০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

নারীর অগ্রযাত্রার দিন: অর্জনের পথ, সতর্কতার ভবিষ্যৎ

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। পৃথিবীর নানা দেশের মতো বাংলাদেশেও দিনটি স্মরণ করিয়ে দেয় নারীর অধিকার, মর্যাদা ও সমতার সংগ্রামের দীর্ঘ পথচলার কথা। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের নারীরা শিক্ষা, অর্থনীতি, রাজনীতি ও সামাজিক নেতৃত্বের নানা ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি অর্জন করেছেন, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হয়েছে। তবে এই অগ্রগতির ধারাকে টেকসই রাখতে হলে সমাজকে সতর্ক থাকতে হবে—কারণ ইতিহাস বলছে, সামান্য পশ্চাদপসরণও নারীর অধিকারকে দ্রুত ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

নারী দিবস শুধু উদ্‌যাপনের দিন নয়; এটি অর্জন, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথাও মনে করিয়ে দেয়।

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস

নারীর ক্ষমতায়নের দীর্ঘ পথ

বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের গল্পটি মূলত ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকেই নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণ বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীর ভূমিকা বাড়ে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি, এনজিও কার্যক্রম এবং তৈরি পোশাক শিল্পের প্রসারের মাধ্যমে।

বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় নারী শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ, প্রাথমিক শিক্ষায় মেয়েদের অগ্রগতি এবং মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। গ্রামের নারী উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে শহরের কর্পোরেট পেশাজীবী—বাংলাদেশি নারীরা ধীরে ধীরে সমাজের প্রতিটি স্তরে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছেন।

শেখ হাসিনার সময়ে নীতিগত অগ্রগতি

গত দেড় দশকে নারী উন্নয়নের ক্ষেত্রে কিছু বড় নীতিগত পরিবর্তনও দেখা গেছে। নারীর শিক্ষা সম্প্রসারণ, কন্যাশিক্ষা ভাতা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, স্থানীয় সরকারে নারীর সংরক্ষিত আসন, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ সুবিধা—এসব উদ্যোগ নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

Maternity leave to increase - Anandabazar

গ্রামের মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে উপবৃত্তি কর্মসূচি বড় ভূমিকা পালন করে। অনেক পরিবার প্রথমবারের মতো তাদের মেয়েদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় পাঠানোর সুযোগ পায়। একই সময়ে পুলিশ, সামরিক বাহিনী, প্রশাসন এবং বিচার বিভাগেও নারীর অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে বাড়ে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একজন নারী দীর্ঘ সময় নেতৃত্ব দেওয়াও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতীকী গুরুত্ব বহন করেছে। এতে রাজনীতিতে নারীর নেতৃত্ব নিয়ে সামাজিক ধারণায়ও কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।

সাফল্যের পথে নারীর অগ্রযাত্রা

 

অর্থনীতিতে নারীর উত্থান

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্প। এই শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের বড় অংশই নারী। এর ফলে লাখ লাখ নারী প্রথমবারের মতো নিজস্ব আয় ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করেন।

শুধু শিল্প নয়, কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতেও নারীর উপস্থিতি বাড়ছে। অনেক নারী উদ্যোক্তা এখন অনলাইন ব্যবসা, হস্তশিল্প ও কৃষি উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছেন।

এই পরিবর্তন সামাজিক কাঠামোতেও প্রভাব ফেলেছে। পরিবারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে, মেয়েদের শিক্ষার গুরুত্ব বাড়ছে এবং ধীরে ধীরে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধেও সচেতনতা তৈরি হয়েছে।

নারীর ক্ষমতায়ন: আগামীর বাংলাদেশের শক্তি । খবরের কাগজ

চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে

তবে অগ্রগতির পাশাপাশি বাস্তবতায় কিছু বড় চ্যালেঞ্জ এখনো রয়েছে। নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, নিরাপত্তাহীনতা এবং সামাজিক রক্ষণশীলতার চাপ এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি।

গ্রামীণ এলাকায় অনেক মেয়েই এখনো উচ্চশিক্ষায় যেতে পারে না। কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা ও সমান মজুরির প্রশ্নও আলোচনায় রয়েছে।

এই বাস্তবতা মনে করিয়ে দেয়—নারীর ক্ষমতায়ন কোনো একক নীতির ফল নয়; এটি একটি দীর্ঘ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া।

নারী শিক্ষায় নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা

রক্ষণশীলতার উত্থান নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্লেষকদের মতে, সমাজে যদি অতিরিক্ত রক্ষণশীলতা বা মৌলবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাব বাড়ে, তাহলে নারীর অগ্রগতির পথ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ইতিহাসে অনেক দেশেই দেখা গেছে, যখন সমাজে চরম রক্ষণশীলতা শক্তিশালী হয়, তখন প্রথম আঘাত আসে নারীর স্বাধীনতা ও অধিকারেই।

মেয়েদের শিক্ষা, কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উপস্থিতি—এসব ক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে পড়তে পারে। ফলে সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হয়।

বাংলাদেশের মতো জনবহুল ও সম্ভাবনাময় দেশে নারীকে পিছিয়ে রেখে উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়—এ কথা অর্থনীতিবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীরা বহুবার উল্লেখ করেছেন।

সমতার ভবিষ্যৎ গড়ার আহ্বান

নারী দিবস তাই কেবল অতীতের অর্জন উদ্‌যাপন নয়, বরং ভবিষ্যতের দায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দেয়। শিক্ষা, আইনের শাসন, সামাজিক সচেতনতা এবং অর্থনৈতিক সুযোগ—এই চারটি স্তম্ভের ওপরই নারীর ক্ষমতায়নের ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে।

বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্পে নারীরা ইতিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সেই অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হলে সমাজকে সমতা, সহনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধের দিকেই এগিয়ে যেতে হবে।

কারণ একটি দেশের অগ্রগতি তখনই সত্যিকারের পূর্ণতা পায়, যখন তার নারী ও পুরুষ উভয়েই সমানভাবে স্বপ্ন দেখতে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে।

নারীর কর্মসংস্থান: বাংলাদেশের অগ্রগতির বড় সুযোগ । খবরের কাগজ

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

নারীর অগ্রযাত্রার দিন: অর্জনের পথ, সতর্কতার ভবিষ্যৎ

১১:১৭:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। পৃথিবীর নানা দেশের মতো বাংলাদেশেও দিনটি স্মরণ করিয়ে দেয় নারীর অধিকার, মর্যাদা ও সমতার সংগ্রামের দীর্ঘ পথচলার কথা। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের নারীরা শিক্ষা, অর্থনীতি, রাজনীতি ও সামাজিক নেতৃত্বের নানা ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি অর্জন করেছেন, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হয়েছে। তবে এই অগ্রগতির ধারাকে টেকসই রাখতে হলে সমাজকে সতর্ক থাকতে হবে—কারণ ইতিহাস বলছে, সামান্য পশ্চাদপসরণও নারীর অধিকারকে দ্রুত ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

নারী দিবস শুধু উদ্‌যাপনের দিন নয়; এটি অর্জন, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথাও মনে করিয়ে দেয়।

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস

নারীর ক্ষমতায়নের দীর্ঘ পথ

বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের গল্পটি মূলত ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকেই নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণ বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীর ভূমিকা বাড়ে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি, এনজিও কার্যক্রম এবং তৈরি পোশাক শিল্পের প্রসারের মাধ্যমে।

বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় নারী শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ, প্রাথমিক শিক্ষায় মেয়েদের অগ্রগতি এবং মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। গ্রামের নারী উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে শহরের কর্পোরেট পেশাজীবী—বাংলাদেশি নারীরা ধীরে ধীরে সমাজের প্রতিটি স্তরে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছেন।

শেখ হাসিনার সময়ে নীতিগত অগ্রগতি

গত দেড় দশকে নারী উন্নয়নের ক্ষেত্রে কিছু বড় নীতিগত পরিবর্তনও দেখা গেছে। নারীর শিক্ষা সম্প্রসারণ, কন্যাশিক্ষা ভাতা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, স্থানীয় সরকারে নারীর সংরক্ষিত আসন, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ সুবিধা—এসব উদ্যোগ নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

Maternity leave to increase - Anandabazar

গ্রামের মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে উপবৃত্তি কর্মসূচি বড় ভূমিকা পালন করে। অনেক পরিবার প্রথমবারের মতো তাদের মেয়েদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় পাঠানোর সুযোগ পায়। একই সময়ে পুলিশ, সামরিক বাহিনী, প্রশাসন এবং বিচার বিভাগেও নারীর অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে বাড়ে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একজন নারী দীর্ঘ সময় নেতৃত্ব দেওয়াও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতীকী গুরুত্ব বহন করেছে। এতে রাজনীতিতে নারীর নেতৃত্ব নিয়ে সামাজিক ধারণায়ও কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।

সাফল্যের পথে নারীর অগ্রযাত্রা

 

অর্থনীতিতে নারীর উত্থান

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্প। এই শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের বড় অংশই নারী। এর ফলে লাখ লাখ নারী প্রথমবারের মতো নিজস্ব আয় ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করেন।

শুধু শিল্প নয়, কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতেও নারীর উপস্থিতি বাড়ছে। অনেক নারী উদ্যোক্তা এখন অনলাইন ব্যবসা, হস্তশিল্প ও কৃষি উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছেন।

এই পরিবর্তন সামাজিক কাঠামোতেও প্রভাব ফেলেছে। পরিবারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে, মেয়েদের শিক্ষার গুরুত্ব বাড়ছে এবং ধীরে ধীরে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধেও সচেতনতা তৈরি হয়েছে।

নারীর ক্ষমতায়ন: আগামীর বাংলাদেশের শক্তি । খবরের কাগজ

চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে

তবে অগ্রগতির পাশাপাশি বাস্তবতায় কিছু বড় চ্যালেঞ্জ এখনো রয়েছে। নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, নিরাপত্তাহীনতা এবং সামাজিক রক্ষণশীলতার চাপ এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি।

গ্রামীণ এলাকায় অনেক মেয়েই এখনো উচ্চশিক্ষায় যেতে পারে না। কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা ও সমান মজুরির প্রশ্নও আলোচনায় রয়েছে।

এই বাস্তবতা মনে করিয়ে দেয়—নারীর ক্ষমতায়ন কোনো একক নীতির ফল নয়; এটি একটি দীর্ঘ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া।

নারী শিক্ষায় নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা

রক্ষণশীলতার উত্থান নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্লেষকদের মতে, সমাজে যদি অতিরিক্ত রক্ষণশীলতা বা মৌলবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাব বাড়ে, তাহলে নারীর অগ্রগতির পথ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ইতিহাসে অনেক দেশেই দেখা গেছে, যখন সমাজে চরম রক্ষণশীলতা শক্তিশালী হয়, তখন প্রথম আঘাত আসে নারীর স্বাধীনতা ও অধিকারেই।

মেয়েদের শিক্ষা, কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উপস্থিতি—এসব ক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে পড়তে পারে। ফলে সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হয়।

বাংলাদেশের মতো জনবহুল ও সম্ভাবনাময় দেশে নারীকে পিছিয়ে রেখে উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়—এ কথা অর্থনীতিবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীরা বহুবার উল্লেখ করেছেন।

সমতার ভবিষ্যৎ গড়ার আহ্বান

নারী দিবস তাই কেবল অতীতের অর্জন উদ্‌যাপন নয়, বরং ভবিষ্যতের দায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দেয়। শিক্ষা, আইনের শাসন, সামাজিক সচেতনতা এবং অর্থনৈতিক সুযোগ—এই চারটি স্তম্ভের ওপরই নারীর ক্ষমতায়নের ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে।

বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্পে নারীরা ইতিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সেই অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হলে সমাজকে সমতা, সহনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধের দিকেই এগিয়ে যেতে হবে।

কারণ একটি দেশের অগ্রগতি তখনই সত্যিকারের পূর্ণতা পায়, যখন তার নারী ও পুরুষ উভয়েই সমানভাবে স্বপ্ন দেখতে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে।

নারীর কর্মসংস্থান: বাংলাদেশের অগ্রগতির বড় সুযোগ । খবরের কাগজ