১১:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

নিবন্ধন কমছে, দামও পড়ছে: ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কা

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সর্বশেষ ইউরোস্ট্যাট তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে প্রধান পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। রপ্তানির পরিমাণ এবং ইউনিট মূল্য—দুই ক্ষেত্রেই পতন হওয়ায় দেশের পোশাক খাত এক ধরনের দ্বিমুখী চাপের মুখে পড়েছে।

জানুয়ারি থেকে এপ্রিল ২০২৬ সময়কালে ইইউতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট পোশাক আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৪২ শতাংশ কমে ২৭ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ইউরোতে নেমে আসে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ আমদানির পরিমাণ ছিল ৩১ বিলিয়ন ইউরো।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে বড় পতন

এই সময়ে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে ৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়ায়, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ইউরো।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো একই সঙ্গে রপ্তানির পরিমাণ ও মূল্য—দুটোই কমেছে। রপ্তানির পরিমাণ ৯ দশমিক ৯১ শতাংশ কমে ৪৩৫ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন কেজিতে নেমেছে। একই সময়ে গড় ইউনিট মূল্য ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমে প্রতি কেজি ১৩ দশমিক ৯৬ ইউরো হয়েছে।

এপ্রিলের চিত্র আরও হতাশাজনক

শুধু এপ্রিল ২০২৬ মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করলে পরিস্থিতি আরও কঠিন বলে প্রতীয়মান হয়। ওই মাসে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির মূল্য আগের বছরের এপ্রিলের তুলনায় ১৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি রপ্তানির পরিমাণ ১৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং ইউনিট মূল্য ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কা | আমার দেশ

প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর ভিন্ন কৌশল

বিশ্ববাজারে সামগ্রিকভাবে পোশাক আমদানির পরিমাণ ৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং গড় ইউনিট মূল্য ৫ দশমিক ২২ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলো ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করেছে।

চীন, যা এখনও ইইউর সবচেয়ে বড় পোশাক সরবরাহকারী, মাত্র ৪ দশমিক ৭ শতাংশ রপ্তানি আয় হারিয়েছে। দেশটি একমাত্র বড় রপ্তানিকারক, যার রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে। তবে তা সম্ভব হয়েছে ইউনিট মূল্য কমিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে।

অন্যদিকে ভিয়েতনাম রপ্তানির পরিমাণ কিছুটা কমলেও উচ্চমূল্যের পণ্যের ওপর জোর দিয়ে বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ফলে দেশটির ইউনিট মূল্য বেড়েছে এবং রপ্তানি আয়ের পতন খুব সীমিত ছিল।

তুরস্কের ক্ষেত্রে রপ্তানির পরিমাণ কমলেও ইউনিট মূল্য সামান্য বেড়েছে। ভারত রপ্তানির পরিমাণ ও মূল্য—দুই ক্ষেত্রেই কিছুটা ক্ষতির মুখে পড়েছে। পাকিস্তানের রপ্তানি পরিমাণ বেড়েছে, কিন্তু ইউনিট মূল্যে বড় পতনের কারণে দেশটির মোট আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বলছে, প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখানে রপ্তানির পরিমাণ ও ইউনিট মূল্য উভয় ক্ষেত্রেই দ্বি-অঙ্কের হারে পতন দেখা গেছে। বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়লেও অন্য দেশগুলো অন্তত একটি ক্ষেত্রে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রবণতা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে মূল্য নির্ধারণ কৌশল পুনর্বিবেচনা, উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উচ্চমূল্যের পোশাক পণ্যে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ইইউতে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের ১৯.৩৩ শতাংশ পতন, একসঙ্গে কমেছে রপ্তানির পরিমাণ ও ইউনিট মূল্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

নিবন্ধন কমছে, দামও পড়ছে: ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কা

০৮:৩৩:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সর্বশেষ ইউরোস্ট্যাট তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে প্রধান পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। রপ্তানির পরিমাণ এবং ইউনিট মূল্য—দুই ক্ষেত্রেই পতন হওয়ায় দেশের পোশাক খাত এক ধরনের দ্বিমুখী চাপের মুখে পড়েছে।

জানুয়ারি থেকে এপ্রিল ২০২৬ সময়কালে ইইউতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট পোশাক আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৪২ শতাংশ কমে ২৭ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ইউরোতে নেমে আসে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ আমদানির পরিমাণ ছিল ৩১ বিলিয়ন ইউরো।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে বড় পতন

এই সময়ে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে ৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়ায়, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ইউরো।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো একই সঙ্গে রপ্তানির পরিমাণ ও মূল্য—দুটোই কমেছে। রপ্তানির পরিমাণ ৯ দশমিক ৯১ শতাংশ কমে ৪৩৫ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন কেজিতে নেমেছে। একই সময়ে গড় ইউনিট মূল্য ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমে প্রতি কেজি ১৩ দশমিক ৯৬ ইউরো হয়েছে।

এপ্রিলের চিত্র আরও হতাশাজনক

শুধু এপ্রিল ২০২৬ মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করলে পরিস্থিতি আরও কঠিন বলে প্রতীয়মান হয়। ওই মাসে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির মূল্য আগের বছরের এপ্রিলের তুলনায় ১৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি রপ্তানির পরিমাণ ১৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং ইউনিট মূল্য ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কা | আমার দেশ

প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর ভিন্ন কৌশল

বিশ্ববাজারে সামগ্রিকভাবে পোশাক আমদানির পরিমাণ ৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং গড় ইউনিট মূল্য ৫ দশমিক ২২ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলো ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করেছে।

চীন, যা এখনও ইইউর সবচেয়ে বড় পোশাক সরবরাহকারী, মাত্র ৪ দশমিক ৭ শতাংশ রপ্তানি আয় হারিয়েছে। দেশটি একমাত্র বড় রপ্তানিকারক, যার রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে। তবে তা সম্ভব হয়েছে ইউনিট মূল্য কমিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে।

অন্যদিকে ভিয়েতনাম রপ্তানির পরিমাণ কিছুটা কমলেও উচ্চমূল্যের পণ্যের ওপর জোর দিয়ে বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ফলে দেশটির ইউনিট মূল্য বেড়েছে এবং রপ্তানি আয়ের পতন খুব সীমিত ছিল।

তুরস্কের ক্ষেত্রে রপ্তানির পরিমাণ কমলেও ইউনিট মূল্য সামান্য বেড়েছে। ভারত রপ্তানির পরিমাণ ও মূল্য—দুই ক্ষেত্রেই কিছুটা ক্ষতির মুখে পড়েছে। পাকিস্তানের রপ্তানি পরিমাণ বেড়েছে, কিন্তু ইউনিট মূল্যে বড় পতনের কারণে দেশটির মোট আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বলছে, প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখানে রপ্তানির পরিমাণ ও ইউনিট মূল্য উভয় ক্ষেত্রেই দ্বি-অঙ্কের হারে পতন দেখা গেছে। বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়লেও অন্য দেশগুলো অন্তত একটি ক্ষেত্রে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রবণতা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে মূল্য নির্ধারণ কৌশল পুনর্বিবেচনা, উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উচ্চমূল্যের পোশাক পণ্যে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ইইউতে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের ১৯.৩৩ শতাংশ পতন, একসঙ্গে কমেছে রপ্তানির পরিমাণ ও ইউনিট মূল্য।