০৭:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

পাকিস্তানের টেলিযোগাযোগ আইন সংশোধনে বড় পরিবর্তনের সুপারিশ

পাকিস্তানের প্রস্তাবিত টেলিযোগাযোগ আইন সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই সরকারের গঠিত বিশেষ কমিটি বিলের ভাষা ও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে। দেশের ডিজিটাল সংযোগ উন্নত করার লক্ষ্য থাকলেও নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দিয়েছে কমিটি।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত এই বিশেষ কমিটির নেতৃত্ব দেন দেশটির আইনমন্ত্রী। সম্প্রতি জাতীয় পরিষদে বিলটি অনুমোদিত হলেও এর বিভিন্ন ধারা নিয়ে আপত্তি ওঠার পর নতুন করে পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অধিকার ও নাগরিক সুরক্ষার ওপর জোর

কমিটি বিলের সংশোধনী প্রস্তাব এবং বিদ্যমান আইনি কাঠামো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছে। পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ডিজিটাল অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি নাগরিকদের সম্পত্তির অধিকার এবং ব্যক্তিগত স্বার্থও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

Telecom bill won't infringe on private rights: minister - Newspaper -  DAWN.COM

কমিটির মতে, বিলের কয়েকটি ধারার ভাষা অস্পষ্ট হওয়ায় ভবিষ্যতে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই আইন কার্যকরের আগে এসব ধারা আরও পরিষ্কারভাবে পুনর্লিখনের প্রয়োজন রয়েছে।

টেলিকম টাওয়ার ও অপটিক ফাইবার নিয়ে বিভ্রান্তি

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ভূমির ওপর স্থাপিত টেলিকম টাওয়ার এবং ভূগর্ভস্থ অপটিক ফাইবার অবকাঠামোকে একই ধারায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা প্রযুক্তিগতভাবে যথাযথ নয়। কমিটি বলেছে, এই দুই ধরনের অবকাঠামোর সংজ্ঞা, ব্যবহার এবং অধিকার সম্পর্কিত বিষয়গুলো আলাদা করে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া ‘ভূমি ব্যবহারের অধিকার’, ‘ভূগর্ভস্থ স্থাপনা’ এবং ‘ভূমির ওপর স্থাপনা’—এসব পরিভাষার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রাখারও সুপারিশ করা হয়েছে।

ব্যক্তিগত সম্পত্তির ক্ষেত্রে মালিকের সম্মতি বাধ্যতামূলক

কমিটি জোর দিয়ে বলেছে, কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো স্থাপন বা প্রবেশের ক্ষেত্রে সম্পত্তির মালিকের সম্মতি এবং পারস্পরিক চুক্তি বাধ্যতামূলক হতে হবে।

Telecom Amendment Bill triggers heated debate in Senate committee

মালিকের অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না বলেও সুপারিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার আরও শক্তিশালীভাবে সুরক্ষিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সরকারি ও আবাসন প্রকল্পের ক্ষেত্রেও স্পষ্টতা চাওয়া

কমিটি আরও বলেছে, সরকারি প্রতিষ্ঠান, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণাধীন জমির ক্ষেত্রে আইনটি কীভাবে প্রয়োগ হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে আবাসন সমবায়, হাউজিং সোসাইটি এবং অনুরূপ প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ও স্থাপনার ওপর আইনটির প্রয়োগ সম্পর্কেও পরিষ্কার নির্দেশনা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়িত হলে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি সম্পত্তির মালিকদের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রেও ভারসাম্য তৈরি হবে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

পাকিস্তানের টেলিযোগাযোগ আইন সংশোধনে বড় পরিবর্তনের সুপারিশ

১২:৩৩:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

পাকিস্তানের প্রস্তাবিত টেলিযোগাযোগ আইন সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই সরকারের গঠিত বিশেষ কমিটি বিলের ভাষা ও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে। দেশের ডিজিটাল সংযোগ উন্নত করার লক্ষ্য থাকলেও নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দিয়েছে কমিটি।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত এই বিশেষ কমিটির নেতৃত্ব দেন দেশটির আইনমন্ত্রী। সম্প্রতি জাতীয় পরিষদে বিলটি অনুমোদিত হলেও এর বিভিন্ন ধারা নিয়ে আপত্তি ওঠার পর নতুন করে পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অধিকার ও নাগরিক সুরক্ষার ওপর জোর

কমিটি বিলের সংশোধনী প্রস্তাব এবং বিদ্যমান আইনি কাঠামো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছে। পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ডিজিটাল অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি নাগরিকদের সম্পত্তির অধিকার এবং ব্যক্তিগত স্বার্থও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

Telecom bill won't infringe on private rights: minister - Newspaper -  DAWN.COM

কমিটির মতে, বিলের কয়েকটি ধারার ভাষা অস্পষ্ট হওয়ায় ভবিষ্যতে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই আইন কার্যকরের আগে এসব ধারা আরও পরিষ্কারভাবে পুনর্লিখনের প্রয়োজন রয়েছে।

টেলিকম টাওয়ার ও অপটিক ফাইবার নিয়ে বিভ্রান্তি

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ভূমির ওপর স্থাপিত টেলিকম টাওয়ার এবং ভূগর্ভস্থ অপটিক ফাইবার অবকাঠামোকে একই ধারায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা প্রযুক্তিগতভাবে যথাযথ নয়। কমিটি বলেছে, এই দুই ধরনের অবকাঠামোর সংজ্ঞা, ব্যবহার এবং অধিকার সম্পর্কিত বিষয়গুলো আলাদা করে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া ‘ভূমি ব্যবহারের অধিকার’, ‘ভূগর্ভস্থ স্থাপনা’ এবং ‘ভূমির ওপর স্থাপনা’—এসব পরিভাষার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রাখারও সুপারিশ করা হয়েছে।

ব্যক্তিগত সম্পত্তির ক্ষেত্রে মালিকের সম্মতি বাধ্যতামূলক

কমিটি জোর দিয়ে বলেছে, কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো স্থাপন বা প্রবেশের ক্ষেত্রে সম্পত্তির মালিকের সম্মতি এবং পারস্পরিক চুক্তি বাধ্যতামূলক হতে হবে।

Telecom Amendment Bill triggers heated debate in Senate committee

মালিকের অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না বলেও সুপারিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার আরও শক্তিশালীভাবে সুরক্ষিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সরকারি ও আবাসন প্রকল্পের ক্ষেত্রেও স্পষ্টতা চাওয়া

কমিটি আরও বলেছে, সরকারি প্রতিষ্ঠান, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণাধীন জমির ক্ষেত্রে আইনটি কীভাবে প্রয়োগ হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে আবাসন সমবায়, হাউজিং সোসাইটি এবং অনুরূপ প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ও স্থাপনার ওপর আইনটির প্রয়োগ সম্পর্কেও পরিষ্কার নির্দেশনা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়িত হলে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি সম্পত্তির মালিকদের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রেও ভারসাম্য তৈরি হবে।