০৫:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে মুরলী মনোহর যোশীর প্রতিক্রিয়া: ‘দেরিতে হলেও ভালো’, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের জন্য শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর বিজেপির প্রবীণ নেতা ও দলের মার্গদর্শক মণ্ডলীর সদস্য মুরলী মনোহর যোশী বলেছেন, “দেরিতে হলেও ভালো।” প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দেশজুড়ে তরুণদের ব্যাপক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে প্রধানের পদত্যাগকে ঘিরে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।

এক বিবৃতিতে ৯২ বছর বয়সী এই প্রবীণ বিজেপি নেতা আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত করায় শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ভারতীয় শিক্ষাঙ্গনে দ্রুত শান্তি ফিরবে এবং তরুণদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও অগ্রগতির জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ সৃষ্টি হবে—এমনটাই তিনি আশা করেন।

তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী দ্রুত এবং যথাসময়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন, যা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রবীণ বিজেপি নেতার অবস্থান

মুরলী মনোহর যোশী বর্তমানে বিজেপির মার্গদর্শক মণ্ডলীর সদস্য। এই পরিষদে সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদভানি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও রয়েছেন। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বয়সজনিত কারণে যোশী ও আদভানিকে সক্রিয় মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে এই পরামর্শক পরিষদে রাখা হয়।

অটল বিহারি বাজপেয়ী সরকারের সময় ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত মানবসম্পদ উন্নয়ন (শিক্ষা) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন যোশী। সে সময় পাঠ্যক্রম ও ইতিহাসের বইয়ে পরিবর্তন আনার কারণে তিনি ব্যাপক বিতর্কের মুখেও পড়েছিলেন।

Students' Concerns Genuine, Must Be Handled With Empathy: BJP Veteran Murli  Manohar Joshi

আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগের সমালোচনা

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের আগেই চলমান আন্দোলন মোকাবিলায় সরকারের কৌশল নিয়ে প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন যোশী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের সমালোচনা করেন।

তিনি লিখেছিলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তরুণ শিক্ষার্থীদের বহুদিন ধরে দিল্লির রাজপথে অবস্থান করতে দেখা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তাদের উদ্বেগ ও দাবিগুলো বাস্তব এবং সেগুলোর প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাব নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজতে হবে। বিষয়টিকে কেবল আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মোকাবিলা করা উচিত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

যোশীর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ দেশের ‘বিকশিত ভারত’ (Viksit Bharat) গড়ার লক্ষ্য থেকে একটি বড় জনগোষ্ঠীকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে।

আন্দোলনের মোড় ঘোরানো ঘটনা

গত ২০ জুলাই হাজারো বিক্ষোভকারী সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হলে দিল্লি পুলিশ তাদের থামাতে বলপ্রয়োগ করে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম পরিহিত পুলিশ সদস্যরা অনেক নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীকে লাঠিপেটা করছেন। কয়েকজনের মাথায় আঘাত পাওয়ার ঘটনাও সামনে আসে।

তবে দিল্লি পুলিশের দাবি ছিল, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সহিংস হয়ে ওঠায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলপ্রয়োগ প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

বলপ্রয়োগের সেই ঘটনার পর আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়। শেষ পর্যন্ত শনিবার ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলে আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে মুরলী মনোহর যোশীর প্রতিক্রিয়া: ‘দেরিতে হলেও ভালো’, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের জন্য শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন

০৮:৩৩:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর বিজেপির প্রবীণ নেতা ও দলের মার্গদর্শক মণ্ডলীর সদস্য মুরলী মনোহর যোশী বলেছেন, “দেরিতে হলেও ভালো।” প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দেশজুড়ে তরুণদের ব্যাপক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে প্রধানের পদত্যাগকে ঘিরে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।

এক বিবৃতিতে ৯২ বছর বয়সী এই প্রবীণ বিজেপি নেতা আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত করায় শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ভারতীয় শিক্ষাঙ্গনে দ্রুত শান্তি ফিরবে এবং তরুণদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও অগ্রগতির জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ সৃষ্টি হবে—এমনটাই তিনি আশা করেন।

তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী দ্রুত এবং যথাসময়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন, যা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রবীণ বিজেপি নেতার অবস্থান

মুরলী মনোহর যোশী বর্তমানে বিজেপির মার্গদর্শক মণ্ডলীর সদস্য। এই পরিষদে সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদভানি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও রয়েছেন। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বয়সজনিত কারণে যোশী ও আদভানিকে সক্রিয় মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে এই পরামর্শক পরিষদে রাখা হয়।

অটল বিহারি বাজপেয়ী সরকারের সময় ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত মানবসম্পদ উন্নয়ন (শিক্ষা) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন যোশী। সে সময় পাঠ্যক্রম ও ইতিহাসের বইয়ে পরিবর্তন আনার কারণে তিনি ব্যাপক বিতর্কের মুখেও পড়েছিলেন।

Students' Concerns Genuine, Must Be Handled With Empathy: BJP Veteran Murli  Manohar Joshi

আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগের সমালোচনা

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের আগেই চলমান আন্দোলন মোকাবিলায় সরকারের কৌশল নিয়ে প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন যোশী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের সমালোচনা করেন।

তিনি লিখেছিলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তরুণ শিক্ষার্থীদের বহুদিন ধরে দিল্লির রাজপথে অবস্থান করতে দেখা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তাদের উদ্বেগ ও দাবিগুলো বাস্তব এবং সেগুলোর প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাব নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজতে হবে। বিষয়টিকে কেবল আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মোকাবিলা করা উচিত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

যোশীর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ দেশের ‘বিকশিত ভারত’ (Viksit Bharat) গড়ার লক্ষ্য থেকে একটি বড় জনগোষ্ঠীকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে।

আন্দোলনের মোড় ঘোরানো ঘটনা

গত ২০ জুলাই হাজারো বিক্ষোভকারী সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হলে দিল্লি পুলিশ তাদের থামাতে বলপ্রয়োগ করে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম পরিহিত পুলিশ সদস্যরা অনেক নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীকে লাঠিপেটা করছেন। কয়েকজনের মাথায় আঘাত পাওয়ার ঘটনাও সামনে আসে।

তবে দিল্লি পুলিশের দাবি ছিল, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সহিংস হয়ে ওঠায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলপ্রয়োগ প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

বলপ্রয়োগের সেই ঘটনার পর আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়। শেষ পর্যন্ত শনিবার ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলে আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।