০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ন্যাটোতে তোষণের কৌশল কি ভেঙে পড়ছে? ট্রাম্প-রুটে সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্ন

মার্ক রুটেকে দীর্ঘদিন ধরেই এমন একজন নেতা হিসেবে দেখা হচ্ছিল, যিনি কঠিন স্বভাবের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তুলতে পারেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই ধারণা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। ন্যাটোর ভেতরে ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট রাখার যে কূটনৈতিক কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছিল, তা এখন আর আগের মতো ফল দিচ্ছে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

প্রশংসা দিয়ে সম্পর্ক ধরে রাখার চেষ্টা

ন্যাটোর মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রুটে বারবার ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। তিনি ট্রাম্পকে শক্তিশালী নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কও উষ্ণ রাখার চেষ্টা করেছেন।

একাধিক আন্তর্জাতিক বৈঠকে ট্রাম্পকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি ন্যাটো সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর কৃতিত্বও তার নেতৃত্বকে দিয়েছেন। এমনকি সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির তথ্য উপস্থাপনের সময়ও ট্রাম্পের নেতৃত্বকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

Nato says working on 'next steps' to boost Arctic security | FMT

ওয়াশিংটনে বদলে যাওয়া পরিবেশ

সাম্প্রতিক সফরে রুটে ওয়াশিংটনে গিয়ে আবারও ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেন। তবে এবার ট্রাম্পের বক্তব্যে মিত্রদের প্রতি অসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেন, তিনি ন্যাটো মিত্রদের কাছ থেকে আনুগত্য চান। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে কিছু মিত্র দেশের আচরণ নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করেন। তার মন্তব্যে বোঝা যায়, তিনি মনে করছেন কয়েকটি মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাশিত সমর্থন দেয়নি।

ন্যাটো নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অঙ্গীকার কমানো, জোটের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন এবং সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে চলমান বিতর্ক ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এই পরিস্থিতিতে রুটে একদিকে জোটের ঐক্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কও স্থিতিশীল রাখতে চাইছেন। তবে সেই ভারসাম্য রক্ষা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

Ol' Donny Trump Has Really Stepped in It This Time - The American Prospect

ব্যক্তিত্বের পার্থক্যও বড় কারণ

পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্প ও রুটের রাজনৈতিক ধরণ এবং ব্যক্তিত্ব একেবারেই ভিন্ন। রুটে দীর্ঘদিন ধরে সমঝোতা, বহুপক্ষীয় সহযোগিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কূটনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প বরাবরই ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্ব, শক্ত অবস্থান এবং সরাসরি রাজনৈতিক বার্তার ওপর জোর দেন।

এই মৌলিক পার্থক্যের কারণে ব্যক্তিগত সৌহার্দ্য থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে দুই নেতার মধ্যে রাজনৈতিক বোঝাপড়া সীমিত হয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সামনে কঠিন কূটনৈতিক পরীক্ষা

ন্যাটোর সামনে এখন নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং সদস্যদের পারস্পরিক আস্থার মতো একাধিক বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব সংকটের মধ্যে রুটের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে জোটের ঐক্য বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক ধরে রাখা।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, শুধুমাত্র প্রশংসা বা সৌজন্যমূলক কূটনীতি দিয়ে সেই লক্ষ্য অর্জন আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ন্যাটোতে তোষণের কৌশল কি ভেঙে পড়ছে? ট্রাম্প-রুটে সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্ন

১০:৫৮:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

মার্ক রুটেকে দীর্ঘদিন ধরেই এমন একজন নেতা হিসেবে দেখা হচ্ছিল, যিনি কঠিন স্বভাবের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তুলতে পারেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই ধারণা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। ন্যাটোর ভেতরে ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট রাখার যে কূটনৈতিক কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছিল, তা এখন আর আগের মতো ফল দিচ্ছে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

প্রশংসা দিয়ে সম্পর্ক ধরে রাখার চেষ্টা

ন্যাটোর মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রুটে বারবার ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। তিনি ট্রাম্পকে শক্তিশালী নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কও উষ্ণ রাখার চেষ্টা করেছেন।

একাধিক আন্তর্জাতিক বৈঠকে ট্রাম্পকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি ন্যাটো সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর কৃতিত্বও তার নেতৃত্বকে দিয়েছেন। এমনকি সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির তথ্য উপস্থাপনের সময়ও ট্রাম্পের নেতৃত্বকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

Nato says working on 'next steps' to boost Arctic security | FMT

ওয়াশিংটনে বদলে যাওয়া পরিবেশ

সাম্প্রতিক সফরে রুটে ওয়াশিংটনে গিয়ে আবারও ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেন। তবে এবার ট্রাম্পের বক্তব্যে মিত্রদের প্রতি অসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেন, তিনি ন্যাটো মিত্রদের কাছ থেকে আনুগত্য চান। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে কিছু মিত্র দেশের আচরণ নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করেন। তার মন্তব্যে বোঝা যায়, তিনি মনে করছেন কয়েকটি মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাশিত সমর্থন দেয়নি।

ন্যাটো নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অঙ্গীকার কমানো, জোটের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন এবং সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে চলমান বিতর্ক ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এই পরিস্থিতিতে রুটে একদিকে জোটের ঐক্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কও স্থিতিশীল রাখতে চাইছেন। তবে সেই ভারসাম্য রক্ষা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

Ol' Donny Trump Has Really Stepped in It This Time - The American Prospect

ব্যক্তিত্বের পার্থক্যও বড় কারণ

পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্প ও রুটের রাজনৈতিক ধরণ এবং ব্যক্তিত্ব একেবারেই ভিন্ন। রুটে দীর্ঘদিন ধরে সমঝোতা, বহুপক্ষীয় সহযোগিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কূটনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প বরাবরই ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্ব, শক্ত অবস্থান এবং সরাসরি রাজনৈতিক বার্তার ওপর জোর দেন।

এই মৌলিক পার্থক্যের কারণে ব্যক্তিগত সৌহার্দ্য থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে দুই নেতার মধ্যে রাজনৈতিক বোঝাপড়া সীমিত হয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সামনে কঠিন কূটনৈতিক পরীক্ষা

ন্যাটোর সামনে এখন নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং সদস্যদের পারস্পরিক আস্থার মতো একাধিক বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব সংকটের মধ্যে রুটের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে জোটের ঐক্য বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক ধরে রাখা।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, শুধুমাত্র প্রশংসা বা সৌজন্যমূলক কূটনীতি দিয়ে সেই লক্ষ্য অর্জন আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে।