০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

দানবের স্বর্গে ক্ষমতার মুখোশ উন্মোচন, ব্যঙ্গ ও ট্র্যাজেডির মিশেলে নতুন অপেরা আলোচনায়

সমকালীন রাজনীতি, ক্ষমতার নির্মমতা এবং মানবিক সংকটের এক অদ্ভুত ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে মঞ্চে তুলেছে নতুন অপেরা ‘দানবের স্বর্গ’। অস্ট্রিয়ান সুরকার ওলগা নয়ভির্থের দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পর নির্মিত এই পূর্ণাঙ্গ মঞ্চকর্মটি শক্তিমান শাসকের অন্তর্গত অস্থিরতা ও বিকৃত বাস্তবতাকে শিল্পের ভাষায় প্রকাশ করেছে।

ক্ষমতার ভেতরের অদ্ভুত সত্য

অপেরাটির কেন্দ্রে রয়েছে ‘রাজা-রাষ্ট্রপতি’ নামের এক চরিত্র, যাকে ঘিরে চাটুকার সহযোগী ও জীবন্ত মৃতদের কোরাস। তাদের মুখোমুখি দাঁড়ায় প্রতিশোধপরায়ণ এক দানবীয় সত্তা। নির্মাতা তোবিয়াস ক্রাৎসার মনে করেন, প্রতিটি জনতুষ্টিবাদী শাসকের ভেতরেই এক ধরনের শিশুসুলভ বিকৃতি লুকিয়ে থাকে, যা হাস্যকর হলেও বিপজ্জনক। এই দ্বৈততা থেকেই অপেরাটির নাটকীয় শক্তি তৈরি হয়েছে।

ব্যঙ্গ, ট্র্যাজেডি ও অন্ধকার সময়ের প্রতিফলন

নয়ভির্থের সঙ্গীত ও নোবেলজয়ী লেখক এলফ্রিডে ইয়েলিনেকের জটিল ভাষা একত্রে আমাদের সময়ের নিষ্ঠুর বাস্তবতাকে তুলে ধরে। সুরকারের ভাষায়, বাস্তবতা এতটাই নির্মম যে তাকে ধরতে হলে বাড়িয়ে বলা হাস্যরসের আশ্রয় নিতে হয়। ফলে অপেরাটি একই সঙ্গে ট্র্যাজেডি ও প্রহসন—অন্ধকার রাজনৈতিক ব্যঙ্গ, যা ধীরে ধীরে গভীরতর জগতে প্রবেশ করে।

দীর্ঘ সহযোগিতার শিল্পভাষা

দুই শিল্পীর তিন দশকেরও বেশি পুরোনো সহযোগিতা উচ্চ ও নিম্ন সাংস্কৃতিক উপাদানের সংঘাতে নির্মিত। লোকসঙ্গীত, ধ্রুপদি ঐতিহ্য, চলচ্চিত্রধর্মী সুর এবং বিকৃত শব্দ প্রকৌশল মিলিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তিকর অথচ তীক্ষ্ণ সঙ্গীতভাষা। এতে যেমন হাস্যরস আছে, তেমনি অস্বস্তিও রয়ে যায়।

ব্যক্তিগত শোক থেকে রাজনৈতিক প্রতিবাদ

এই অপেরা রচনার সময় সুরকার ব্যক্তিগত বেদনাও অনুভব করেছেন। মায়ের অসুস্থতা, চিকিৎসা ব্যবস্থার অমানবিকতা এবং মর্যাদাহীন মৃত্যুর অভিজ্ঞতা তাকে ক্ষমতার ধ্বংসাত্মক রূপ নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে। সেই ব্যক্তিগত যন্ত্রণা শিল্পে রূপ নিয়ে রাজনৈতিক ব্যঙ্গকে আরও তীব্র করেছে।

হাসির ভয়েই কাঁপে স্বৈরশাসন

নয়ভির্থ বিশ্বাস করেন, ক্ষমতাধররা সবচেয়ে বেশি ভয় পায় উপহাসকে। শক্তিকে ছোট করে দেখানোর এই শিল্পী সুলভ কৌশলই অপেরাটির মূল ক্যাথারসিস—ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বেদনা থেকে মুক্তির এক সৃজনশীল পথ।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

দানবের স্বর্গে ক্ষমতার মুখোশ উন্মোচন, ব্যঙ্গ ও ট্র্যাজেডির মিশেলে নতুন অপেরা আলোচনায়

০৭:০০:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সমকালীন রাজনীতি, ক্ষমতার নির্মমতা এবং মানবিক সংকটের এক অদ্ভুত ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে মঞ্চে তুলেছে নতুন অপেরা ‘দানবের স্বর্গ’। অস্ট্রিয়ান সুরকার ওলগা নয়ভির্থের দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পর নির্মিত এই পূর্ণাঙ্গ মঞ্চকর্মটি শক্তিমান শাসকের অন্তর্গত অস্থিরতা ও বিকৃত বাস্তবতাকে শিল্পের ভাষায় প্রকাশ করেছে।

ক্ষমতার ভেতরের অদ্ভুত সত্য

অপেরাটির কেন্দ্রে রয়েছে ‘রাজা-রাষ্ট্রপতি’ নামের এক চরিত্র, যাকে ঘিরে চাটুকার সহযোগী ও জীবন্ত মৃতদের কোরাস। তাদের মুখোমুখি দাঁড়ায় প্রতিশোধপরায়ণ এক দানবীয় সত্তা। নির্মাতা তোবিয়াস ক্রাৎসার মনে করেন, প্রতিটি জনতুষ্টিবাদী শাসকের ভেতরেই এক ধরনের শিশুসুলভ বিকৃতি লুকিয়ে থাকে, যা হাস্যকর হলেও বিপজ্জনক। এই দ্বৈততা থেকেই অপেরাটির নাটকীয় শক্তি তৈরি হয়েছে।

ব্যঙ্গ, ট্র্যাজেডি ও অন্ধকার সময়ের প্রতিফলন

নয়ভির্থের সঙ্গীত ও নোবেলজয়ী লেখক এলফ্রিডে ইয়েলিনেকের জটিল ভাষা একত্রে আমাদের সময়ের নিষ্ঠুর বাস্তবতাকে তুলে ধরে। সুরকারের ভাষায়, বাস্তবতা এতটাই নির্মম যে তাকে ধরতে হলে বাড়িয়ে বলা হাস্যরসের আশ্রয় নিতে হয়। ফলে অপেরাটি একই সঙ্গে ট্র্যাজেডি ও প্রহসন—অন্ধকার রাজনৈতিক ব্যঙ্গ, যা ধীরে ধীরে গভীরতর জগতে প্রবেশ করে।

দীর্ঘ সহযোগিতার শিল্পভাষা

দুই শিল্পীর তিন দশকেরও বেশি পুরোনো সহযোগিতা উচ্চ ও নিম্ন সাংস্কৃতিক উপাদানের সংঘাতে নির্মিত। লোকসঙ্গীত, ধ্রুপদি ঐতিহ্য, চলচ্চিত্রধর্মী সুর এবং বিকৃত শব্দ প্রকৌশল মিলিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তিকর অথচ তীক্ষ্ণ সঙ্গীতভাষা। এতে যেমন হাস্যরস আছে, তেমনি অস্বস্তিও রয়ে যায়।

ব্যক্তিগত শোক থেকে রাজনৈতিক প্রতিবাদ

এই অপেরা রচনার সময় সুরকার ব্যক্তিগত বেদনাও অনুভব করেছেন। মায়ের অসুস্থতা, চিকিৎসা ব্যবস্থার অমানবিকতা এবং মর্যাদাহীন মৃত্যুর অভিজ্ঞতা তাকে ক্ষমতার ধ্বংসাত্মক রূপ নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে। সেই ব্যক্তিগত যন্ত্রণা শিল্পে রূপ নিয়ে রাজনৈতিক ব্যঙ্গকে আরও তীব্র করেছে।

হাসির ভয়েই কাঁপে স্বৈরশাসন

নয়ভির্থ বিশ্বাস করেন, ক্ষমতাধররা সবচেয়ে বেশি ভয় পায় উপহাসকে। শক্তিকে ছোট করে দেখানোর এই শিল্পী সুলভ কৌশলই অপেরাটির মূল ক্যাথারসিস—ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বেদনা থেকে মুক্তির এক সৃজনশীল পথ।