০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে দেশজুড়ে সব এফআইআর বাতিল সুপ্রিম কোর্টের

ভারতের ২০২৬ সালের নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে দায়ের হওয়া এফআইআর বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে দেওয়া বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এ নির্দেশ দেন।

আদালত বলেছে, প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী বা তরুণ যেন ফৌজদারি মামলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হন। শুধু প্রতিবাদে অংশ নেওয়াকে ফৌজদারি আইনে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না বলেও স্পষ্ট করেছে বেঞ্চ।

২০ থেকে ২৫ জুলাইয়ের সব মামলা বন্ধের নির্দেশ

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৫ জুলাইয়ের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে দায়ের হওয়া এফআইআর আর তদন্ত বা বিচারপ্রক্রিয়ার জন্য এগিয়ে নেওয়া যাবে না। আদালতের নজরে আনুষ্ঠানিকভাবে না আসা একই ঘটনার মামলাগুলোকেও বন্ধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। একই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নতুন করে কোনো এফআইআরও করা যাবে না।

কেন্দ্রীয় সরকার দিল্লি পুলিশ এবং মহারাষ্ট্র, আসাম, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাগুলো বাতিলের আবেদন করেছিল।

২ হাজার ৮৩৭ জনের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম

তবে ২ হাজার ৮৩৭ জনকে এই সাধারণ ছাড়ের বাইরে রাখা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের দাবি, তাদের গুরুতর অপরাধের অতীত রয়েছে এবং তারা প্রতিবাদস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে পৃথক এফআইআর করে সহিংসতা, শারীরিক ক্ষতি বা সরকারি সম্পত্তি নষ্টের ঘটনায় ব্যক্তিগত ভূমিকা যাচাইয়ের সুযোগ চেয়েছিল পুলিশ।

আদালত জানিয়েছে, ওই ব্যক্তিদের বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করা যাবে। তবে এই ব্যতিক্রমের কারণে সাধারণ প্রতিবাদকারীদের দেওয়া সুরক্ষা খর্ব হবে না।

৫ সেপ্টেম্বরের মিছিল প্রত্যাহার

মামলা প্রত্যাহারসহ সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগে আন্দোলনকারী সংগঠন ককক্রোচ জনতা পার্টি ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লির ইন্ডিয়া গেট থেকে দিল্লি পুলিশ সদর দপ্তর পর্যন্ত মিছিলের ডাক দিয়েছিল।

আদালতে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সরকারের দেওয়া তিনটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এগুলোর মধ্যে ছিল ২০ থেকে ২৫ জুলাইয়ের এফআইআর প্রত্যাহার, একই ঘটনায় নতুন মামলা না করা এবং ২০২৬ সালের নিট পরীক্ষা-সংক্রান্ত ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

এরপর আদালতের আশ্বাস ও আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনটির সহ-সমন্বয়ক সৌরভ দাস ৫ সেপ্টেম্বরের মিছিল প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

আত্মহত্যার ঘটনায় ক্ষতিপূরণের নীতিমালা

নিট পরীক্ষার বিষয়টি নিয়ে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য সর্বভারতীয় ক্ষতিপূরণ নীতিমালা তৈরির নির্দেশও দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রকে রাজ্যগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে নীতিমালা প্রণয়ন ও তা বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। কেন্দ্র জানিয়েছে, নীতিমালা তৈরিতে তিন মাস সময় প্রয়োজন হতে পারে। যোগ্য পরিবার শনাক্ত করার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে আদালতকে জানানো হয়েছে।

জুলাইয়ের সংঘর্ষ তদন্তে আলাদা কমিটি

২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে ঘিরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছিল। সংসদের দিকে অগ্রসর হওয়া ঠেকাতে দিল্লি পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও পেলেট গান ব্যবহার করে। বিক্ষোভকারীরা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুললেও কর্তৃপক্ষ পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও সরকারি সম্পত্তি ক্ষতির অভিযোগ করে।

ঘটনার তদন্তে সুপ্রিম কোর্ট আগে সাবেক বিচারপতি আর সুবাষ রেড্ডির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করেছিল। পুলিশি বলপ্রয়োগ, বিক্ষোভকারীদের সহিংসতা, নিরাপত্তাকর্মীদের আহত হওয়া এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতির অভিযোগসহ পেলেট গান, বৈদ্যুতিক লাঠি, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখছে কমিটি।

জুনে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ২৫ জুলাই কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার পর প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এফআইআর প্রত্যাহার ছিল আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি। সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ নির্দেশের ফলে ওই দাবিতে দেশজুড়ে কার্যকর হলো বড় ধরনের আইনি সুরক্ষা।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে দেশজুড়ে সব এফআইআর বাতিল সুপ্রিম কোর্টের

১০:২৫:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের ২০২৬ সালের নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে দায়ের হওয়া এফআইআর বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে দেওয়া বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এ নির্দেশ দেন।

আদালত বলেছে, প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী বা তরুণ যেন ফৌজদারি মামলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হন। শুধু প্রতিবাদে অংশ নেওয়াকে ফৌজদারি আইনে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না বলেও স্পষ্ট করেছে বেঞ্চ।

২০ থেকে ২৫ জুলাইয়ের সব মামলা বন্ধের নির্দেশ

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৫ জুলাইয়ের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে দায়ের হওয়া এফআইআর আর তদন্ত বা বিচারপ্রক্রিয়ার জন্য এগিয়ে নেওয়া যাবে না। আদালতের নজরে আনুষ্ঠানিকভাবে না আসা একই ঘটনার মামলাগুলোকেও বন্ধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। একই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নতুন করে কোনো এফআইআরও করা যাবে না।

কেন্দ্রীয় সরকার দিল্লি পুলিশ এবং মহারাষ্ট্র, আসাম, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাগুলো বাতিলের আবেদন করেছিল।

২ হাজার ৮৩৭ জনের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম

তবে ২ হাজার ৮৩৭ জনকে এই সাধারণ ছাড়ের বাইরে রাখা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের দাবি, তাদের গুরুতর অপরাধের অতীত রয়েছে এবং তারা প্রতিবাদস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে পৃথক এফআইআর করে সহিংসতা, শারীরিক ক্ষতি বা সরকারি সম্পত্তি নষ্টের ঘটনায় ব্যক্তিগত ভূমিকা যাচাইয়ের সুযোগ চেয়েছিল পুলিশ।

আদালত জানিয়েছে, ওই ব্যক্তিদের বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করা যাবে। তবে এই ব্যতিক্রমের কারণে সাধারণ প্রতিবাদকারীদের দেওয়া সুরক্ষা খর্ব হবে না।

৫ সেপ্টেম্বরের মিছিল প্রত্যাহার

মামলা প্রত্যাহারসহ সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগে আন্দোলনকারী সংগঠন ককক্রোচ জনতা পার্টি ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লির ইন্ডিয়া গেট থেকে দিল্লি পুলিশ সদর দপ্তর পর্যন্ত মিছিলের ডাক দিয়েছিল।

আদালতে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সরকারের দেওয়া তিনটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এগুলোর মধ্যে ছিল ২০ থেকে ২৫ জুলাইয়ের এফআইআর প্রত্যাহার, একই ঘটনায় নতুন মামলা না করা এবং ২০২৬ সালের নিট পরীক্ষা-সংক্রান্ত ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

এরপর আদালতের আশ্বাস ও আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনটির সহ-সমন্বয়ক সৌরভ দাস ৫ সেপ্টেম্বরের মিছিল প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

আত্মহত্যার ঘটনায় ক্ষতিপূরণের নীতিমালা

নিট পরীক্ষার বিষয়টি নিয়ে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য সর্বভারতীয় ক্ষতিপূরণ নীতিমালা তৈরির নির্দেশও দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রকে রাজ্যগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে নীতিমালা প্রণয়ন ও তা বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। কেন্দ্র জানিয়েছে, নীতিমালা তৈরিতে তিন মাস সময় প্রয়োজন হতে পারে। যোগ্য পরিবার শনাক্ত করার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে আদালতকে জানানো হয়েছে।

জুলাইয়ের সংঘর্ষ তদন্তে আলাদা কমিটি

২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে ঘিরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছিল। সংসদের দিকে অগ্রসর হওয়া ঠেকাতে দিল্লি পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও পেলেট গান ব্যবহার করে। বিক্ষোভকারীরা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুললেও কর্তৃপক্ষ পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও সরকারি সম্পত্তি ক্ষতির অভিযোগ করে।

ঘটনার তদন্তে সুপ্রিম কোর্ট আগে সাবেক বিচারপতি আর সুবাষ রেড্ডির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করেছিল। পুলিশি বলপ্রয়োগ, বিক্ষোভকারীদের সহিংসতা, নিরাপত্তাকর্মীদের আহত হওয়া এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতির অভিযোগসহ পেলেট গান, বৈদ্যুতিক লাঠি, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখছে কমিটি।

জুনে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ২৫ জুলাই কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার পর প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এফআইআর প্রত্যাহার ছিল আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি। সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ নির্দেশের ফলে ওই দাবিতে দেশজুড়ে কার্যকর হলো বড় ধরনের আইনি সুরক্ষা।