০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ধ্বংসস্তূপে চাপা ভবিষ্যৎ: যুদ্ধ থেমেও থামে না গাজার মানুষের জীবন

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাস পেরিয়ে গেলেও গাজার মানুষের কাছে যুদ্ধ যেন এখনো শেষ হয়নি। চারপাশে ধ্বংসস্তূপ, ভাঙা ঘরবাড়ি আর হারানো স্বজনদের স্মৃতি নিয়ে প্রতিদিন নতুন করে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। এখানে শুধু ভবন ভাঙেনি, মানুষের স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎও যেন ধুলায় মিশে গেছে।

ধ্বংসস্তূপের ভেতর আটকে থাকা জীবন

গাজার রাস্তায় এখন হাঁটাও কঠিন। কোথাও উঁচু কংক্রিটের স্তূপ, কোথাও অর্ধেক ভেঙে পড়া ভবন ঝুলে আছে। প্রতিটি পদক্ষেপে মানুষকে সাবধানে এগোতে হয়। এই ধ্বংস শুধু চোখে দেখা ক্ষতি নয়, এটি মানুষের মনে এক ধরনের স্থায়ী আতঙ্ক তৈরি করেছে। অনেকেই বলছেন, এত ধ্বংসের মধ্যে ভবিষ্যৎ কল্পনা করাও কঠিন হয়ে গেছে।

A bearded man in a plaid shirt stands amid rubble.

যুদ্ধবিরতি, কিন্তু থামেনি মৃত্যু

যুদ্ধবিরতির পরও মাঝেমধ্যে হামলার ঘটনা ঘটছে। ড্রোনের শব্দ এখনো রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে দেয়। মানুষ বলছেন, যুদ্ধ যেন শুধু রূপ বদলেছে, কিন্তু তাদের জীবন থেকে বিদায় নেয়নি। প্রতিদিনের জীবনে অনিশ্চয়তা আর ভয়ের ছায়া রয়ে গেছে।

স্বজন হারানোর বেদনা

অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে হারানো পরিবারের সদস্যদের খুঁজছেন। কেউ কেউ প্রিয়জনের দেহ উদ্ধার করতে পেরেছেন, আবার অনেকেই এখনো অপেক্ষায় আছেন। এই অপেক্ষা এক ধরনের মানসিক যন্ত্রণা, যা প্রতিদিন নতুন করে কষ্ট দেয়। কারও বাবা, কারও সন্তান, কারও পুরো পরিবার মুহূর্তেই হারিয়ে গেছে।

A woman in a beige head scarf and coat stands in a doorway.

ঘর হারিয়ে অনিশ্চিত আশ্রয়

অসংখ্য পরিবার এখন ভাঙা বাড়ি বা অস্থায়ী আশ্রয়ে থাকছে। কোথাও স্কুলের মাঠে, কোথাও খোলা জায়গায় তাবু গড়ে উঠেছে। খাবার পাওয়া গেলেও সংরক্ষণের উপায় নেই, বিদ্যুৎ নেই, পানির সংকট নিয়মিত। বৃষ্টিও এখন ভয়ের কারণ—কারণ তা অনেক সময় আশ্রয় ভেঙে দেয়।

স্বপ্ন ভেঙে পড়ার গল্প

অনেকেরই জীবনের ছোট ছোট স্বপ্ন ছিল—একটি স্থায়ী ঘর, সন্তানদের পড়াশোনা, স্বাভাবিক জীবন। কিন্তু যুদ্ধ সেই স্বপ্নগুলো কেড়ে নিয়েছে। কেউ চাকরি খুঁজতে বের হয়ে ফিরে এসে দেখেছেন তার ঘরই আর নেই। কেউ ঋণ শোধের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে হঠাৎ সব হারিয়েছেন।

A woman in a green head scarf and a black abaya stands in a tent.

বিচ্ছিন্ন পরিবার, অজানা ভবিষ্যৎ

যুদ্ধের ভয়াবহতায় অনেক পরিবার আলাদা হয়ে গেছে। কেউ নিখোঁজ, কেউ মারা গেছে, কেউ কোথায় আছে তা জানা নেই। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অনেকেই তাদের প্রিয়জনের খোঁজ পাচ্ছেন না। এই অনিশ্চয়তা মানুষের মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

যুদ্ধের দীর্ঘ ছায়া

গাজার মানুষ বলছেন, যুদ্ধ শুধু ধ্বংস নয়, এটি মানুষের ভেতরে স্থায়ী ক্ষত তৈরি করে। আগের মতো জীবন আর ফিরে আসবে না—এই উপলব্ধি তাদের প্রতিদিন তাড়া করে। তারা বেঁচে আছেন, কিন্তু আগের জীবনে ফিরে যাওয়ার পথ যেন বন্ধ হয়ে গেছে।

An illustration featuring photos of partly destroyed buildings and rubble.

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ধ্বংসস্তূপে চাপা ভবিষ্যৎ: যুদ্ধ থেমেও থামে না গাজার মানুষের জীবন

০৩:৫৭:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাস পেরিয়ে গেলেও গাজার মানুষের কাছে যুদ্ধ যেন এখনো শেষ হয়নি। চারপাশে ধ্বংসস্তূপ, ভাঙা ঘরবাড়ি আর হারানো স্বজনদের স্মৃতি নিয়ে প্রতিদিন নতুন করে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। এখানে শুধু ভবন ভাঙেনি, মানুষের স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎও যেন ধুলায় মিশে গেছে।

ধ্বংসস্তূপের ভেতর আটকে থাকা জীবন

গাজার রাস্তায় এখন হাঁটাও কঠিন। কোথাও উঁচু কংক্রিটের স্তূপ, কোথাও অর্ধেক ভেঙে পড়া ভবন ঝুলে আছে। প্রতিটি পদক্ষেপে মানুষকে সাবধানে এগোতে হয়। এই ধ্বংস শুধু চোখে দেখা ক্ষতি নয়, এটি মানুষের মনে এক ধরনের স্থায়ী আতঙ্ক তৈরি করেছে। অনেকেই বলছেন, এত ধ্বংসের মধ্যে ভবিষ্যৎ কল্পনা করাও কঠিন হয়ে গেছে।

A bearded man in a plaid shirt stands amid rubble.

যুদ্ধবিরতি, কিন্তু থামেনি মৃত্যু

যুদ্ধবিরতির পরও মাঝেমধ্যে হামলার ঘটনা ঘটছে। ড্রোনের শব্দ এখনো রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে দেয়। মানুষ বলছেন, যুদ্ধ যেন শুধু রূপ বদলেছে, কিন্তু তাদের জীবন থেকে বিদায় নেয়নি। প্রতিদিনের জীবনে অনিশ্চয়তা আর ভয়ের ছায়া রয়ে গেছে।

স্বজন হারানোর বেদনা

অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে হারানো পরিবারের সদস্যদের খুঁজছেন। কেউ কেউ প্রিয়জনের দেহ উদ্ধার করতে পেরেছেন, আবার অনেকেই এখনো অপেক্ষায় আছেন। এই অপেক্ষা এক ধরনের মানসিক যন্ত্রণা, যা প্রতিদিন নতুন করে কষ্ট দেয়। কারও বাবা, কারও সন্তান, কারও পুরো পরিবার মুহূর্তেই হারিয়ে গেছে।

A woman in a beige head scarf and coat stands in a doorway.

ঘর হারিয়ে অনিশ্চিত আশ্রয়

অসংখ্য পরিবার এখন ভাঙা বাড়ি বা অস্থায়ী আশ্রয়ে থাকছে। কোথাও স্কুলের মাঠে, কোথাও খোলা জায়গায় তাবু গড়ে উঠেছে। খাবার পাওয়া গেলেও সংরক্ষণের উপায় নেই, বিদ্যুৎ নেই, পানির সংকট নিয়মিত। বৃষ্টিও এখন ভয়ের কারণ—কারণ তা অনেক সময় আশ্রয় ভেঙে দেয়।

স্বপ্ন ভেঙে পড়ার গল্প

অনেকেরই জীবনের ছোট ছোট স্বপ্ন ছিল—একটি স্থায়ী ঘর, সন্তানদের পড়াশোনা, স্বাভাবিক জীবন। কিন্তু যুদ্ধ সেই স্বপ্নগুলো কেড়ে নিয়েছে। কেউ চাকরি খুঁজতে বের হয়ে ফিরে এসে দেখেছেন তার ঘরই আর নেই। কেউ ঋণ শোধের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে হঠাৎ সব হারিয়েছেন।

A woman in a green head scarf and a black abaya stands in a tent.

বিচ্ছিন্ন পরিবার, অজানা ভবিষ্যৎ

যুদ্ধের ভয়াবহতায় অনেক পরিবার আলাদা হয়ে গেছে। কেউ নিখোঁজ, কেউ মারা গেছে, কেউ কোথায় আছে তা জানা নেই। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অনেকেই তাদের প্রিয়জনের খোঁজ পাচ্ছেন না। এই অনিশ্চয়তা মানুষের মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

যুদ্ধের দীর্ঘ ছায়া

গাজার মানুষ বলছেন, যুদ্ধ শুধু ধ্বংস নয়, এটি মানুষের ভেতরে স্থায়ী ক্ষত তৈরি করে। আগের মতো জীবন আর ফিরে আসবে না—এই উপলব্ধি তাদের প্রতিদিন তাড়া করে। তারা বেঁচে আছেন, কিন্তু আগের জীবনে ফিরে যাওয়ার পথ যেন বন্ধ হয়ে গেছে।

An illustration featuring photos of partly destroyed buildings and rubble.