১১:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

পাকিস্তানের পাঞ্জাবে আবর্জনাই সম্পদ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন দিগন্ত

পাকিস্তানের সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ পাঞ্জাবে গৃহস্থালি আবর্জনা এখন আর শুধু বর্জ্য নয়, বরং অর্থনীতি ও জ্বালানির সম্ভাবনাময় সম্পদ। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ঘরোয়া বর্জ্য সংগ্রহ করে সেই আবর্জনা থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে এগোচ্ছে প্রদেশটি। লক্ষ্য একদিকে পরিবেশ রক্ষা, অন্যদিকে টেকসই জ্বালানি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

পরিচ্ছন্নতার বিস্তৃত উদ্যোগ
পাঞ্জাবে প্রায় তেরো কোটি মানুষের বসবাস। গ্রাম ও শহর মিলিয়ে বিস্তৃত এই অঞ্চলের বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার বাইরে ছিল। সেই বাস্তবতায় গত বছর প্রাদেশিক সরকার নতুন একটি পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চালু করে। সুত্রা পাঞ্জাব কর্তৃপক্ষের অধীনে এই ব্যবস্থায় এখন প্রতিদিন প্রায় পঞ্চাশ হাজার মেট্রিক টন গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি আকার ও বিস্তৃতির দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম বড় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ।

Image

ডিজিটাল নজরদারি ও কর্মসংস্থান
এই ব্যবস্থায় দরজায় দরজায় আবর্জনা সংগ্রহ করা হয়। শহরের ভেতরে অস্থায়ী স্থানে বর্জ্য রাখা হয় এবং পরে তা ল্যান্ডফিল এলাকায় পাঠানো হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটালভাবে নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। লাহোরের নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বর্জ্য সংগ্রহের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যায়। এই উদ্যোগে এক লক্ষের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং হাজার হাজার যানবাহন ব্যবহার করা হচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও গতি এনেছে।

অর্থনীতি ও ফি কাঠামো
গত বছর সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করে কোটি কোটি টন বর্জ্য সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থাকে স্বনির্ভর করতে গৃহস্থালি পর্যায়ে সামান্য ফি চালু করা হয়েছে। বাড়ির আকার ও অবস্থান অনুযায়ী এই ফি নির্ধারিত হচ্ছে। লক্ষ্য হচ্ছে, এই ফি থেকেই ভবিষ্যতে পুরো ব্যবস্থার ব্যয় নির্বাহ করা।

Image

বিদ্যুৎ উৎপাদনে আবর্জনা
পাঞ্জাব সরকার এখন বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় প্রকল্পে এগোচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিদিন কয়েক হাজার টন মিশ্র বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে, যা নগরের বিপুল সংখ্যক পরিবারের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। এই বিদ্যুৎ সরকারি দপ্তর, শিল্প এলাকা, আবাসন প্রকল্প ও নগর পরিবহন ব্যবস্থায় সরবরাহের কথা ভাবা হচ্ছে।

বিদেশি বিনিয়োগের আগ্রহ
এই প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে চীন ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কর্তৃপক্ষের আশা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে আরও আন্তর্জাতিক অংশীদার যুক্ত হবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি একটি টেকসই সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বের মডেল হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

Image

গ্রাম থেকে শহরে প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় শহরের পাশাপাশি ছোট শহর ও গ্রামগুলোই এই কর্মসূচির সবচেয়ে বড় সুফল পাচ্ছে। যেখানে আগে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছিল না, সেখানে এখন নিয়মিত সংগ্রহ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত হচ্ছে। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমছে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

পাকিস্তানের পাঞ্জাবে আবর্জনাই সম্পদ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন দিগন্ত

০৮:১৭:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

পাকিস্তানের সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ পাঞ্জাবে গৃহস্থালি আবর্জনা এখন আর শুধু বর্জ্য নয়, বরং অর্থনীতি ও জ্বালানির সম্ভাবনাময় সম্পদ। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ঘরোয়া বর্জ্য সংগ্রহ করে সেই আবর্জনা থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে এগোচ্ছে প্রদেশটি। লক্ষ্য একদিকে পরিবেশ রক্ষা, অন্যদিকে টেকসই জ্বালানি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

পরিচ্ছন্নতার বিস্তৃত উদ্যোগ
পাঞ্জাবে প্রায় তেরো কোটি মানুষের বসবাস। গ্রাম ও শহর মিলিয়ে বিস্তৃত এই অঞ্চলের বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার বাইরে ছিল। সেই বাস্তবতায় গত বছর প্রাদেশিক সরকার নতুন একটি পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চালু করে। সুত্রা পাঞ্জাব কর্তৃপক্ষের অধীনে এই ব্যবস্থায় এখন প্রতিদিন প্রায় পঞ্চাশ হাজার মেট্রিক টন গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি আকার ও বিস্তৃতির দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম বড় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ।

Image

ডিজিটাল নজরদারি ও কর্মসংস্থান
এই ব্যবস্থায় দরজায় দরজায় আবর্জনা সংগ্রহ করা হয়। শহরের ভেতরে অস্থায়ী স্থানে বর্জ্য রাখা হয় এবং পরে তা ল্যান্ডফিল এলাকায় পাঠানো হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটালভাবে নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। লাহোরের নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বর্জ্য সংগ্রহের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যায়। এই উদ্যোগে এক লক্ষের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং হাজার হাজার যানবাহন ব্যবহার করা হচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও গতি এনেছে।

অর্থনীতি ও ফি কাঠামো
গত বছর সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করে কোটি কোটি টন বর্জ্য সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থাকে স্বনির্ভর করতে গৃহস্থালি পর্যায়ে সামান্য ফি চালু করা হয়েছে। বাড়ির আকার ও অবস্থান অনুযায়ী এই ফি নির্ধারিত হচ্ছে। লক্ষ্য হচ্ছে, এই ফি থেকেই ভবিষ্যতে পুরো ব্যবস্থার ব্যয় নির্বাহ করা।

Image

বিদ্যুৎ উৎপাদনে আবর্জনা
পাঞ্জাব সরকার এখন বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় প্রকল্পে এগোচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিদিন কয়েক হাজার টন মিশ্র বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে, যা নগরের বিপুল সংখ্যক পরিবারের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। এই বিদ্যুৎ সরকারি দপ্তর, শিল্প এলাকা, আবাসন প্রকল্প ও নগর পরিবহন ব্যবস্থায় সরবরাহের কথা ভাবা হচ্ছে।

বিদেশি বিনিয়োগের আগ্রহ
এই প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে চীন ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কর্তৃপক্ষের আশা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে আরও আন্তর্জাতিক অংশীদার যুক্ত হবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি একটি টেকসই সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বের মডেল হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

Image

গ্রাম থেকে শহরে প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় শহরের পাশাপাশি ছোট শহর ও গ্রামগুলোই এই কর্মসূচির সবচেয়ে বড় সুফল পাচ্ছে। যেখানে আগে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছিল না, সেখানে এখন নিয়মিত সংগ্রহ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত হচ্ছে। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমছে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে।