১০:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আমেরিকা আসলে কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প

পানামা খালের ছায়ায় ভূরাজনীতি: চীনা স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙা নিয়ে নতুন বিতর্ক

পানামা খালের ওপর নজরদারি আর প্রভাব বিস্তারকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের টানাপোড়েনের মধ্যে এবার ভেঙে ফেলা হলো পানামার এক ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ। পানামা খালের দিকে মুখ করে থাকা এই স্মৃতিচিহ্নটি দেশটির চীনা বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর সম্মানে নির্মিত হয়েছিল। বছরের শেষ প্রান্তে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে স্মৃতিস্তম্ভটি অপসারণের ঘটনায় দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে

পানামা খাল ও আন্তর্জাতিক টানাপোড়েন

পানামা খালকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা চলছে। এই জলপথ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দুই-পঞ্চমাংশ কনটেইনার পণ্য পরিবাহিত হয়, যা খালটিকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার অভিযোগ করেছেন যে চীন নাকি খালের ওপর প্রভাব খাটাচ্ছে এবং প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রণ পুনর্দখলের হুমকিও দিয়েছেন।

স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙার সিদ্ধান্ত

খালের পাশের আমেরিকাস মিরাদোর এলাকায় থাকা এই পার্ক ও স্মৃতিস্তম্ভটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল। স্থানীয় মেয়র স্তেফানি পেনালবা দাবি করেছেন, কাঠামোগত ঝুঁকি এড়াতেই এটি ভাঙা হয়েছে এবং এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক চাপ জড়িত নয়। তবে বাস্তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে সন্দেহ দানা বেঁধেছে, কারণ পানামা সম্প্রতি চীনের অবকাঠামো উদ্যোগ থেকে সরে এসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থান নিয়েছে।

রাষ্ট্রপতির ক্ষোভ ও তদন্তের নির্দেশ

পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙাকে ক্ষমার অযোগ্য ও অযৌক্তিক বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি ঘটনার বৈধতা নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গড়ে ওঠা চীনা বংশোদ্ভূত নাগরিকরা দেশের পূর্ণ সম্মানের দাবিদার।

চীনা সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া

পানামার চীনা সম্প্রদায়ের নেতারা এই ঘটনাকে নিজেদের ইতিহাস ও পরিচয়ের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, স্মৃতিস্তম্ভটি শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং বহুসাংস্কৃতিক পানামার প্রতীক। চীনের রাষ্ট্রদূত সু শুয়েউয়ানও প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, এই ঘটনা একদিকে ক্ষোভের, অন্যদিকে সাংস্কৃতিক সংহতির গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেওয়ার উপলক্ষ।

ভূরাজনীতির দীর্ঘ ছায়া

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ-এর বক্তব্য ও সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো দেখাচ্ছে, পানামা খাল এখন আবারও বৈশ্বিক শক্তির দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে। একসময় যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই খাল ১৯৯৯ সালে পানামার হাতে হস্তান্তর হলেও তার ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব আজও অটুট।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

আমেরিকা আসলে কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত?

পানামা খালের ছায়ায় ভূরাজনীতি: চীনা স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙা নিয়ে নতুন বিতর্ক

০২:১৬:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

পানামা খালের ওপর নজরদারি আর প্রভাব বিস্তারকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের টানাপোড়েনের মধ্যে এবার ভেঙে ফেলা হলো পানামার এক ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ। পানামা খালের দিকে মুখ করে থাকা এই স্মৃতিচিহ্নটি দেশটির চীনা বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর সম্মানে নির্মিত হয়েছিল। বছরের শেষ প্রান্তে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে স্মৃতিস্তম্ভটি অপসারণের ঘটনায় দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে

পানামা খাল ও আন্তর্জাতিক টানাপোড়েন

পানামা খালকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা চলছে। এই জলপথ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দুই-পঞ্চমাংশ কনটেইনার পণ্য পরিবাহিত হয়, যা খালটিকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার অভিযোগ করেছেন যে চীন নাকি খালের ওপর প্রভাব খাটাচ্ছে এবং প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রণ পুনর্দখলের হুমকিও দিয়েছেন।

স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙার সিদ্ধান্ত

খালের পাশের আমেরিকাস মিরাদোর এলাকায় থাকা এই পার্ক ও স্মৃতিস্তম্ভটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল। স্থানীয় মেয়র স্তেফানি পেনালবা দাবি করেছেন, কাঠামোগত ঝুঁকি এড়াতেই এটি ভাঙা হয়েছে এবং এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক চাপ জড়িত নয়। তবে বাস্তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে সন্দেহ দানা বেঁধেছে, কারণ পানামা সম্প্রতি চীনের অবকাঠামো উদ্যোগ থেকে সরে এসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থান নিয়েছে।

রাষ্ট্রপতির ক্ষোভ ও তদন্তের নির্দেশ

পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙাকে ক্ষমার অযোগ্য ও অযৌক্তিক বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি ঘটনার বৈধতা নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গড়ে ওঠা চীনা বংশোদ্ভূত নাগরিকরা দেশের পূর্ণ সম্মানের দাবিদার।

চীনা সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া

পানামার চীনা সম্প্রদায়ের নেতারা এই ঘটনাকে নিজেদের ইতিহাস ও পরিচয়ের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, স্মৃতিস্তম্ভটি শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং বহুসাংস্কৃতিক পানামার প্রতীক। চীনের রাষ্ট্রদূত সু শুয়েউয়ানও প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, এই ঘটনা একদিকে ক্ষোভের, অন্যদিকে সাংস্কৃতিক সংহতির গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেওয়ার উপলক্ষ।

ভূরাজনীতির দীর্ঘ ছায়া

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ-এর বক্তব্য ও সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো দেখাচ্ছে, পানামা খাল এখন আবারও বৈশ্বিক শক্তির দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে। একসময় যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই খাল ১৯৯৯ সালে পানামার হাতে হস্তান্তর হলেও তার ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব আজও অটুট।