১০:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চীনের বিশাল বাজারকে এক কণ্ঠে কথা বলাতে বেইজিংয়ের নতুন কৌশল ট্রাম্পের ক্ষমতার প্রয়োগে যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চাপে ভারতে আদানির গোড্ডা কেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ, বাংলাদেশে বাড়ছে লোডশেডিং পাকিস্তানে নতুন প্রদেশ গঠনে গণভোট, আগে সংসদের অনুমোদন: রানা সানাউল্লাহ উপকূলীয় শহরে গ্রিজলির হানা, স্কুলে আশ্রয় নির্দেশ; ‘সহাবস্থান’ নাকি সরিয়ে নেওয়া—দ্বিধায় বাসিন্দারা মূল্যস্ফীতি ৩.৪%-এ অনড়, সুদ বাড়ানোর পথে ফেড চীনা স্যাটেলাইটের ছবি ব্যবহার করেই কি ইরান হামলা চালিয়েছিল মার্কিন ঘাঁটিতে? শান্তির দূত হতে চায় ব্রিকস, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে শির সঙ্গে মোদির বৈঠক পদ্মার পানি বাড়ছে, দৌলতপুরে ৩৫ গ্রামের ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রাজধানীর আদাবরে ১০ টুকরো মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় মেলেনি

ভারতে আদানির গোড্ডা কেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ, বাংলাদেশে বাড়ছে লোডশেডিং

ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে গেছে। দুই দিনের ব্যবধানে কেন্দ্রটি থেকে সরবরাহ অর্ধেকেরও নিচে নেমেছে। এর প্রভাব পড়েছে জাতীয় গ্রিডে; বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে লোডশেডিং।

উৎপাদন বাড়ার পরই নতুন বিপত্তি

১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৮০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে। ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় গত ৭ আগস্ট থেকে কেন্দ্রটির উৎপাদন কমতে শুরু করেছিল।

প্রায় এক মাস সীমিত উৎপাদনের পর গত মাসের শেষ দিকে কেন্দ্রটি ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়াতে শুরু করেছিল। তবে উৎপাদন বাড়ার পরই কারিগরি সমস্যার কারণে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।

সরবরাহ নেমেছে ৬৯১ মেগাওয়াটে

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে আদানির কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে ১ হাজার ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছিল। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর থেকেই সরবরাহ কমতে শুরু করে।

পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে সরবরাহ নেমে আসে মাত্র ৬৯১ মেগাওয়াটে। আজও তা প্রায় ৭০০ মেগাওয়াটের আশপাশে ওঠানামা করছে।

স্বাভাবিক সময়ে গোড্ডা কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো।আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, দেশে বাড়ছে লোডশেডিং

জাতীয় গ্রিডে চাপ, বাড়ছে লোডশেডিং

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এমনিতেই কম। এর মধ্যে আদানির কেন্দ্রটির একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

কেন্দ্রটির উৎপাদন কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায়। বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রাও বেড়েছে।

কারিগরি ত্রুটি দ্রুত মেরামত করে বন্ধ ইউনিটটি পুনরায় চালু করা গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়তে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ইউনিটটি কবে নাগাদ উৎপাদনে ফিরবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি

ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় নির্মিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। ৮০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিটের একটির উৎপাদন বন্ধ থাকায় কেন্দ্রটির কার্যকর উৎপাদনক্ষমতা বর্তমানে অর্ধেকে নেমে এসেছে।

২০১৭ সালে আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করেছিল বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। সেই চুক্তির আওতায় গোড্ডা কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

জ্বালানি সংকটের মধ্যেও দেশের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। এর মধ্যে আদানির কেন্দ্র থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় চাপ আরও বেড়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের বিশাল বাজারকে এক কণ্ঠে কথা বলাতে বেইজিংয়ের নতুন কৌশল

ভারতে আদানির গোড্ডা কেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ, বাংলাদেশে বাড়ছে লোডশেডিং

০৯:০৫:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে গেছে। দুই দিনের ব্যবধানে কেন্দ্রটি থেকে সরবরাহ অর্ধেকেরও নিচে নেমেছে। এর প্রভাব পড়েছে জাতীয় গ্রিডে; বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে লোডশেডিং।

উৎপাদন বাড়ার পরই নতুন বিপত্তি

১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৮০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে। ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় গত ৭ আগস্ট থেকে কেন্দ্রটির উৎপাদন কমতে শুরু করেছিল।

প্রায় এক মাস সীমিত উৎপাদনের পর গত মাসের শেষ দিকে কেন্দ্রটি ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়াতে শুরু করেছিল। তবে উৎপাদন বাড়ার পরই কারিগরি সমস্যার কারণে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।

সরবরাহ নেমেছে ৬৯১ মেগাওয়াটে

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে আদানির কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে ১ হাজার ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছিল। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর থেকেই সরবরাহ কমতে শুরু করে।

পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে সরবরাহ নেমে আসে মাত্র ৬৯১ মেগাওয়াটে। আজও তা প্রায় ৭০০ মেগাওয়াটের আশপাশে ওঠানামা করছে।

স্বাভাবিক সময়ে গোড্ডা কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো।আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, দেশে বাড়ছে লোডশেডিং

জাতীয় গ্রিডে চাপ, বাড়ছে লোডশেডিং

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এমনিতেই কম। এর মধ্যে আদানির কেন্দ্রটির একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

কেন্দ্রটির উৎপাদন কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায়। বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রাও বেড়েছে।

কারিগরি ত্রুটি দ্রুত মেরামত করে বন্ধ ইউনিটটি পুনরায় চালু করা গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়তে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ইউনিটটি কবে নাগাদ উৎপাদনে ফিরবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি

ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় নির্মিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। ৮০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিটের একটির উৎপাদন বন্ধ থাকায় কেন্দ্রটির কার্যকর উৎপাদনক্ষমতা বর্তমানে অর্ধেকে নেমে এসেছে।

২০১৭ সালে আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করেছিল বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। সেই চুক্তির আওতায় গোড্ডা কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

জ্বালানি সংকটের মধ্যেও দেশের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। এর মধ্যে আদানির কেন্দ্র থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় চাপ আরও বেড়েছে।