০৮:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা চায় ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ফোরাম

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ফোরাম বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের কাছে সাংবিধানিক ও আইনগত স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে—দ্বৈত নাগরিকরা, বিশেষ করে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশিরা, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না। এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংগঠনটি।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, সংবিধান, পরবর্তী সংশোধনী এবং বিদ্যমান নাগরিকত্ব আইন মিলিয়ে দেখলে যেসব ব্রিটিশ-বাংলাদেশি বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ধরে রেখেছেন, তাঁদের সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার থাকার কথাই প্রতিফলিত হয়।

নির্বাচনের সময় ও গুরুত্ব
এই দাবি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন নির্বাচন কমিশন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটারদের জন্য ডাকভোট ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে আসছে, যা বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

সংবিধানের প্রেক্ষাপট ও ব্যাখ্যা
ফোরামের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালের নভেম্বরে সংবিধান প্রণয়নের সময় দেশ ছিল মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বিশেষ বাস্তবতায়। সে সময় সংবিধানের একটি অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল যারা বাংলাদেশ ত্যাগ করেছিল বা পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেছিল, তাদের সংসদে প্রবেশ ঠেকানো।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সেই সময় দেশে দ্বৈত নাগরিকত্বের ধারণাই কার্যত ছিল না। পরে বাস্তবতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নাগরিকত্ব নীতিতেও পরিবর্তন আসে। ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে জারি করা নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অস্থায়ী বিধান থেকেই সেই পরিবর্তনের সূচনা হয়।

নাগরিকত্ব আইনের বিবর্তন
ফোরাম স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, ১৯৭৮ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আদেশে স্পষ্ট করা হয় যে বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যায় না। একই সঙ্গে সরকারকে আইনসম্মত দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকৃতির ক্ষমতাও দেওয়া হয়।

এই ক্ষমতার আওতায় ২০০৮ সালের একটি প্রজ্ঞাপনে যুক্তরাজ্যকে নির্ধারিত দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর ফলে ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা আইনসম্মতভাবে দ্বৈত নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ধরে রাখতে পারেন।

পঞ্চদশ সংশোধনী ও নতুন ব্যাখ্যা
২০১০ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে আরেকটি ধারা যুক্ত হয়। সেখানে পরিষ্কার করা হয়েছে, সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্যতা কেবল তখনই প্রযোজ্য হবে, যখন কেউ বাস্তবভাবে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। অর্থাৎ নাগরিকত্ব ত্যাগ না করলে সাংবিধানিক অযোগ্যতার প্রশ্ন ওঠে না।

বিরোধী যুক্তির জবাব
কিছু মহলের দাবি, সংসদ সদস্যদের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা উচিত নয়। এই যুক্তির জবাবে ফোরাম বলেছে, সংবিধান এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয় না। এমনকি দ্বৈত নাগরিকরাও উচ্চ আদালত বা প্রধান বিচারপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক পদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, যেখানে তাঁদের রায় দেশের আইনি কাঠামো গঠনে বড় ভূমিকা রাখে।

ফোরামের অবস্থান
ফোরামের মতে, ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা কখনোই বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেননি কিংবা বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য বদলাননি। তাই তাঁদের সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে না দেওয়া হলে তা সংবিধানের উদ্দেশ্য, বিদ্যমান আইন এবং গণতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান
স্মারকলিপিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন একটি স্পষ্ট সাংবিধানিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়—যেসব ব্রিটিশ-বাংলাদেশি বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বজায় রেখেছেন, তাঁরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা চায় ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ফোরাম

১১:৩৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ফোরাম বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের কাছে সাংবিধানিক ও আইনগত স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে—দ্বৈত নাগরিকরা, বিশেষ করে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশিরা, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না। এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংগঠনটি।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, সংবিধান, পরবর্তী সংশোধনী এবং বিদ্যমান নাগরিকত্ব আইন মিলিয়ে দেখলে যেসব ব্রিটিশ-বাংলাদেশি বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ধরে রেখেছেন, তাঁদের সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার থাকার কথাই প্রতিফলিত হয়।

নির্বাচনের সময় ও গুরুত্ব
এই দাবি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন নির্বাচন কমিশন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটারদের জন্য ডাকভোট ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে আসছে, যা বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

সংবিধানের প্রেক্ষাপট ও ব্যাখ্যা
ফোরামের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালের নভেম্বরে সংবিধান প্রণয়নের সময় দেশ ছিল মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বিশেষ বাস্তবতায়। সে সময় সংবিধানের একটি অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল যারা বাংলাদেশ ত্যাগ করেছিল বা পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেছিল, তাদের সংসদে প্রবেশ ঠেকানো।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সেই সময় দেশে দ্বৈত নাগরিকত্বের ধারণাই কার্যত ছিল না। পরে বাস্তবতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নাগরিকত্ব নীতিতেও পরিবর্তন আসে। ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে জারি করা নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অস্থায়ী বিধান থেকেই সেই পরিবর্তনের সূচনা হয়।

নাগরিকত্ব আইনের বিবর্তন
ফোরাম স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, ১৯৭৮ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আদেশে স্পষ্ট করা হয় যে বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যায় না। একই সঙ্গে সরকারকে আইনসম্মত দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকৃতির ক্ষমতাও দেওয়া হয়।

এই ক্ষমতার আওতায় ২০০৮ সালের একটি প্রজ্ঞাপনে যুক্তরাজ্যকে নির্ধারিত দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর ফলে ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা আইনসম্মতভাবে দ্বৈত নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ধরে রাখতে পারেন।

পঞ্চদশ সংশোধনী ও নতুন ব্যাখ্যা
২০১০ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে আরেকটি ধারা যুক্ত হয়। সেখানে পরিষ্কার করা হয়েছে, সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্যতা কেবল তখনই প্রযোজ্য হবে, যখন কেউ বাস্তবভাবে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। অর্থাৎ নাগরিকত্ব ত্যাগ না করলে সাংবিধানিক অযোগ্যতার প্রশ্ন ওঠে না।

বিরোধী যুক্তির জবাব
কিছু মহলের দাবি, সংসদ সদস্যদের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা উচিত নয়। এই যুক্তির জবাবে ফোরাম বলেছে, সংবিধান এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয় না। এমনকি দ্বৈত নাগরিকরাও উচ্চ আদালত বা প্রধান বিচারপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক পদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, যেখানে তাঁদের রায় দেশের আইনি কাঠামো গঠনে বড় ভূমিকা রাখে।

ফোরামের অবস্থান
ফোরামের মতে, ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা কখনোই বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেননি কিংবা বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য বদলাননি। তাই তাঁদের সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে না দেওয়া হলে তা সংবিধানের উদ্দেশ্য, বিদ্যমান আইন এবং গণতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান
স্মারকলিপিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন একটি স্পষ্ট সাংবিধানিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়—যেসব ব্রিটিশ-বাংলাদেশি বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বজায় রেখেছেন, তাঁরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখেন।