০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

নারীর ভোটে রেকর্ড ভাঙল পশ্চিমবঙ্গ, ইতিহাসে সর্বোচ্চ উপস্থিতি

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে নজিরবিহীন ভোটার উপস্থিতি নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে। এবার মোট ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৯২.৪৭ শতাংশ, যা রাজ্যের যেকোনো বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই রেকর্ডের কেন্দ্রে রয়েছে নারী ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ—পুরুষদের তুলনায় এবারও বেশি সংখ্যায় ভোট দিয়েছেন তারা।

নারীর অংশগ্রহণেই বদলে যাচ্ছে ভোটের চিত্র
নির্বাচনী তথ্য অনুযায়ী, এবার নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল ৯৩.২৪ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের হার ৯১.৭৪ শতাংশ। ২০১১ সালের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে নারী ভোটাররা নিয়মিতভাবে পুরুষদের ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। সেই ধারাবাহিকতা এবার আরও জোরালো হয়েছে। ২০১১ সালের নির্বাচনে যেখানে মোট ভোটদানের হার ছিল ৮৪.৭২ শতাংশ, সেখানে নারী ভোটারদের হার ছিল ৮৪.৪৫ শতাংশ এবং পুরুষদের ৮৪.২২ শতাংশ।

পরবর্তী নির্বাচনগুলোতেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ২০১৬ সালের বিধানসভা, ২০১৯ সালের লোকসভা এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নারী ভোটাররা ধারাবাহিকভাবে বেশি অংশ নিয়েছেন। শুধু ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সামান্য ব্যবধানে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ পুরুষদের চেয়ে কম ছিল।

জামায়াতসহ ৩০টির বেশি দলে নেই নারী প্রার্থী, কিন্তু কেন? - BBC News বাংলা

ইতিহাসে পিছিয়ে থেকে এগিয়ে আসা
দীর্ঘ সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গে নারী ভোটারদের উপস্থিতি পুরুষদের তুলনায় কম ছিল। ১৯৬২ সালের নির্বাচনে যেখানে পুরুষদের ভোটদানের হার ছিল ৬১.৭৭ শতাংশ, সেখানে নারীদের ছিল মাত্র ৪৭.৪৩ শতাংশ। তবে সময়ের সঙ্গে এই ব্যবধান কমতে থাকে। ২০০৯ সালের মধ্যে নারীরা প্রায় পুরুষদের সমান অবস্থানে পৌঁছে যান।

বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকারে নারীদের জন্য সংরক্ষণ চালু হওয়া এবং রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিই এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। ধীরে ধীরে নারীরা সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে অংশ নিতে শুরু করেন এবং নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠেন।

সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণও প্রভাব ফেলেছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের একটি বড় অংশ কর্মসংস্থানের জন্য রাজ্যের বাইরে চলে যাওয়ায় ভোটের সময় তারা উপস্থিত থাকতে পারেন না। অন্যদিকে, নারীরা নিয়মিতভাবে ভোট দিতে আসছেন, যা নারী ভোটারদের হার বাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নারীকেন্দ্রিক নীতির প্রভাব
রাজনীতিতে নারীদের এই অংশগ্রহণ বাড়াতে বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচিও ভূমিকা রেখেছে। মেয়েদের শিক্ষায় উৎসাহ দিতে কন্যাশ্রী, বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তায় রূপশ্রী এবং নারীদের জন্য মাসিক ভাতা হিসেবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার—এসব উদ্যোগ নারীদের মধ্যে রাজনৈতিক আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সার্বিকভাবে, পশ্চিমবঙ্গে নারী ভোটারদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ শুধু একটি নির্বাচনী পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি সামাজিক পরিবর্তনের প্রতিফলন। রাজনীতিতে নারীর সক্রিয় উপস্থিতি ভবিষ্যতের নির্বাচনী ফলাফলেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

নারীর ভোটে রেকর্ড ভাঙল পশ্চিমবঙ্গ, ইতিহাসে সর্বোচ্চ উপস্থিতি

০৫:১৪:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে নজিরবিহীন ভোটার উপস্থিতি নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে। এবার মোট ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৯২.৪৭ শতাংশ, যা রাজ্যের যেকোনো বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই রেকর্ডের কেন্দ্রে রয়েছে নারী ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ—পুরুষদের তুলনায় এবারও বেশি সংখ্যায় ভোট দিয়েছেন তারা।

নারীর অংশগ্রহণেই বদলে যাচ্ছে ভোটের চিত্র
নির্বাচনী তথ্য অনুযায়ী, এবার নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল ৯৩.২৪ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের হার ৯১.৭৪ শতাংশ। ২০১১ সালের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে নারী ভোটাররা নিয়মিতভাবে পুরুষদের ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। সেই ধারাবাহিকতা এবার আরও জোরালো হয়েছে। ২০১১ সালের নির্বাচনে যেখানে মোট ভোটদানের হার ছিল ৮৪.৭২ শতাংশ, সেখানে নারী ভোটারদের হার ছিল ৮৪.৪৫ শতাংশ এবং পুরুষদের ৮৪.২২ শতাংশ।

পরবর্তী নির্বাচনগুলোতেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ২০১৬ সালের বিধানসভা, ২০১৯ সালের লোকসভা এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নারী ভোটাররা ধারাবাহিকভাবে বেশি অংশ নিয়েছেন। শুধু ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সামান্য ব্যবধানে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ পুরুষদের চেয়ে কম ছিল।

জামায়াতসহ ৩০টির বেশি দলে নেই নারী প্রার্থী, কিন্তু কেন? - BBC News বাংলা

ইতিহাসে পিছিয়ে থেকে এগিয়ে আসা
দীর্ঘ সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গে নারী ভোটারদের উপস্থিতি পুরুষদের তুলনায় কম ছিল। ১৯৬২ সালের নির্বাচনে যেখানে পুরুষদের ভোটদানের হার ছিল ৬১.৭৭ শতাংশ, সেখানে নারীদের ছিল মাত্র ৪৭.৪৩ শতাংশ। তবে সময়ের সঙ্গে এই ব্যবধান কমতে থাকে। ২০০৯ সালের মধ্যে নারীরা প্রায় পুরুষদের সমান অবস্থানে পৌঁছে যান।

বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকারে নারীদের জন্য সংরক্ষণ চালু হওয়া এবং রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিই এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। ধীরে ধীরে নারীরা সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে অংশ নিতে শুরু করেন এবং নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠেন।

সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণও প্রভাব ফেলেছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের একটি বড় অংশ কর্মসংস্থানের জন্য রাজ্যের বাইরে চলে যাওয়ায় ভোটের সময় তারা উপস্থিত থাকতে পারেন না। অন্যদিকে, নারীরা নিয়মিতভাবে ভোট দিতে আসছেন, যা নারী ভোটারদের হার বাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নারীকেন্দ্রিক নীতির প্রভাব
রাজনীতিতে নারীদের এই অংশগ্রহণ বাড়াতে বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচিও ভূমিকা রেখেছে। মেয়েদের শিক্ষায় উৎসাহ দিতে কন্যাশ্রী, বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তায় রূপশ্রী এবং নারীদের জন্য মাসিক ভাতা হিসেবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার—এসব উদ্যোগ নারীদের মধ্যে রাজনৈতিক আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সার্বিকভাবে, পশ্চিমবঙ্গে নারী ভোটারদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ শুধু একটি নির্বাচনী পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি সামাজিক পরিবর্তনের প্রতিফলন। রাজনীতিতে নারীর সক্রিয় উপস্থিতি ভবিষ্যতের নির্বাচনী ফলাফলেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।