০৭:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশের সবচেয়ে দুর্ঘটনাপ্রবণ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ১৮ মাসে হতাহত ৯২৮ মূল্যস্ফীতি কমে ৮.২৬ শতাংশ, মজুরি বৃদ্ধিকে এখনো ছাড়িয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় এলডিসি উত্তরণ পেছাতে জাতিসংঘে বাংলাদেশের শেষ কূটনৈতিক চেষ্টা জার্মানির ‘ফায়ারওয়াল’ ভাঙছে, ইউরোপের ডানপন্থার উত্থান থেকে ব্রিটেনের কী শিক্ষা? চাকরি বদলের সাহস হারাচ্ছেন মার্কিন কর্মীরা, জমে উঠেছে ‘কম নিয়োগ, কম ছাঁটাই’ বাজার চীনের বদলে ইউরোপেই তৈরি হবে ডাসিয়া স্প্রিং, ফিরছে জনপ্রিয় সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক গাড়ি শার্শায় বেওয়ারিশ কুকুরের আতঙ্ক, এক সপ্তাহে আক্রান্ত ১১০ জন প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বাকবিতণ্ডা, এজলাস ছাড়লেন পুরো আপিল বিভাগ ধ্বংসস্তূপের নিচে ৯ দিন, তারপর অলৌকিক উদ্ধার—নেপালের বন্যায় দুই শ্রমিকের বেঁচে থাকার গল্প যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে মুসলিম ইস্যু, বাড়ছে ইসলামবিদ্বেষী রাজনীতি

নাসডাকে স্পেসএক্সের ঝড়, বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক

মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে অভিষেকের মধ্য দিয়ে নতুন এক ইতিহাস গড়লেন ইলন মাস্ক। কোম্পানিটির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর তার ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে তিনি বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন।

শেয়ারবাজারে রেকর্ড সূচনা

স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তিকে ঘিরে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। বাজার খোলার আগেই প্রতিষ্ঠানটির সমর্থক ও মহাকাশপ্রেমীদের ভিড় জমে। কেউ নভোচারীর পোশাক পরে আসেন, আবার কেউ মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি স্থাপনের স্বপ্নকে সামনে রেখে বিশেষ স্লোগানসম্বলিত টি-শার্ট পরেন।

বাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পর স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত বাড়তে থাকে। প্রাথমিকভাবে প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩৫ ডলার। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা প্রায় ১৭০ ডলারে পৌঁছে যায়। এতে কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়।

মাস্কের সম্পদ এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াল

শেয়ারের এই উল্লম্ফনের ফলে ইলন মাস্কের মোট সম্পদের মূল্য প্রায় ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। প্রযুক্তি, মহাকাশ ও উদ্ভাবননির্ভর ব্যবসার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় শীর্ষে ছিলেন। তবে স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে প্রবেশ তার সম্পদের পরিমাণকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

লোকসান সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা

মজার বিষয় হলো, স্পেসএক্স এখনও ধারাবাহিক মুনাফার কোম্পানি নয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। গত বছরও কোম্পানিটির বড় অঙ্কের লোকসান ছিল। তবু বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতের সম্ভাবনার ওপর ভরসা রেখে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি শক্তিশালী আস্থা দেখিয়েছেন।

এর প্রধান কারণ স্পেসএক্সের প্রযুক্তিগত সাফল্য। পুনর্ব্যবহারযোগ্য ফ্যালকন-৯ রকেট ইতোমধ্যে শত শত সফল মিশন সম্পন্ন করেছে। গত বছর বিশ্বব্যাপী পরিচালিত মহাকাশ উৎক্ষেপণের প্রায় অর্ধেকই ছিল এই রকেটের মাধ্যমে।

Elon Musk on pace to become world's first trillionaire by 2027, report says  | Elon Musk | The Guardian

স্টারলিংক ও স্টারশিপে ভবিষ্যতের বাজি

স্পেসএক্সের আরেকটি বড় সাফল্য স্টারলিংক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক। বর্তমানে মহাকাশে প্রতিষ্ঠানটির ১০ হাজারেরও বেশি স্যাটেলাইট রয়েছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

একই সঙ্গে কোম্পানিটি স্টারশিপ নামের নতুন প্রজন্মের বৃহৎ রকেটের উন্নয়নে কাজ করছে। এই রকেট সফলভাবে পরিচালিত হলে আরও বড় আকারের মহাকাশ মিশন সম্ভব হবে। এমনকি আগামী চন্দ্রাভিযানেও এই প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আশা করা হচ্ছে।

মহাকাশে ডেটা সেন্টারের নতুন পরিকল্পনা

স্পেসএক্সের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাগুলোর একটি হলো মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপন। পৃথিবীতে ডেটা সেন্টার পরিচালনায় প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয় এবং শীতলীকরণের জন্য বিপুল খরচ লাগে। কোম্পানিটি মনে করছে, মহাকাশের অত্যন্ত শীতল পরিবেশ এই খরচ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

এই ধারণা বাস্তবায়িত হলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং বৈশ্বিক তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন যুগের সূচনা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে সফল অভিষেক শুধু একটি কোম্পানির সাফল্যের গল্প নয়; এটি মহাকাশ অর্থনীতির দ্রুত বিস্তার এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর বিনিয়োগ প্রবণতারও একটি বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইলন মাস্কের সম্পদ এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর পেছনে স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে রেকর্ড উত্থান ও মহাকাশ প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের সবচেয়ে দুর্ঘটনাপ্রবণ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ১৮ মাসে হতাহত ৯২৮

নাসডাকে স্পেসএক্সের ঝড়, বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক

০৬:৫৫:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে অভিষেকের মধ্য দিয়ে নতুন এক ইতিহাস গড়লেন ইলন মাস্ক। কোম্পানিটির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর তার ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে তিনি বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন।

শেয়ারবাজারে রেকর্ড সূচনা

স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তিকে ঘিরে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। বাজার খোলার আগেই প্রতিষ্ঠানটির সমর্থক ও মহাকাশপ্রেমীদের ভিড় জমে। কেউ নভোচারীর পোশাক পরে আসেন, আবার কেউ মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি স্থাপনের স্বপ্নকে সামনে রেখে বিশেষ স্লোগানসম্বলিত টি-শার্ট পরেন।

বাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পর স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত বাড়তে থাকে। প্রাথমিকভাবে প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩৫ ডলার। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা প্রায় ১৭০ ডলারে পৌঁছে যায়। এতে কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়।

মাস্কের সম্পদ এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াল

শেয়ারের এই উল্লম্ফনের ফলে ইলন মাস্কের মোট সম্পদের মূল্য প্রায় ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। প্রযুক্তি, মহাকাশ ও উদ্ভাবননির্ভর ব্যবসার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় শীর্ষে ছিলেন। তবে স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে প্রবেশ তার সম্পদের পরিমাণকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

লোকসান সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা

মজার বিষয় হলো, স্পেসএক্স এখনও ধারাবাহিক মুনাফার কোম্পানি নয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। গত বছরও কোম্পানিটির বড় অঙ্কের লোকসান ছিল। তবু বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতের সম্ভাবনার ওপর ভরসা রেখে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি শক্তিশালী আস্থা দেখিয়েছেন।

এর প্রধান কারণ স্পেসএক্সের প্রযুক্তিগত সাফল্য। পুনর্ব্যবহারযোগ্য ফ্যালকন-৯ রকেট ইতোমধ্যে শত শত সফল মিশন সম্পন্ন করেছে। গত বছর বিশ্বব্যাপী পরিচালিত মহাকাশ উৎক্ষেপণের প্রায় অর্ধেকই ছিল এই রকেটের মাধ্যমে।

Elon Musk on pace to become world's first trillionaire by 2027, report says  | Elon Musk | The Guardian

স্টারলিংক ও স্টারশিপে ভবিষ্যতের বাজি

স্পেসএক্সের আরেকটি বড় সাফল্য স্টারলিংক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক। বর্তমানে মহাকাশে প্রতিষ্ঠানটির ১০ হাজারেরও বেশি স্যাটেলাইট রয়েছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

একই সঙ্গে কোম্পানিটি স্টারশিপ নামের নতুন প্রজন্মের বৃহৎ রকেটের উন্নয়নে কাজ করছে। এই রকেট সফলভাবে পরিচালিত হলে আরও বড় আকারের মহাকাশ মিশন সম্ভব হবে। এমনকি আগামী চন্দ্রাভিযানেও এই প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আশা করা হচ্ছে।

মহাকাশে ডেটা সেন্টারের নতুন পরিকল্পনা

স্পেসএক্সের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাগুলোর একটি হলো মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপন। পৃথিবীতে ডেটা সেন্টার পরিচালনায় প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয় এবং শীতলীকরণের জন্য বিপুল খরচ লাগে। কোম্পানিটি মনে করছে, মহাকাশের অত্যন্ত শীতল পরিবেশ এই খরচ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

এই ধারণা বাস্তবায়িত হলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং বৈশ্বিক তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন যুগের সূচনা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে সফল অভিষেক শুধু একটি কোম্পানির সাফল্যের গল্প নয়; এটি মহাকাশ অর্থনীতির দ্রুত বিস্তার এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর বিনিয়োগ প্রবণতারও একটি বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইলন মাস্কের সম্পদ এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর পেছনে স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে রেকর্ড উত্থান ও মহাকাশ প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা।