবেষকেরা পুরোনো নথি, মানচিত্র ও ভৌগোলিক চিহ্ন মিলিয়ে স্থাপনাটি শনাক্ত করছেন। তাদের লক্ষ্য শুধু প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান নয়; বরং যুদ্ধ, শ্রম ও স্মৃতির ইতিহাসকে নতুনভাবে সংরক্ষণ করা।

কেন এই গল্প আজও গুরুত্বপূর্ণ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে বহু আগে, কিন্তু ডেথ রেলওয়ের স্মৃতি এখনো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইতিহাসে গভীর ক্ষত হিসেবে রয়ে গেছে। মিত্রবাহিনীর যুদ্ধবন্দিদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক এশীয় শ্রমিক এই রেলপথ নির্মাণে প্রাণ হারান। অনেকের নাম, পরিচয় বা কবরও সংরক্ষিত হয়নি। তাই নিথে স্টেশনের পুনরাবির্ভাব শুধু পুরোনো কাঠামো দেখা নয়; এটি হারিয়ে যাওয়া শ্রমিকদের স্মৃতি ফিরে দেখার সুযোগ।

বাংলাদেশি পাঠকের জন্য এই গল্পের গুরুত্ব আরও আছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শ্রম, যুদ্ধ, ঔপনিবেশিকতা এবং সামরিক অবকাঠামোর ইতিহাস পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। আজকের অভিবাসী শ্রম, বড় প্রকল্প ও মানবিক নিরাপত্তার প্রশ্ন বুঝতেও এমন অতীত ফিরে দেখা জরুরি।