১১:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

দালালের ফাঁদে সৌদি গিয়ে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ আকলিমা, দেশে ফেরানোর দাবি পরিবারের

সৌদিতে গৃহবধূর যন্ত্রণার গল্প

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার কমলপুর গ্রামের বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী গৃহবধূ আকলিমা খাতুন স্থানীয় দালাল ও রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতারণার শিকার হয়ে সৌদি আরবে গিয়ে চরম নির্যাতনের মুখে পড়েছেন। ভুক্তভোগীর পাসপোর্ট নম্বর A18462948।


ভিসার আড়ালে অর্থের লোভ ও প্রতারণা

পরিবারের কাছে জানা যায়, চরম আর্থিক সংকটকে সুযোগ করে নিয়ে স্থানীয় দালাল জহির মিয়া আকলিমাকে গৃহকর্মীর ভিসায় সৌদি পাঠান। ঢাকার বনানীতে অবস্থিত রিক্রুটিং এজেন্সি আবির ব্রাদার্সের মাধ্যমে তাকে রিয়াদে নেওয়া হয়। এরপর দালাল বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং দেশে ফিরিয়ে আনার নামে দুই লাখ টাকা দাবি করে ভুক্তভোগীকে ব্ল্যাকমেল করছেন।

নির্যাতন ও মানবিক সংকট

আকলিমা খাতুন ফোনে জানান, গত এক মাস ধরে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত খাবার, চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হয় না। তিনি বলেন, “আমার অবস্থা খুব খারাপ, মনে হচ্ছে আমি বাঁচবো না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, যেই এজেন্সির মাধ্যমে তাকে পাঠানো হয়েছে তারা কোনো খোঁজখবর নিচ্ছে না।

প্রথমে তিনি রিয়াদের একটি বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। পরে পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় বর্তমানে তিনি সৌদি সরকারের তত্ত্বাবধানে একটি সেইফ হাউজে অবস্থান করছেন। তবুও অভিযোগ রয়েছে, সেখানে গিয়েও গত এক সপ্তাহ ধরে তাকে নির্যাতন করা হচ্ছে এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। একটি অডিও বার্তায় তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকির কথাও জানিয়েছেন।

পরিবারের আহ্বান ও স্বামীর দুঃখ

ভুক্তভোগীর স্বামী মাসুক মিয়া বলেন, “দালালের কথা বিশ্বাস করে স্ত্রীকে সৌদি পাঠিয়েছিলাম। আমাদের তিনটি ছোট সন্তান রয়েছে। এখন স্ত্রী চরম বিপদে। সরকার যেন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনে—এই দাবি জানাই।”


প্রতিবাদ ও কর্তৃপক্ষের মন্তব্য

আবির ব্রাদার্সের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে দালাল জহির মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সে ভালো লাগেনা বলেই দেশে আসতে চাচ্ছে। এখানে আমার কোনো দোষ নেই। এজেন্সির দোষ থাকলে সেটা তাদের। এম্বাসির দায়িত্ব তার খোঁজ রাখা।”

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ওয়েজ আর্নারস কল্যাণ বোর্ড-এর সহকারী পরিচালক মো. নবীর হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে দেশে ফেরত আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

দালালের ফাঁদে সৌদি গিয়ে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ আকলিমা, দেশে ফেরানোর দাবি পরিবারের

০৮:৪২:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সৌদিতে গৃহবধূর যন্ত্রণার গল্প

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার কমলপুর গ্রামের বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী গৃহবধূ আকলিমা খাতুন স্থানীয় দালাল ও রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতারণার শিকার হয়ে সৌদি আরবে গিয়ে চরম নির্যাতনের মুখে পড়েছেন। ভুক্তভোগীর পাসপোর্ট নম্বর A18462948।


ভিসার আড়ালে অর্থের লোভ ও প্রতারণা

পরিবারের কাছে জানা যায়, চরম আর্থিক সংকটকে সুযোগ করে নিয়ে স্থানীয় দালাল জহির মিয়া আকলিমাকে গৃহকর্মীর ভিসায় সৌদি পাঠান। ঢাকার বনানীতে অবস্থিত রিক্রুটিং এজেন্সি আবির ব্রাদার্সের মাধ্যমে তাকে রিয়াদে নেওয়া হয়। এরপর দালাল বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং দেশে ফিরিয়ে আনার নামে দুই লাখ টাকা দাবি করে ভুক্তভোগীকে ব্ল্যাকমেল করছেন।

নির্যাতন ও মানবিক সংকট

আকলিমা খাতুন ফোনে জানান, গত এক মাস ধরে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত খাবার, চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হয় না। তিনি বলেন, “আমার অবস্থা খুব খারাপ, মনে হচ্ছে আমি বাঁচবো না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, যেই এজেন্সির মাধ্যমে তাকে পাঠানো হয়েছে তারা কোনো খোঁজখবর নিচ্ছে না।

প্রথমে তিনি রিয়াদের একটি বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। পরে পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় বর্তমানে তিনি সৌদি সরকারের তত্ত্বাবধানে একটি সেইফ হাউজে অবস্থান করছেন। তবুও অভিযোগ রয়েছে, সেখানে গিয়েও গত এক সপ্তাহ ধরে তাকে নির্যাতন করা হচ্ছে এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। একটি অডিও বার্তায় তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকির কথাও জানিয়েছেন।

পরিবারের আহ্বান ও স্বামীর দুঃখ

ভুক্তভোগীর স্বামী মাসুক মিয়া বলেন, “দালালের কথা বিশ্বাস করে স্ত্রীকে সৌদি পাঠিয়েছিলাম। আমাদের তিনটি ছোট সন্তান রয়েছে। এখন স্ত্রী চরম বিপদে। সরকার যেন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনে—এই দাবি জানাই।”


প্রতিবাদ ও কর্তৃপক্ষের মন্তব্য

আবির ব্রাদার্সের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে দালাল জহির মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সে ভালো লাগেনা বলেই দেশে আসতে চাচ্ছে। এখানে আমার কোনো দোষ নেই। এজেন্সির দোষ থাকলে সেটা তাদের। এম্বাসির দায়িত্ব তার খোঁজ রাখা।”

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ওয়েজ আর্নারস কল্যাণ বোর্ড-এর সহকারী পরিচালক মো. নবীর হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে দেশে ফেরত আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।