০৩:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

পরমাণু বোমার আগের হিরোশিমা-নাগাসাকি ফিরিয়ে আনছে মাইনক্রাফটের কর্মশালা

১৯৪৫ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু বোমা হামলার আগে হিরোশিমা ও নাগাসাকি কেমন ছিল—তা নতুন প্রজন্মকে বোঝাতে এবার ব্যবহার করা হচ্ছে জনপ্রিয় নির্মাণভিত্তিক কম্পিউটার খেলা মাইনক্রাফট। উদ্দেশ্য শুধু ইতিহাস শেখানো নয়, বরং পারমাণবিক হামলায় দুটি শহর কী হারিয়েছিল, তা শিশুদের কল্পনা ও নির্মাণের মাধ্যমে উপলব্ধি করানো।

টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীর উদ্যোগে ২০২৩ সাল থেকে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে দুই দিনব্যাপী এসব কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে। উদ্যোগটির সঙ্গে যুক্ত ২৭ বছর বয়সী মিসাকি কাটায়ামা শান্তি শিক্ষা নিয়ে গবেষণা করেন।

মানচিত্র, ছবি ও পুরোনো ভিডিও দেখে শহর নির্মাণ

কর্মশালায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। তারা মাইনক্রাফটের ভার্চুয়াল জগতে পরমাণু বোমা হামলার আগের হিরোশিমা ও নাগাসাকির শহরচিত্র পুনর্নির্মাণ করে।

এ কাজে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সেই সময়কার মানচিত্র, আলোকচিত্র ও ভিডিওচিত্র। এসব ঐতিহাসিক উপাদান দেখে তারা হামলার আগের শহরগুলোর রাস্তা, ভবন, বসতি ও বিভিন্ন স্থাপনা ভার্চুয়াল পরিবেশে তৈরি করার চেষ্টা করে।

Minecraft: WW2 "Little Boy" | Atomic Bomb Tutorial

ইতিহাসকে চোখের সামনে আনার চেষ্টা

১৯৪৫ সালের আগস্টে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু বোমা নিক্ষেপ করে। সেই হামলায় দুই শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত হন এবং শহরগুলোর অবকাঠামো ও জনজীবনে ভয়াবহ ধ্বংস নেমে আসে।

কিন্তু কয়েক দশক পর সেই সময়ের শহরগুলোর স্বাভাবিক চেহারা শিশুদের কাছে কেবল বইয়ের ছবি বা ইতিহাসের বর্ণনা হয়ে যেতে পারে। কর্মশালার আয়োজকদের লক্ষ্য হলো, হামলার আগের শহরকে শিশুদের নিজেদের হাতে পুনর্গঠন করিয়ে সেই হারিয়ে যাওয়া নগরজীবন সম্পর্কে তাদের উপলব্ধি তৈরি করা।

ধ্বংসের আগে কেমন ছিল দুটি শহর

মাইনক্রাফটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যখন পুরোনো মানচিত্র ও ছবির ভিত্তিতে শহরের বিভিন্ন অংশ তৈরি করে, তখন তাদের সামনে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে—পরমাণু হামলার আগে হিরোশিমা ও নাগাসাকি ছিল মানুষের বসবাস, কাজ ও দৈনন্দিন জীবনে পূর্ণ দুটি শহর।

এই পদ্ধতিতে পরমাণু হামলার ইতিহাসকে শুধু একটি ভয়াবহ ঘটনার বিবরণ হিসেবে নয়, বরং হামলার আগে সেখানে থাকা মানুষের জীবন, শহরের পরিবেশ এবং পরে ঘটে যাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে মিলিয়ে বোঝার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

কাটায়ামার এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য তাই ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নকে নতুনভাবে সামনে আনা—ধ্বংসের আগে ওই শহরগুলো কেমন ছিল এবং পারমাণবিক হামলায় আসলে কী কী হারিয়ে গিয়েছিল।

পরমাণু অস্ত্রের ভয়াবহতা বোঝানোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে শান্তি ও যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে ভাবনার সুযোগ তৈরি করাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

পরমাণু বোমার আগের হিরোশিমা-নাগাসাকি ফিরিয়ে আনছে মাইনক্রাফটের কর্মশালা

০৮:৪০:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

১৯৪৫ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু বোমা হামলার আগে হিরোশিমা ও নাগাসাকি কেমন ছিল—তা নতুন প্রজন্মকে বোঝাতে এবার ব্যবহার করা হচ্ছে জনপ্রিয় নির্মাণভিত্তিক কম্পিউটার খেলা মাইনক্রাফট। উদ্দেশ্য শুধু ইতিহাস শেখানো নয়, বরং পারমাণবিক হামলায় দুটি শহর কী হারিয়েছিল, তা শিশুদের কল্পনা ও নির্মাণের মাধ্যমে উপলব্ধি করানো।

টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীর উদ্যোগে ২০২৩ সাল থেকে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে দুই দিনব্যাপী এসব কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে। উদ্যোগটির সঙ্গে যুক্ত ২৭ বছর বয়সী মিসাকি কাটায়ামা শান্তি শিক্ষা নিয়ে গবেষণা করেন।

মানচিত্র, ছবি ও পুরোনো ভিডিও দেখে শহর নির্মাণ

কর্মশালায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। তারা মাইনক্রাফটের ভার্চুয়াল জগতে পরমাণু বোমা হামলার আগের হিরোশিমা ও নাগাসাকির শহরচিত্র পুনর্নির্মাণ করে।

এ কাজে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সেই সময়কার মানচিত্র, আলোকচিত্র ও ভিডিওচিত্র। এসব ঐতিহাসিক উপাদান দেখে তারা হামলার আগের শহরগুলোর রাস্তা, ভবন, বসতি ও বিভিন্ন স্থাপনা ভার্চুয়াল পরিবেশে তৈরি করার চেষ্টা করে।

Minecraft: WW2 "Little Boy" | Atomic Bomb Tutorial

ইতিহাসকে চোখের সামনে আনার চেষ্টা

১৯৪৫ সালের আগস্টে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু বোমা নিক্ষেপ করে। সেই হামলায় দুই শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত হন এবং শহরগুলোর অবকাঠামো ও জনজীবনে ভয়াবহ ধ্বংস নেমে আসে।

কিন্তু কয়েক দশক পর সেই সময়ের শহরগুলোর স্বাভাবিক চেহারা শিশুদের কাছে কেবল বইয়ের ছবি বা ইতিহাসের বর্ণনা হয়ে যেতে পারে। কর্মশালার আয়োজকদের লক্ষ্য হলো, হামলার আগের শহরকে শিশুদের নিজেদের হাতে পুনর্গঠন করিয়ে সেই হারিয়ে যাওয়া নগরজীবন সম্পর্কে তাদের উপলব্ধি তৈরি করা।

ধ্বংসের আগে কেমন ছিল দুটি শহর

মাইনক্রাফটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যখন পুরোনো মানচিত্র ও ছবির ভিত্তিতে শহরের বিভিন্ন অংশ তৈরি করে, তখন তাদের সামনে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে—পরমাণু হামলার আগে হিরোশিমা ও নাগাসাকি ছিল মানুষের বসবাস, কাজ ও দৈনন্দিন জীবনে পূর্ণ দুটি শহর।

এই পদ্ধতিতে পরমাণু হামলার ইতিহাসকে শুধু একটি ভয়াবহ ঘটনার বিবরণ হিসেবে নয়, বরং হামলার আগে সেখানে থাকা মানুষের জীবন, শহরের পরিবেশ এবং পরে ঘটে যাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে মিলিয়ে বোঝার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

কাটায়ামার এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য তাই ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নকে নতুনভাবে সামনে আনা—ধ্বংসের আগে ওই শহরগুলো কেমন ছিল এবং পারমাণবিক হামলায় আসলে কী কী হারিয়ে গিয়েছিল।

পরমাণু অস্ত্রের ভয়াবহতা বোঝানোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে শান্তি ও যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে ভাবনার সুযোগ তৈরি করাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।