০৮:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

নিভৃতে চলে গেলো মতিয়া চৌধুরীর জন্মদিন

  • Sarakhon Report
  • ০৫:৩৫:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
  • 678

বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ বলতেন, তুমি এভাবে ইতিহাস নির্মাণ করো, যাতে ইতিহাস সৃষ্টি হবে কিন্তু তোমাকে ইতিহাসে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। মতিয়া চৌধুরী তেমনি ব্যক্তি প্রাপ্তির অনেক দূরে থেকে ইতিহাস নির্মাণ করে গেছেন ছয় দশকের বেশি সময় ধরে। অথচ বাস্তবে ব্যক্তি মতিয়া চৌধুরী ও ইতিহাস নির্মাতা মতিয়া চৌধুরীর নব্বই ভাগই দেশের মানুষের কাছে অজানা।

বাস্তবতা হলো প্রকৃত ইতিহাস নির্মাতারা বর্তমান সময়-এর কাছে, কেন ভবিষ্যতের কাছেও, কখনই কিছু চান না—তারা শুধুই ইতিহাস নির্মাণ করে যান অনেকটা ইতিহাস নির্মাণের জন্য প্রেরিত মানব হিসেবে। এবং যে জনগোষ্ঠীর জন্য তারা গেম চেঞ্জার হিসেবে কাজ করে যান, সে জনগোষ্ঠী তাদেরকে মনে রাখবে কি রাখবে না তা নিয়েও তাদের কোনো চাহিদা থাকে না। মতিয়া চৌধুরী তাদের দলেই। তিনি কখনও আশা করেননি তাঁর জন্মদিন বা মৃত্যুদিন পালিত হোক।

কিন্তু ইতিহাস বড় পাকা জহুরি—সে সময়-এর হাজার হাজার বছরের পাথর খুঁড়ে শুধু মনিরত্নটুকু ইতিহাসে রেখে দেয়। বাদবাকি সবই ময়লা হিসেবে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। সব জনগোষ্ঠীর সব উত্থান-পতনের প্রকৃত ইতিহাস লেখা হয় হাজার বছর পরে—ওই ইতিহাসে বড় ডাস্টবিনের বস্তুরাও থাকে না, থাকে শুধু প্রকৃত মনিমুক্তাটুকু।

বাংলাদেশ, বাঙালি জাতি আর বাঙালি নারীর বীরত্বের ইতিহাস হাজার বছর পরে যখন লেখা হবে—সেখানে উজ্জ্বল মনিরত্ন হিসেবেই উঠে আসবেন মতিয়া চৌধুরী। সেখানে হয়তো অধিকাংশ রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান বা খ্যাতিক্রেতা-বিক্রেতারা কেউ থাকবেন না। থাকবে কয়েক জেনারেশানের বাঙালি মধ্যবিত্ত ঘরে জন্ম নেওয়া এক নারী—যিনি দেশ ও মানুষের মুক্তির জন্য সারাজীবন শুধু সংগ্রাম করেননি, বাস করে গেছেন অতিসাধারণ এক জীবনযাত্রাকে মেনে নিয়ে। তাই অতি সাধারণ সুতির শাড়ি পরা মতিয়া চৌধুরীর ছবি বাঙালির ইতিহাস থেকে সরানোর ক্ষমতা কেউ রাখে না। মতিয়া চৌধুরী বাঙালি হিন্দু ও বাঙালি মুসলিম নারীদের মধ্যে একজনই জন্মেছেন, তাকে ইতিহাস সেই স্থানেই রাখবে। তাঁর কীর্তি ও তিনি—দুয়েই মহৎ। তাঁকে স্মরণ না করলে জাতি নিজের শক্তি আর শেকড় থেকে ছিটকে পড়বে, দুর্বল, অসংস্কৃত ও পশ্চাদপদ জাতি হিসেবে নিজেদের তৈরি করার দিকে ঠেলে দেবে।

যতদিন পদ্মা, মেঘনা, যমুনা বহমান থাকবে, ততদিন ছাত্র আন্দোলনের অগ্নিকন্যা মতিয়া চৌধুরী, স্বাধিকার সংগ্রামের মতিয়া চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা মতিয়া চৌধুরী এবং বাংলাদেশকে কিছু সময় এর জন্য হলেও মূলখাদ্য চালে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার কারিগর মতিয়া চৌধুরী ঠিকই থাকবেন—এ জাতির প্রকৃত সন্তানদের শিরায় বহমান।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

নিভৃতে চলে গেলো মতিয়া চৌধুরীর জন্মদিন

০৫:৩৫:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫

বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ বলতেন, তুমি এভাবে ইতিহাস নির্মাণ করো, যাতে ইতিহাস সৃষ্টি হবে কিন্তু তোমাকে ইতিহাসে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। মতিয়া চৌধুরী তেমনি ব্যক্তি প্রাপ্তির অনেক দূরে থেকে ইতিহাস নির্মাণ করে গেছেন ছয় দশকের বেশি সময় ধরে। অথচ বাস্তবে ব্যক্তি মতিয়া চৌধুরী ও ইতিহাস নির্মাতা মতিয়া চৌধুরীর নব্বই ভাগই দেশের মানুষের কাছে অজানা।

বাস্তবতা হলো প্রকৃত ইতিহাস নির্মাতারা বর্তমান সময়-এর কাছে, কেন ভবিষ্যতের কাছেও, কখনই কিছু চান না—তারা শুধুই ইতিহাস নির্মাণ করে যান অনেকটা ইতিহাস নির্মাণের জন্য প্রেরিত মানব হিসেবে। এবং যে জনগোষ্ঠীর জন্য তারা গেম চেঞ্জার হিসেবে কাজ করে যান, সে জনগোষ্ঠী তাদেরকে মনে রাখবে কি রাখবে না তা নিয়েও তাদের কোনো চাহিদা থাকে না। মতিয়া চৌধুরী তাদের দলেই। তিনি কখনও আশা করেননি তাঁর জন্মদিন বা মৃত্যুদিন পালিত হোক।

কিন্তু ইতিহাস বড় পাকা জহুরি—সে সময়-এর হাজার হাজার বছরের পাথর খুঁড়ে শুধু মনিরত্নটুকু ইতিহাসে রেখে দেয়। বাদবাকি সবই ময়লা হিসেবে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। সব জনগোষ্ঠীর সব উত্থান-পতনের প্রকৃত ইতিহাস লেখা হয় হাজার বছর পরে—ওই ইতিহাসে বড় ডাস্টবিনের বস্তুরাও থাকে না, থাকে শুধু প্রকৃত মনিমুক্তাটুকু।

বাংলাদেশ, বাঙালি জাতি আর বাঙালি নারীর বীরত্বের ইতিহাস হাজার বছর পরে যখন লেখা হবে—সেখানে উজ্জ্বল মনিরত্ন হিসেবেই উঠে আসবেন মতিয়া চৌধুরী। সেখানে হয়তো অধিকাংশ রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান বা খ্যাতিক্রেতা-বিক্রেতারা কেউ থাকবেন না। থাকবে কয়েক জেনারেশানের বাঙালি মধ্যবিত্ত ঘরে জন্ম নেওয়া এক নারী—যিনি দেশ ও মানুষের মুক্তির জন্য সারাজীবন শুধু সংগ্রাম করেননি, বাস করে গেছেন অতিসাধারণ এক জীবনযাত্রাকে মেনে নিয়ে। তাই অতি সাধারণ সুতির শাড়ি পরা মতিয়া চৌধুরীর ছবি বাঙালির ইতিহাস থেকে সরানোর ক্ষমতা কেউ রাখে না। মতিয়া চৌধুরী বাঙালি হিন্দু ও বাঙালি মুসলিম নারীদের মধ্যে একজনই জন্মেছেন, তাকে ইতিহাস সেই স্থানেই রাখবে। তাঁর কীর্তি ও তিনি—দুয়েই মহৎ। তাঁকে স্মরণ না করলে জাতি নিজের শক্তি আর শেকড় থেকে ছিটকে পড়বে, দুর্বল, অসংস্কৃত ও পশ্চাদপদ জাতি হিসেবে নিজেদের তৈরি করার দিকে ঠেলে দেবে।

যতদিন পদ্মা, মেঘনা, যমুনা বহমান থাকবে, ততদিন ছাত্র আন্দোলনের অগ্নিকন্যা মতিয়া চৌধুরী, স্বাধিকার সংগ্রামের মতিয়া চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা মতিয়া চৌধুরী এবং বাংলাদেশকে কিছু সময় এর জন্য হলেও মূলখাদ্য চালে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার কারিগর মতিয়া চৌধুরী ঠিকই থাকবেন—এ জাতির প্রকৃত সন্তানদের শিরায় বহমান।