পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে আগামী জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে। উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের সময় এ কথা জানান পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদুদ্দিন চৌধুরী অ্যানি।
পরিদর্শনে তার সঙ্গে ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এবং সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ। মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৪টি জেলায় বড় ধরনের অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটবে। কৃষি ও মৎস্য খাতেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রকল্পে ১১৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হবে। মন্ত্রী জানান, প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষা শুরু হয়েছিল ২০০৪ সালে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে এবং তারা কাজ শুরু করেছেন। সরকার প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে। পুরো অর্থায়ন আসবে দেশীয় উৎস থেকে। সাত বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
কাঠামোগত দিক থেকে প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারেজ হবে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ। এতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট, ১৮টি আন্ডারস্লুইস গেট, একটি নেভিগেশন লক এবং দুটি ফিশ পাস। ব্যারেজের ওপর দিয়ে একটি রেলসেতুও নির্মিত হবে। পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিন, রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আবদুস সালাম।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ ধরে রাখা দীর্ঘদিনের আলোচিত বিষয়। ২০০৪ সালে শুরু হওয়া কারিগরি সমীক্ষা থেকে ২০২৬ সালের অনুমোদন পর্যন্ত সময় লেগেছে দুই দশকের বেশি। এখন সাত বছরের নির্মাণকাল ধরলে হাবাসপুরের এই মাঠে গেট বসতে বসতে সমীক্ষার তারিখটি প্রায় তিন দশক পুরোনো হয়ে যাবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















