১২:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকার আহ্বান জানালেন মিজানুর রহমান আজহারী

শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা ও লেখক ড. মিজানুর রহমান আজহারী। তিনি বলেন, দেশের কোটি মানুষ প্রশাসন, দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে একটি কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন প্রত্যাশা করছে।

সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব কথা জানান।

নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের ওপর গুরুত্ব

ড. আজহারী বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আন্তরিক সদিচ্ছা ও সঠিক তৎপরতা বাংলাদেশকে নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে নিতে পারে। দায়িত্ব পালনে পূর্ণ পেশাদারিত্ব ও পক্ষপাতহীন আচরণ নিশ্চিত হলে জাতির কাছে তাদের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দেশে ফিরেছেন মিজানুর রহমান আজহারী

ঐক্যবদ্ধ জাতি ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের প্রসঙ্গ

তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ আবারও তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ এসেছে। নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। এ সময় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সচেতন, সংযমী ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

গুজব, উসকানি ও সহিংসতা এড়িয়ে চলার আহ্বান

ড. আজহারী বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে গুজব, উসকানি কিংবা দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের পরিবেশ তৈরি হতে পারে। তাই প্রতিটি সিদ্ধান্ত গুরুত্বসহকারে নেওয়া জরুরি। মতভিন্নতা থাকলেও তা যেন প্রতিহিংসা বা সহিংসতায় রূপ না নেয়— সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব বলেও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

সম্পর্ক রক্ষা ও সহাবস্থানের গুরুত্ব

রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু বা প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়াকে তিনি দুঃখজনক বাস্তবতা হিসেবে উল্লেখ করেন। যুক্তিসঙ্গত আলোচনা-সমালোচনা করা যেতে পারে, তবে কাউকে অসম্মান করা উচিত নয়। ভিন্নমতকে অবজ্ঞা না করে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। তার মতে, ঘৃণা নয়— ঐক্য ও ভালোবাসাই মানবিক সমাজের ভিত্তি।

সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্...

দোষারোপের রাজনীতি পরিহারের আহ্বান

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ ট্যাগিং-ব‍্যাশিংমুক্ত পরিচ্ছন্ন রাজনীতি দেখতে চায়। দোষারোপ ও বিভাজনের রাজনীতি কারও জন্যই কল্যাণকর নয়। রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতিপক্ষকে দোষারোপ না করে নিজেদের কর্মপরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরার পরামর্শ দেন তিনি। জনগণের রায় দেওয়ার ক্ষমতার ওপর আস্থা রাখার কথাও বলেন।

ভোটকে আমানত হিসেবে দেখার আহ্বান

ড. আজহারী বলেন, ভোট একটি আমানত, যা সততা, বিবেক ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে প্রয়োগ করা উচিত। একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে দেশের কল্যাণকর নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনার কথাও উল্লেখ করেন।

ফলাফল মেনে নেওয়া ও জাতীয় ঐক্যের আহ্বান

তিনি আরও বলেন, জনগণের সমর্থনে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাবেন, তাদের মেনে নিয়ে দেশ পরিচালনায় সহযোগিতা করা সবার কর্তব্য। ঐক্যবদ্ধ জনগণই রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেয়— এই বিশ্বাস থেকে তিনি সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজহারীকে ছেড়ে দিলো ইমিগ্রেশন পুল...

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকার আহ্বান জানালেন মিজানুর রহমান আজহারী

০২:২৮:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা ও লেখক ড. মিজানুর রহমান আজহারী। তিনি বলেন, দেশের কোটি মানুষ প্রশাসন, দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে একটি কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন প্রত্যাশা করছে।

সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব কথা জানান।

নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের ওপর গুরুত্ব

ড. আজহারী বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আন্তরিক সদিচ্ছা ও সঠিক তৎপরতা বাংলাদেশকে নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে নিতে পারে। দায়িত্ব পালনে পূর্ণ পেশাদারিত্ব ও পক্ষপাতহীন আচরণ নিশ্চিত হলে জাতির কাছে তাদের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দেশে ফিরেছেন মিজানুর রহমান আজহারী

ঐক্যবদ্ধ জাতি ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের প্রসঙ্গ

তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ আবারও তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ এসেছে। নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। এ সময় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সচেতন, সংযমী ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

গুজব, উসকানি ও সহিংসতা এড়িয়ে চলার আহ্বান

ড. আজহারী বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে গুজব, উসকানি কিংবা দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের পরিবেশ তৈরি হতে পারে। তাই প্রতিটি সিদ্ধান্ত গুরুত্বসহকারে নেওয়া জরুরি। মতভিন্নতা থাকলেও তা যেন প্রতিহিংসা বা সহিংসতায় রূপ না নেয়— সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব বলেও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

সম্পর্ক রক্ষা ও সহাবস্থানের গুরুত্ব

রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু বা প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়াকে তিনি দুঃখজনক বাস্তবতা হিসেবে উল্লেখ করেন। যুক্তিসঙ্গত আলোচনা-সমালোচনা করা যেতে পারে, তবে কাউকে অসম্মান করা উচিত নয়। ভিন্নমতকে অবজ্ঞা না করে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। তার মতে, ঘৃণা নয়— ঐক্য ও ভালোবাসাই মানবিক সমাজের ভিত্তি।

সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্...

দোষারোপের রাজনীতি পরিহারের আহ্বান

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ ট্যাগিং-ব‍্যাশিংমুক্ত পরিচ্ছন্ন রাজনীতি দেখতে চায়। দোষারোপ ও বিভাজনের রাজনীতি কারও জন্যই কল্যাণকর নয়। রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতিপক্ষকে দোষারোপ না করে নিজেদের কর্মপরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরার পরামর্শ দেন তিনি। জনগণের রায় দেওয়ার ক্ষমতার ওপর আস্থা রাখার কথাও বলেন।

ভোটকে আমানত হিসেবে দেখার আহ্বান

ড. আজহারী বলেন, ভোট একটি আমানত, যা সততা, বিবেক ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে প্রয়োগ করা উচিত। একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে দেশের কল্যাণকর নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনার কথাও উল্লেখ করেন।

ফলাফল মেনে নেওয়া ও জাতীয় ঐক্যের আহ্বান

তিনি আরও বলেন, জনগণের সমর্থনে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাবেন, তাদের মেনে নিয়ে দেশ পরিচালনায় সহযোগিতা করা সবার কর্তব্য। ঐক্যবদ্ধ জনগণই রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেয়— এই বিশ্বাস থেকে তিনি সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজহারীকে ছেড়ে দিলো ইমিগ্রেশন পুল...