১০:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চীনের বিশাল বাজারকে এক কণ্ঠে কথা বলাতে বেইজিংয়ের নতুন কৌশল ট্রাম্পের ক্ষমতার প্রয়োগে যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চাপে ভারতে আদানির গোড্ডা কেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ, বাংলাদেশে বাড়ছে লোডশেডিং পাকিস্তানে নতুন প্রদেশ গঠনে গণভোট, আগে সংসদের অনুমোদন: রানা সানাউল্লাহ উপকূলীয় শহরে গ্রিজলির হানা, স্কুলে আশ্রয় নির্দেশ; ‘সহাবস্থান’ নাকি সরিয়ে নেওয়া—দ্বিধায় বাসিন্দারা মূল্যস্ফীতি ৩.৪%-এ অনড়, সুদ বাড়ানোর পথে ফেড চীনা স্যাটেলাইটের ছবি ব্যবহার করেই কি ইরান হামলা চালিয়েছিল মার্কিন ঘাঁটিতে? শান্তির দূত হতে চায় ব্রিকস, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে শির সঙ্গে মোদির বৈঠক পদ্মার পানি বাড়ছে, দৌলতপুরে ৩৫ গ্রামের ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রাজধানীর আদাবরে ১০ টুকরো মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় মেলেনি

পাকিস্তানে নতুন প্রদেশ গঠনে গণভোট, আগে সংসদের অনুমোদন: রানা সানাউল্লাহ

পাকিস্তানে নতুন প্রদেশ গঠনের বিষয়ে গণভোট আয়োজনের আগে সংসদের যৌথ অধিবেশনের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ শনিবার এ কথা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, নতুন প্রদেশ গঠন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপযুক্ত জায়গা সংসদ।

লাহোরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রানা সানাউল্লাহ বলেন, সংসদের অনুমোদন পাওয়ার পরই এ বিষয়ে গণভোট আয়োজনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। তবে বিষয়টি এখনো মন্ত্রিসভায় তোলা হয়নি এবং তাঁর দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজও এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান চূড়ান্ত করতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

সংসদেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

রানা সানাউল্লাহ জানান, বিষয়টি সংসদে উত্থাপিত হলে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ তাদের নীতিগত অবস্থান জানাবে। নতুন প্রদেশ গঠন করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত সংসদের মাধ্যমেই নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, সংসদে বিষয়টি এলে সব রাজনৈতিক দল নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে পারবে এবং সংসদের সিদ্ধান্ত তারা মেনে নেবে। দলের অবস্থান চূড়ান্ত করার সময় জেলা ও ইউনিয়ন কাউন্সিল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতামতও বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে সংসদবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরীর সাম্প্রতিক মন্তব্যেরও মিল রয়েছে। তিনি জানিয়েছিলেন, নতুন প্রদেশ গঠন নিয়ে সংসদীয় আলোচনা অক্টোবরে হতে পারে।Referendum on new provinces subject to parliament's nod: Sanaullah

বিতর্কের সূত্রপাত যেভাবে

নতুন প্রদেশ ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে বিতর্কটি জুলাইয়ে জোরালো হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে দাবি করে মৌলিক সংস্কারের আহ্বান জানান। তিনি অধিক ক্ষমতা স্থানীয় পর্যায়ে হস্তান্তরের মাধ্যমে নতুন প্রশাসনিক ইউনিট গঠনের পক্ষে মত দেন।

পরে তিনি বক্তব্যে অটল থেকে স্পষ্ট করেন, কোনো নির্দিষ্ট সরকারের সমালোচনা নয়, বরং গত ৮০ বছরে ব্যবস্থার অবনতির কথা বোঝাতে তিনি এমন মন্তব্য করেছিলেন।

৫ সেপ্টেম্বর নকভি বলেন, নতুন প্রশাসনিক ইউনিট গঠনের ভিত্তি হতে হবে জনগণের ইচ্ছার ওপর। তিনি এটিকে পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থায় ‘রিসেট’-এর প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে যুক্ত করেন এবং বলেন, জনগণের সমর্থন ছাড়া এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ এগোবে না।

এরপর পরিকল্পনা ও উন্নয়নমন্ত্রী আহসান ইকবালও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরুর আহ্বান জানান। তিনি পাকিস্তানে ১২ থেকে ১৫টি প্রদেশ গঠনের প্রস্তাব দেন।

বিরোধীদেরও সম্মেলনের উদ্যোগ

এদিকে নতুন প্রদেশ গঠন নিয়ে বিরোধী দলগুলোর মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর আলী খান শুক্রবার জানান, এ বিষয়ে যৌথ বিরোধী জোট শিগগিরই সর্বদলীয় সম্মেলন আয়োজন করবে।

জামিয়তে উলামায়ে ইসলাম-ফজলের প্রধান ফজলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ ঘোষণা দেন। সংসদ অধিবেশন, কারাবন্দিদের বিভিন্ন বিষয় এবং নতুন প্রদেশ গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে যৌথভাবে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।

এদিকে রানা সানাউল্লাহ পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির মধ্যকার সাম্প্রতিক টানাপোড়েন কমেছে বলেও দাবি করেন। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম কমানোর পক্ষে দলের অবস্থান জানান। জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাবিত লংমার্চ এক থেকে দুই সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি প্রত্যাশা করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের বিশাল বাজারকে এক কণ্ঠে কথা বলাতে বেইজিংয়ের নতুন কৌশল

পাকিস্তানে নতুন প্রদেশ গঠনে গণভোট, আগে সংসদের অনুমোদন: রানা সানাউল্লাহ

০৯:০২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানে নতুন প্রদেশ গঠনের বিষয়ে গণভোট আয়োজনের আগে সংসদের যৌথ অধিবেশনের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ শনিবার এ কথা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, নতুন প্রদেশ গঠন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপযুক্ত জায়গা সংসদ।

লাহোরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রানা সানাউল্লাহ বলেন, সংসদের অনুমোদন পাওয়ার পরই এ বিষয়ে গণভোট আয়োজনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। তবে বিষয়টি এখনো মন্ত্রিসভায় তোলা হয়নি এবং তাঁর দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজও এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান চূড়ান্ত করতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

সংসদেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

রানা সানাউল্লাহ জানান, বিষয়টি সংসদে উত্থাপিত হলে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ তাদের নীতিগত অবস্থান জানাবে। নতুন প্রদেশ গঠন করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত সংসদের মাধ্যমেই নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, সংসদে বিষয়টি এলে সব রাজনৈতিক দল নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে পারবে এবং সংসদের সিদ্ধান্ত তারা মেনে নেবে। দলের অবস্থান চূড়ান্ত করার সময় জেলা ও ইউনিয়ন কাউন্সিল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতামতও বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে সংসদবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরীর সাম্প্রতিক মন্তব্যেরও মিল রয়েছে। তিনি জানিয়েছিলেন, নতুন প্রদেশ গঠন নিয়ে সংসদীয় আলোচনা অক্টোবরে হতে পারে।Referendum on new provinces subject to parliament's nod: Sanaullah

বিতর্কের সূত্রপাত যেভাবে

নতুন প্রদেশ ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে বিতর্কটি জুলাইয়ে জোরালো হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে দাবি করে মৌলিক সংস্কারের আহ্বান জানান। তিনি অধিক ক্ষমতা স্থানীয় পর্যায়ে হস্তান্তরের মাধ্যমে নতুন প্রশাসনিক ইউনিট গঠনের পক্ষে মত দেন।

পরে তিনি বক্তব্যে অটল থেকে স্পষ্ট করেন, কোনো নির্দিষ্ট সরকারের সমালোচনা নয়, বরং গত ৮০ বছরে ব্যবস্থার অবনতির কথা বোঝাতে তিনি এমন মন্তব্য করেছিলেন।

৫ সেপ্টেম্বর নকভি বলেন, নতুন প্রশাসনিক ইউনিট গঠনের ভিত্তি হতে হবে জনগণের ইচ্ছার ওপর। তিনি এটিকে পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থায় ‘রিসেট’-এর প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে যুক্ত করেন এবং বলেন, জনগণের সমর্থন ছাড়া এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ এগোবে না।

এরপর পরিকল্পনা ও উন্নয়নমন্ত্রী আহসান ইকবালও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরুর আহ্বান জানান। তিনি পাকিস্তানে ১২ থেকে ১৫টি প্রদেশ গঠনের প্রস্তাব দেন।

বিরোধীদেরও সম্মেলনের উদ্যোগ

এদিকে নতুন প্রদেশ গঠন নিয়ে বিরোধী দলগুলোর মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর আলী খান শুক্রবার জানান, এ বিষয়ে যৌথ বিরোধী জোট শিগগিরই সর্বদলীয় সম্মেলন আয়োজন করবে।

জামিয়তে উলামায়ে ইসলাম-ফজলের প্রধান ফজলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ ঘোষণা দেন। সংসদ অধিবেশন, কারাবন্দিদের বিভিন্ন বিষয় এবং নতুন প্রদেশ গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে যৌথভাবে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।

এদিকে রানা সানাউল্লাহ পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির মধ্যকার সাম্প্রতিক টানাপোড়েন কমেছে বলেও দাবি করেন। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম কমানোর পক্ষে দলের অবস্থান জানান। জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাবিত লংমার্চ এক থেকে দুই সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি প্রত্যাশা করেন।