০৭:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-২১)

  • Sarakhon Report
  • ১০:০০:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪
  • 147

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম


নীল গাছ বড় হওয়ার পর সে গাছ থেকে কি পরিমাণ নীল পাওয়া যাবে তা অনুমান করা এক কষ্ট সাপেক্ষ ব্যাপার, কেননা নীল গাছে তো নীল দেখা যায় না। বস্তুত নীল গাছে নীল থাকে না। আর যা থাকে তার রং নীল নয়। আসলে নীল গাছে থাকে “ইন্ডিকানা”। এটা এমন এক রাসায়নিক পদার্থ যার কোনো রং নেই- বলা যেতে পারে নীলের পূর্বাবস্থা। অভিজ্ঞ চাষীরা গাছ দেখলেই বুঝে ফেলে যে গাছ স্বাস্থ্যবতী ও পরিপক্ক কিনা বা গাছ কাটার সময় হয়েছে কিনা। কিন্তু গাছ থেকে নীল কতটুকু পাওয়া যাবে বা সে নীলের উৎকৃষ্টতা কতটুকু তা বোঝার কোনো উপায় নেই।
উৎপাদনের জটিল প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত সে রহস্যের কিনারা হবার নয়। এই গাছ থেকে নীল উৎপাদনের জটিল প্রক্রিয়া সমাপ্ত হয় বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চল জুড়ে যে অসংখ্য নীলকুঠি আছে সেখানে।
নীল প্রস্তুত একেবারে একটি গ্রামীণ শিল্প। কেননা নীল গাছ কাটার অল্পক্ষণের মধ্যেই তা প্রক্রিয়াজাত করার কাজ শুরু করতে হয়। উনবিংশ শতাব্দীতে নৌকা নির্ভর ও নদীমাতৃক বাংলাদেশে নীলকুঠি করা হত নদীর কোল ঘেষে, নীলক্ষেতের কাছে। কাটা নীল গাছগুলো নীলকুঠিতে নেয়া হত মহিষের অথবা গরুর গাড়িতে তাতে সময় লাগত আরও বেশি। তাই নজর রাখা হত নীলকুঠি যাতে হয় নদী তীরে।
নীলকুঠিতে এই গাছগুলো পানিতে ফেলে রেখে গেঁজানো হত। এই প্রক্রিয়ায় ইন্ডিকান ভেঙে গিয়ে পানিতে ভেসে উঠত এক ধরনের পদার্থ যার মধ্যে আছে হলুদ বর্ণের ইনডস্কিল ও ফ্রুকটোজ। চৌবাচ্চার পানি ফেলে দিয়ে গাছগুলোকে পেটানো হত। খানিকক্ষণ হাওয়া লাগালে ইনডক্সিল নীলে পরিণত হত। নীলের কণাগুলো ভেসে থাকত পানিতে। এগুলোকে নীল কাদার মত জমতে দেয়া হত।
জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-২১)

১০:০০:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম


নীল গাছ বড় হওয়ার পর সে গাছ থেকে কি পরিমাণ নীল পাওয়া যাবে তা অনুমান করা এক কষ্ট সাপেক্ষ ব্যাপার, কেননা নীল গাছে তো নীল দেখা যায় না। বস্তুত নীল গাছে নীল থাকে না। আর যা থাকে তার রং নীল নয়। আসলে নীল গাছে থাকে “ইন্ডিকানা”। এটা এমন এক রাসায়নিক পদার্থ যার কোনো রং নেই- বলা যেতে পারে নীলের পূর্বাবস্থা। অভিজ্ঞ চাষীরা গাছ দেখলেই বুঝে ফেলে যে গাছ স্বাস্থ্যবতী ও পরিপক্ক কিনা বা গাছ কাটার সময় হয়েছে কিনা। কিন্তু গাছ থেকে নীল কতটুকু পাওয়া যাবে বা সে নীলের উৎকৃষ্টতা কতটুকু তা বোঝার কোনো উপায় নেই।
উৎপাদনের জটিল প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত সে রহস্যের কিনারা হবার নয়। এই গাছ থেকে নীল উৎপাদনের জটিল প্রক্রিয়া সমাপ্ত হয় বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চল জুড়ে যে অসংখ্য নীলকুঠি আছে সেখানে।
নীল প্রস্তুত একেবারে একটি গ্রামীণ শিল্প। কেননা নীল গাছ কাটার অল্পক্ষণের মধ্যেই তা প্রক্রিয়াজাত করার কাজ শুরু করতে হয়। উনবিংশ শতাব্দীতে নৌকা নির্ভর ও নদীমাতৃক বাংলাদেশে নীলকুঠি করা হত নদীর কোল ঘেষে, নীলক্ষেতের কাছে। কাটা নীল গাছগুলো নীলকুঠিতে নেয়া হত মহিষের অথবা গরুর গাড়িতে তাতে সময় লাগত আরও বেশি। তাই নজর রাখা হত নীলকুঠি যাতে হয় নদী তীরে।
নীলকুঠিতে এই গাছগুলো পানিতে ফেলে রেখে গেঁজানো হত। এই প্রক্রিয়ায় ইন্ডিকান ভেঙে গিয়ে পানিতে ভেসে উঠত এক ধরনের পদার্থ যার মধ্যে আছে হলুদ বর্ণের ইনডস্কিল ও ফ্রুকটোজ। চৌবাচ্চার পানি ফেলে দিয়ে গাছগুলোকে পেটানো হত। খানিকক্ষণ হাওয়া লাগালে ইনডক্সিল নীলে পরিণত হত। নীলের কণাগুলো ভেসে থাকত পানিতে। এগুলোকে নীল কাদার মত জমতে দেয়া হত।