০২:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিকথা (পর্ব-৬৪)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৪
  • 210

হিতৈষী স্কুলে

প্রতিদিন আমি আমার পিতার সঙ্গে স্কুলে যাইতাম। আমার পিতাকে আমার তখন এত ভালো লাগিত যে সর্বদা তাঁহার সঙ্গে সঙ্গে থাকিতে চাহিতাম। তিনি যেমন করিয়া খাইতেন আমি তাহা অনুকরণ করিতাম। তাঁহার মতো বড় বড় পা ফেলিয়া হাঁটিতে চেষ্টা করিতাম।

এই স্কুলের প্রথম দিনের ঘটনা আমার বিশেষ মনে নাই। আমাদের উপর-ক্লাসের একটি ছেলে বেশ সুন্দর করিয়া কবিতা আবৃত্তি করিত। তার গলার সুরটি ছিল ভারি চমৎকার।

তার আবৃত্তি করা একটি লাইন মনে পড়ে,

সাদা সাদা বকের ছানা

জল খাচ্ছে ঘাটে।

কত কালের কথা। কিন্তু এই লাইনটি ভুলিয়া যাই নাই। বোধহয় এই লাইনটির চিত্রধর্মের জন্যই উহা আমার মন হইতে মুছিয়া যায় নাই। সেকালে আমাদিগকে কিন্ডারগার্টেন পড়ানো হইত। নানা রং চিনাইবার জন্য সেই বই-এ সুন্দর সুন্দর কবিতা থাকিত। উহাদের দুই-এক লাইন এখন মনে আছে:

লম্বা লম্বা খেজুর গাছে খেজুর হয়েছে,

কতক কাঁচা কতক ডাঁসা কতক পেকেছে।

অথবা

পেঁচ দেয় না রামের ঘুড়ি উড়ে পুকুর পাড়ে,

ওদিক থেকে হরির ঘুড়ি পড়ল তাহার ঘাড়ে।

কেন জানি না, এই কবিতাগুলি পড়িতে আমার বড়ই ভালো লাগিত।

বাল্যকালে আমার স্মরণশক্তি খুব ভালো ছিল। স্কুলে বসিয়া পড়িয়াই আমি ক্লাসে প্রথম হইতাম। বাড়ি আসিয়া পড়িতে হইত না। আমাদের উপর-ক্লাসের ধীরেন্দ্র আর সতীশ নামে দু’টি ছেলে আমাকে পড়া তৈরি করিতে সাহায্য করিতেন। ধীরেনদা মারা গিয়াছেন। সতীশদা কোথায় আছেন জানি না।

আমাদের স্কুলে সাধারণত গরিব লোকদের ছেলেরাই আসিয়া ভর্তি হইত। আমার পিতা বলিয়া-কহিয়া আমাদের গ্রামের অনেকগুলি চাষী ছেলেকে এই স্কুলে আনিয়া ভর্তি করাইয়া দেন। তাহারা বাড়িতে পড়াশুনা করিবার কোনো সাহায্য পাইত না। তাই বছরের পর বছর ফেল করিত।

চলবে…

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিকথা (পর্ব-৬৪)

১১:০০:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৪

হিতৈষী স্কুলে

প্রতিদিন আমি আমার পিতার সঙ্গে স্কুলে যাইতাম। আমার পিতাকে আমার তখন এত ভালো লাগিত যে সর্বদা তাঁহার সঙ্গে সঙ্গে থাকিতে চাহিতাম। তিনি যেমন করিয়া খাইতেন আমি তাহা অনুকরণ করিতাম। তাঁহার মতো বড় বড় পা ফেলিয়া হাঁটিতে চেষ্টা করিতাম।

এই স্কুলের প্রথম দিনের ঘটনা আমার বিশেষ মনে নাই। আমাদের উপর-ক্লাসের একটি ছেলে বেশ সুন্দর করিয়া কবিতা আবৃত্তি করিত। তার গলার সুরটি ছিল ভারি চমৎকার।

তার আবৃত্তি করা একটি লাইন মনে পড়ে,

সাদা সাদা বকের ছানা

জল খাচ্ছে ঘাটে।

কত কালের কথা। কিন্তু এই লাইনটি ভুলিয়া যাই নাই। বোধহয় এই লাইনটির চিত্রধর্মের জন্যই উহা আমার মন হইতে মুছিয়া যায় নাই। সেকালে আমাদিগকে কিন্ডারগার্টেন পড়ানো হইত। নানা রং চিনাইবার জন্য সেই বই-এ সুন্দর সুন্দর কবিতা থাকিত। উহাদের দুই-এক লাইন এখন মনে আছে:

লম্বা লম্বা খেজুর গাছে খেজুর হয়েছে,

কতক কাঁচা কতক ডাঁসা কতক পেকেছে।

অথবা

পেঁচ দেয় না রামের ঘুড়ি উড়ে পুকুর পাড়ে,

ওদিক থেকে হরির ঘুড়ি পড়ল তাহার ঘাড়ে।

কেন জানি না, এই কবিতাগুলি পড়িতে আমার বড়ই ভালো লাগিত।

বাল্যকালে আমার স্মরণশক্তি খুব ভালো ছিল। স্কুলে বসিয়া পড়িয়াই আমি ক্লাসে প্রথম হইতাম। বাড়ি আসিয়া পড়িতে হইত না। আমাদের উপর-ক্লাসের ধীরেন্দ্র আর সতীশ নামে দু’টি ছেলে আমাকে পড়া তৈরি করিতে সাহায্য করিতেন। ধীরেনদা মারা গিয়াছেন। সতীশদা কোথায় আছেন জানি না।

আমাদের স্কুলে সাধারণত গরিব লোকদের ছেলেরাই আসিয়া ভর্তি হইত। আমার পিতা বলিয়া-কহিয়া আমাদের গ্রামের অনেকগুলি চাষী ছেলেকে এই স্কুলে আনিয়া ভর্তি করাইয়া দেন। তাহারা বাড়িতে পড়াশুনা করিবার কোনো সাহায্য পাইত না। তাই বছরের পর বছর ফেল করিত।

চলবে…