১১:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

পাকিস্তানের হিন্দুরা ভারত নয়, পাকিস্তানেই থাকতে চান—জারদারির দাবি

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি দাবি করেছেন, দেশটির হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ভারতের তুলনায় পাকিস্তানেই থাকতে বেশি আগ্রহী। ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও কৌশলগত পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ভারতীয়রা ‘অখণ্ড ভারত’-এর ধারণায় বিশ্বাস করলেও পাকিস্তানের মানুষ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করে।

১৪ আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় জারদারি এসব মন্তব্য করেন। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক, দুই দেশের রাজনৈতিক অবস্থান এবং পাকিস্তানের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি পাকিস্তানে বসবাসরত হিন্দুদের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।

‘অখণ্ড ভারত’-এর ধারণা নিয়ে জারদারির মন্তব্য

জারদারি বলেন, ভারতীয়রা অখণ্ড ভারতের ধারণায় বিশ্বাস করেন। এর বিপরীতে পাকিস্তানের মুসলমানদের তিনি এমন একটি মানসিকতার মানুষ হিসেবে তুলে ধরেন, যারা অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি সহনশীল।

পাকিস্তানে প্রায় চার শতাংশ হিন্দু জনগোষ্ঠী রয়েছে উল্লেখ করে জারদারি দাবি করেন, দেশটির হিন্দুরা নিজেদের ধর্ম পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন এবং তারা ভারতের পরিবর্তে পাকিস্তানের সঙ্গেই থাকতে চান।

4% Hindu Population In Pakistan, They'd Rather Be With Us Than India': Prez Zardari  Claims, Mentions 'Akhand Bharat'

তবে জারদারির এই বক্তব্য তাঁর নিজস্ব দাবি হিসেবেই এসেছে। পাকিস্তানের হিন্দু জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক মতামত হিসেবে এটিকে দেখার সুযোগ নেই।

স্বাধীনতা দিবসে শান্তি ও শক্তির বার্তা

পাকিস্তানের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশটির বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব জাতীয় ঐক্য, শান্তি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, পাকিস্তান যুদ্ধ চায় না, তারা শান্তি চায়। তবে শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে যেন দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করা না হয়, সে বিষয়েও তিনি সতর্ক করেছেন।

ভারতের সঙ্গে গত বছরের সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে শরিফ বলেন, পাকিস্তান তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অটল থাকবে। বিশেষ করে পানিসম্পদের অধিকারকে তিনি পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন।

সিন্ধু নদের পানি ও কাশ্মীর প্রসঙ্গ

২০২৫ সালের মে মাসে পাহেলগাম হামলার পর ভারত পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালায়। এর পর চার দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।

পরবর্তীতে সংঘাত বন্ধের বিষয়ে দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছায়।

শাহবাজ শরিফ ভারতের বিরুদ্ধে সিন্ধু নদের পানি বণ্টন চুক্তি একতরফাভাবে স্থগিত করার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের পানির প্রতিটি ফোঁটাই তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।

Zardari Claims India Believes in 'Akhand Bharat' But Pakistan Hindus Prefer  Staying With Us | Times Now

তিনি একই সঙ্গে কাশ্মীর ইস্যুও সামনে আনেন। আফগানিস্তানের ভূখণ্ড যেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে কাবুলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন শরিফ। তাঁর মতে, এ ধরনের আঞ্চলিক সহযোগিতা পাকিস্তানের কৌশলগত গুরুত্বকে আরও বাড়াচ্ছে।

যুদ্ধবিরতিতে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা

ভারত-পাকিস্তান সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকারও প্রশংসা করেন শাহবাজ শরিফ। তিনি যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ট্রাম্পের ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

তবে ভারত তৃতীয় কোনো পক্ষের মধ্যস্থতার দাবি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

অন্যদিকে, স্বাধীনতা দিবসের বক্তব্যে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর প্রশংসা করেন জারদারি। সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের নেতৃত্বে গত বছরের সংঘাতে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ভারতকে ‘উপযুক্ত জবাব’ দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জারদারির হিন্দুদের নিয়ে মন্তব্যের পাশাপাশি শরিফের পানি ও কাশ্মীর প্রসঙ্গ এবং সামরিক নেতৃত্বের বক্তব্য—সব মিলিয়ে পাকিস্তানের এবারের স্বাধীনতা দিবসের বার্তায় একই সঙ্গে শান্তির আহ্বান, জাতীয় স্বার্থ রক্ষার দৃঢ়তা এবং ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের বিষয়গুলোই গুরুত্ব পেয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

পাকিস্তানের হিন্দুরা ভারত নয়, পাকিস্তানেই থাকতে চান—জারদারির দাবি

০২:২৮:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি দাবি করেছেন, দেশটির হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ভারতের তুলনায় পাকিস্তানেই থাকতে বেশি আগ্রহী। ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও কৌশলগত পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ভারতীয়রা ‘অখণ্ড ভারত’-এর ধারণায় বিশ্বাস করলেও পাকিস্তানের মানুষ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করে।

১৪ আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় জারদারি এসব মন্তব্য করেন। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক, দুই দেশের রাজনৈতিক অবস্থান এবং পাকিস্তানের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি পাকিস্তানে বসবাসরত হিন্দুদের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।

‘অখণ্ড ভারত’-এর ধারণা নিয়ে জারদারির মন্তব্য

জারদারি বলেন, ভারতীয়রা অখণ্ড ভারতের ধারণায় বিশ্বাস করেন। এর বিপরীতে পাকিস্তানের মুসলমানদের তিনি এমন একটি মানসিকতার মানুষ হিসেবে তুলে ধরেন, যারা অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি সহনশীল।

পাকিস্তানে প্রায় চার শতাংশ হিন্দু জনগোষ্ঠী রয়েছে উল্লেখ করে জারদারি দাবি করেন, দেশটির হিন্দুরা নিজেদের ধর্ম পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন এবং তারা ভারতের পরিবর্তে পাকিস্তানের সঙ্গেই থাকতে চান।

4% Hindu Population In Pakistan, They'd Rather Be With Us Than India': Prez Zardari  Claims, Mentions 'Akhand Bharat'

তবে জারদারির এই বক্তব্য তাঁর নিজস্ব দাবি হিসেবেই এসেছে। পাকিস্তানের হিন্দু জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক মতামত হিসেবে এটিকে দেখার সুযোগ নেই।

স্বাধীনতা দিবসে শান্তি ও শক্তির বার্তা

পাকিস্তানের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশটির বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব জাতীয় ঐক্য, শান্তি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, পাকিস্তান যুদ্ধ চায় না, তারা শান্তি চায়। তবে শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে যেন দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করা না হয়, সে বিষয়েও তিনি সতর্ক করেছেন।

ভারতের সঙ্গে গত বছরের সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে শরিফ বলেন, পাকিস্তান তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অটল থাকবে। বিশেষ করে পানিসম্পদের অধিকারকে তিনি পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন।

সিন্ধু নদের পানি ও কাশ্মীর প্রসঙ্গ

২০২৫ সালের মে মাসে পাহেলগাম হামলার পর ভারত পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালায়। এর পর চার দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।

পরবর্তীতে সংঘাত বন্ধের বিষয়ে দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছায়।

শাহবাজ শরিফ ভারতের বিরুদ্ধে সিন্ধু নদের পানি বণ্টন চুক্তি একতরফাভাবে স্থগিত করার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের পানির প্রতিটি ফোঁটাই তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।

Zardari Claims India Believes in 'Akhand Bharat' But Pakistan Hindus Prefer  Staying With Us | Times Now

তিনি একই সঙ্গে কাশ্মীর ইস্যুও সামনে আনেন। আফগানিস্তানের ভূখণ্ড যেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে কাবুলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন শরিফ। তাঁর মতে, এ ধরনের আঞ্চলিক সহযোগিতা পাকিস্তানের কৌশলগত গুরুত্বকে আরও বাড়াচ্ছে।

যুদ্ধবিরতিতে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা

ভারত-পাকিস্তান সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকারও প্রশংসা করেন শাহবাজ শরিফ। তিনি যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ট্রাম্পের ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

তবে ভারত তৃতীয় কোনো পক্ষের মধ্যস্থতার দাবি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

অন্যদিকে, স্বাধীনতা দিবসের বক্তব্যে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর প্রশংসা করেন জারদারি। সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের নেতৃত্বে গত বছরের সংঘাতে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ভারতকে ‘উপযুক্ত জবাব’ দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জারদারির হিন্দুদের নিয়ে মন্তব্যের পাশাপাশি শরিফের পানি ও কাশ্মীর প্রসঙ্গ এবং সামরিক নেতৃত্বের বক্তব্য—সব মিলিয়ে পাকিস্তানের এবারের স্বাধীনতা দিবসের বার্তায় একই সঙ্গে শান্তির আহ্বান, জাতীয় স্বার্থ রক্ষার দৃঢ়তা এবং ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের বিষয়গুলোই গুরুত্ব পেয়েছে।