০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

পাপুয়ায় সশস্ত্র হামলায় নিহত ১০ স্বর্ণখনি শ্রমিক, জঙ্গলে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে সেনা

ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া হাইল্যান্ডস প্রদেশে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর হামলায় নিহত অবৈধ স্বর্ণখনি শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্গম বনাঞ্চল থেকে কয়েকদিনের অভিযানের পর দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলাটি ঘটেছে বিনতাং মাউন্টেইন্স রিজেন্সির আওইমবন জেলায়। প্রথমদিকে ঘটনাস্থল নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও পরে নিশ্চিত করা হয়, এটি ইয়াহুকিমো অঞ্চলের পাশের এলাকায় নয়, বরং আওইমবনেই ঘটেছে।

দুর্গম বনাঞ্চলে উদ্ধার অভিযান

যৌথ সামরিক-পুলিশি অভিযান “অপারেশন কার্টেনজ পিস”-এর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফয়সাল রামাধানি জানান, ঘন জঙ্গল ও দুর্গম পাহাড়ি পথের কারণে মরদেহ উদ্ধারে কয়েকদিন সময় লেগেছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকারী দলকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে নতুন পথ তৈরি করতে হয়েছে এবং গভীর বন কেটে এগোতে হয়েছে। হামলার সময় অনেক শ্রমিক ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায় বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।

ফয়সাল বলেন, এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য জীবিতদের নিরাপদে সরিয়ে আনা, নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং হামলাকারীদের খুঁজে বের করা।

কারা চালিয়েছে হামলা

নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, সোমবার শুরু হওয়া হামলাটি চালায় প্রায় ১৫ সদস্যের একটি সশস্ত্র দল, যারা পশ্চিম পাপুয়া ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি বা টিপিএনপিবি’র ইয়ামুয়ে ব্যাটালিয়নের সদস্য। দলটির নেতৃত্বে রয়েছে কোপিতুয়া হিলুকা ও দেজাং হিলুকা।

তাদের কাছে এআর-১৫ রাইফেল এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে টিপিএনপিবি হামলার দায় স্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আগের সংঘর্ষে তাদের দুই সদস্য নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

তাদের আরও অভিযোগ, নিহতরা আসলে সাধারণ শ্রমিক নয়; তারা ছদ্মবেশে কাজ করা ইন্দোনেশিয়ান সেনা ও পুলিশ গোয়েন্দা সদস্য ছিল। তবে ইন্দোনেশিয়ার সামরিক বাহিনী এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, নিহতরা সবাই বেসামরিক স্বর্ণখনি শ্রমিক।

দীর্ঘদিনের সহিংসতা

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে এই অঞ্চলে অন্তত ৩৪ জন অবৈধ স্বর্ণখনি শ্রমিককে হত্যা করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। গত বছরের এপ্রিলেও কাবু নদী ও মুয়ারা কুম এলাকার কাছে ১৭ জন শ্রমিক নিহত হয়েছিল, যা ছিল সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি।

টিপিএনপিবি মুখপাত্র সেবি সামবোম হামলাকে ন্যায্য বলে দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, খনি শ্রমিকরা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করছে এবং পাপুয়ার পরিবেশ ধ্বংসে ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, পাপুয়ার প্রাকৃতিক সম্পদ বাইরের লোকজন লুট করছে, অথচ এর সুফল স্থানীয় মানুষ পাচ্ছে না। একই সঙ্গে ইয়াহুকিমো ও আশপাশের এলাকাকে “যুদ্ধাঞ্চল” হিসেবে উল্লেখ করে সেখানে বহিরাগত বেসামরিকদের না যাওয়ারও সতর্কতা দেয় গোষ্ঠীটি।

নিরাপত্তা জোরদার

টিএনআই’র হাবেমা অপারেশনাল কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল উইর্যা আর্থাদিগুনা জানিয়েছেন, ইয়াহুকিমোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ হলেও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন করে সহিংসতা ঠেকাতে বিভিন্ন এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

পাপুয়ায় সশস্ত্র হামলায় নিহত ১০ স্বর্ণখনি শ্রমিক, জঙ্গলে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে সেনা

০৯:০৭:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া হাইল্যান্ডস প্রদেশে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর হামলায় নিহত অবৈধ স্বর্ণখনি শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্গম বনাঞ্চল থেকে কয়েকদিনের অভিযানের পর দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলাটি ঘটেছে বিনতাং মাউন্টেইন্স রিজেন্সির আওইমবন জেলায়। প্রথমদিকে ঘটনাস্থল নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও পরে নিশ্চিত করা হয়, এটি ইয়াহুকিমো অঞ্চলের পাশের এলাকায় নয়, বরং আওইমবনেই ঘটেছে।

দুর্গম বনাঞ্চলে উদ্ধার অভিযান

যৌথ সামরিক-পুলিশি অভিযান “অপারেশন কার্টেনজ পিস”-এর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফয়সাল রামাধানি জানান, ঘন জঙ্গল ও দুর্গম পাহাড়ি পথের কারণে মরদেহ উদ্ধারে কয়েকদিন সময় লেগেছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকারী দলকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে নতুন পথ তৈরি করতে হয়েছে এবং গভীর বন কেটে এগোতে হয়েছে। হামলার সময় অনেক শ্রমিক ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায় বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।

ফয়সাল বলেন, এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য জীবিতদের নিরাপদে সরিয়ে আনা, নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং হামলাকারীদের খুঁজে বের করা।

কারা চালিয়েছে হামলা

নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, সোমবার শুরু হওয়া হামলাটি চালায় প্রায় ১৫ সদস্যের একটি সশস্ত্র দল, যারা পশ্চিম পাপুয়া ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি বা টিপিএনপিবি’র ইয়ামুয়ে ব্যাটালিয়নের সদস্য। দলটির নেতৃত্বে রয়েছে কোপিতুয়া হিলুকা ও দেজাং হিলুকা।

তাদের কাছে এআর-১৫ রাইফেল এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে টিপিএনপিবি হামলার দায় স্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আগের সংঘর্ষে তাদের দুই সদস্য নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

তাদের আরও অভিযোগ, নিহতরা আসলে সাধারণ শ্রমিক নয়; তারা ছদ্মবেশে কাজ করা ইন্দোনেশিয়ান সেনা ও পুলিশ গোয়েন্দা সদস্য ছিল। তবে ইন্দোনেশিয়ার সামরিক বাহিনী এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, নিহতরা সবাই বেসামরিক স্বর্ণখনি শ্রমিক।

দীর্ঘদিনের সহিংসতা

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে এই অঞ্চলে অন্তত ৩৪ জন অবৈধ স্বর্ণখনি শ্রমিককে হত্যা করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। গত বছরের এপ্রিলেও কাবু নদী ও মুয়ারা কুম এলাকার কাছে ১৭ জন শ্রমিক নিহত হয়েছিল, যা ছিল সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি।

টিপিএনপিবি মুখপাত্র সেবি সামবোম হামলাকে ন্যায্য বলে দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, খনি শ্রমিকরা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করছে এবং পাপুয়ার পরিবেশ ধ্বংসে ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, পাপুয়ার প্রাকৃতিক সম্পদ বাইরের লোকজন লুট করছে, অথচ এর সুফল স্থানীয় মানুষ পাচ্ছে না। একই সঙ্গে ইয়াহুকিমো ও আশপাশের এলাকাকে “যুদ্ধাঞ্চল” হিসেবে উল্লেখ করে সেখানে বহিরাগত বেসামরিকদের না যাওয়ারও সতর্কতা দেয় গোষ্ঠীটি।

নিরাপত্তা জোরদার

টিএনআই’র হাবেমা অপারেশনাল কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল উইর্যা আর্থাদিগুনা জানিয়েছেন, ইয়াহুকিমোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ হলেও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন করে সহিংসতা ঠেকাতে বিভিন্ন এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।