০৫:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

নাহিদ ইসলাম দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছেন: রাশেদ খাঁনের মন্তব্যে রাজনৈতিক উত্তাপ

রাজনীতির অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে নাহিদ ইসলামকে ঘিরে করা এক মন্তব্য। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। তিনি দাবি করেছেন, সরাসরি দুর্নীতির প্রমাণ না থাকলেও নাহিদ ইসলামের কর্মকাণ্ডে নৈতিক প্রশ্ন ওঠে।

সংসদে বক্তব্যের পরই বিতর্ক

সম্প্রতি সংসদে দাঁড়িয়ে নাহিদ ইসলাম নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত দাবি করে প্রমাণ চাওয়ার কথা বলেন। এই বক্তব্যের পরদিনই সামাজিক মাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে দুর্নীতিতে জড়িত না থাকলেও দায়িত্ব পালনকালে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার দায় এড়ানো যায় না।

উপদেষ্টা ও ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নাহিদ ইসলাম দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছেন: রাশেদ খাঁন

রাশেদ খাঁনের বক্তব্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নাহিদ ইসলামের আশপাশের অনেক ব্যক্তি দুর্নীতি, তদবির বাণিজ্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি তাঁর সাবেক ব্যক্তিগত কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ গণমাধ্যমে এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রভাব বিস্তার, নিজস্ব লোক বসানো এবং প্রশাসনিক রদবদলে ভূমিকা রাখার অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।

নিয়োগ ও রাজনৈতিক অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন

নাহিদ ইসলাম নিজেই একাধিকবার উপদেষ্টাদের ওপর আস্থার কারণে প্রতারিত হওয়ার কথা বলেছেন বলে দাবি করেন রাশেদ খাঁন। সেই উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধেই পরে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠায়, তাদের নিয়োগদাতা হিসেবে নাহিদের দায় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এর পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের অর্থায়ন নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। রাশেদ খাঁনের মতে, কিছু ধনী ব্যক্তির কাছ থেকে আসা আর্থিক সহায়তার পেছনে স্বার্থ থাকতে পারে। একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে বাণিজ্য উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের পেছনেও উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।

উপদেষ্টা থাকা অবস্থায় দল গঠন

নাহিদ ইসলাম দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছেন: রাশেদ খাঁন

সবচেয়ে বড় সমালোচনার জায়গা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, উপদেষ্টা পদে থাকা অবস্থায় রাজনৈতিক দল গঠন করা। রাশেদ খাঁনের মতে, এটি স্পষ্টভাবে নৈতিকতার পরিপন্থী। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দায়িত্বে থাকাকালে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে কোনো কার্যকর সংস্কার কেন করা হয়নি।

প্রতিশ্রুতি ও পদত্যাগের সমালোচনা

সরকারে যোগ দেওয়ার সময় বিচার, সংস্কার এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সেগুলো বাস্তবায়ন না করেই পদত্যাগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন। তার মতে, এই ব্যর্থতা রাজনৈতিক দায়ের পাশাপাশি নৈতিক দায়ও তৈরি করে।

সব মিলিয়ে, রাশেদ খাঁনের বক্তব্যে স্পষ্ট—নাহিদ ইসলাম ব্যক্তিগতভাবে দুর্নীতিতে জড়িত না থাকলেও দায়িত্ব পালনকালে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর কারণে তার নৈতিক জবাবদিহি এড়ানোর সুযোগ নেই।

নাহিদ ইসলামকে ঘিরে বিতর্ক নতুন মোড় নিচ্ছে, যা ভবিষ্যতের রাজনীতিতে আরও প্রভাব ফেলতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

নাহিদ ইসলাম দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছেন: রাশেদ খাঁনের মন্তব্যে রাজনৈতিক উত্তাপ

০৩:২৮:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

রাজনীতির অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে নাহিদ ইসলামকে ঘিরে করা এক মন্তব্য। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। তিনি দাবি করেছেন, সরাসরি দুর্নীতির প্রমাণ না থাকলেও নাহিদ ইসলামের কর্মকাণ্ডে নৈতিক প্রশ্ন ওঠে।

সংসদে বক্তব্যের পরই বিতর্ক

সম্প্রতি সংসদে দাঁড়িয়ে নাহিদ ইসলাম নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত দাবি করে প্রমাণ চাওয়ার কথা বলেন। এই বক্তব্যের পরদিনই সামাজিক মাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে দুর্নীতিতে জড়িত না থাকলেও দায়িত্ব পালনকালে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার দায় এড়ানো যায় না।

উপদেষ্টা ও ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নাহিদ ইসলাম দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছেন: রাশেদ খাঁন

রাশেদ খাঁনের বক্তব্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নাহিদ ইসলামের আশপাশের অনেক ব্যক্তি দুর্নীতি, তদবির বাণিজ্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি তাঁর সাবেক ব্যক্তিগত কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ গণমাধ্যমে এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রভাব বিস্তার, নিজস্ব লোক বসানো এবং প্রশাসনিক রদবদলে ভূমিকা রাখার অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।

নিয়োগ ও রাজনৈতিক অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন

নাহিদ ইসলাম নিজেই একাধিকবার উপদেষ্টাদের ওপর আস্থার কারণে প্রতারিত হওয়ার কথা বলেছেন বলে দাবি করেন রাশেদ খাঁন। সেই উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধেই পরে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠায়, তাদের নিয়োগদাতা হিসেবে নাহিদের দায় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এর পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের অর্থায়ন নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। রাশেদ খাঁনের মতে, কিছু ধনী ব্যক্তির কাছ থেকে আসা আর্থিক সহায়তার পেছনে স্বার্থ থাকতে পারে। একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে বাণিজ্য উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের পেছনেও উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।

উপদেষ্টা থাকা অবস্থায় দল গঠন

নাহিদ ইসলাম দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছেন: রাশেদ খাঁন

সবচেয়ে বড় সমালোচনার জায়গা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, উপদেষ্টা পদে থাকা অবস্থায় রাজনৈতিক দল গঠন করা। রাশেদ খাঁনের মতে, এটি স্পষ্টভাবে নৈতিকতার পরিপন্থী। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দায়িত্বে থাকাকালে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে কোনো কার্যকর সংস্কার কেন করা হয়নি।

প্রতিশ্রুতি ও পদত্যাগের সমালোচনা

সরকারে যোগ দেওয়ার সময় বিচার, সংস্কার এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সেগুলো বাস্তবায়ন না করেই পদত্যাগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন। তার মতে, এই ব্যর্থতা রাজনৈতিক দায়ের পাশাপাশি নৈতিক দায়ও তৈরি করে।

সব মিলিয়ে, রাশেদ খাঁনের বক্তব্যে স্পষ্ট—নাহিদ ইসলাম ব্যক্তিগতভাবে দুর্নীতিতে জড়িত না থাকলেও দায়িত্ব পালনকালে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর কারণে তার নৈতিক জবাবদিহি এড়ানোর সুযোগ নেই।

নাহিদ ইসলামকে ঘিরে বিতর্ক নতুন মোড় নিচ্ছে, যা ভবিষ্যতের রাজনীতিতে আরও প্রভাব ফেলতে পারে।