০৮:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

পোলট্রি খাদ্য উৎপাদনকারীদের জন্য স্বস্তি, অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর বাতিল করল পাকিস্তানের সাংবিধানিক আদালত

পাকিস্তানের পোলট্রি শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক রায়ে দেশটির ফেডারেল কনস্টিটিউশনাল কোর্ট (এফসিসি) ঘোষণা করেছে, পোলট্রি খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ও পোলট্রি খামারিদের অতিরিক্ত বিক্রয় কর দিতে হবে না। বাজেট ঘোষণার ঠিক আগে আসা এই সিদ্ধান্তকে শিল্পসংশ্লিষ্টদের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আদালত লাহোর হাইকোর্টের আগের একটি রায় বাতিল করে জানিয়েছে, নিবন্ধনবিহীন প্রতিষ্ঠানের কাছে পণ্য সরবরাহের কারণে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর আরোপ করা বিক্রয় কর ব্যবস্থার মূল নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

কী ছিল বিরোধের মূল বিষয়

বিতর্কের সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কর কর্তৃপক্ষের এক আদেশকে ঘিরে। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, পোলট্রি খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এমন খামারিদের কাছে পণ্য বিক্রি করে যারা কর ব্যবস্থায় নিবন্ধিত নন, তাহলে তাদের অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে।

No extra tax on poultry feed makers, rules FCC - Pakistan - DAWN.COM

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কয়েকটি পোলট্রি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আদালতের শরণাপন্ন হয়। পরে বিষয়টি সাংবিধানিক আদালতে গড়ায়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

রায়ে আদালত উল্লেখ করেছে, আইন অনুযায়ী কিছু খাত কর ছাড়ের সুবিধা পায় এবং এসব ক্ষেত্রে নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতাও থাকে না। পোলট্রি খামারিরা এমনই একটি শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

আদালত মনে করে, যাদের আইনই নিবন্ধনের বাইরে রেখেছে, তাদের কাছে পণ্য বিক্রি করার কারণে উৎপাদকদের ওপর অতিরিক্ত কর চাপানো অযৌক্তিক। বাস্তবে এই অতিরিক্ত করের বোঝা শেষ পর্যন্ত খামারিদের ওপরই গিয়ে পড়ত, যা পুরো কর ব্যবস্থার উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

রায়ে আরও বলা হয়, বিক্রয় কর কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধনকে উৎসাহিত করাই সংশ্লিষ্ট আইনের উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনগতভাবে নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতার বাইরে, তাদের ক্ষেত্রে সেই বিধান প্রয়োগ করা যায় না।

আগের নজিরের উল্লেখ

Court Declares 4% Extra Tax on Unregistered Poultry Farms Illegal

আদালত একই ধরনের একটি পুরোনো মামলার কথাও স্মরণ করেছে। ২০২১ সালে লাহোর হাইকোর্ট বরফ প্রস্তুতকারী একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে রায় দিয়েছিল এবং বলেছিল, প্রতিষ্ঠানটি অতিরিক্ত কর দিতে বাধ্য নয়। পরবর্তীতে দেশের সর্বোচ্চ আদালতও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।

বর্তমান মামলায় সাংবিধানিক আদালত বলেছে, লাহোর হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায় আইনের সঠিক ব্যাখ্যা প্রতিফলিত করেনি। ফলে কর কর্তৃপক্ষের দেওয়া আদেশও টেকসই নয়।

পোলট্রি শিল্পে সম্ভাব্য প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত পোলট্রি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও খামারিদের জন্য আর্থিক চাপ কমাবে। সাম্প্রতিক সময়ে খাদ্য, জ্বালানি ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে পোলট্রি খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল। অতিরিক্ত করের বোঝা না থাকায় উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারে।

একই সঙ্গে এই রায় ভবিষ্যতে কর-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের সাংবিধানিক আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে পোলট্রি খাতের জন্য একটি দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল। ফলে শিল্পসংশ্লিষ্টরা এখন নতুন বাজেটের আগে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবেন।

No additional sales tax for Poultry: FCC

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

পোলট্রি খাদ্য উৎপাদনকারীদের জন্য স্বস্তি, অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর বাতিল করল পাকিস্তানের সাংবিধানিক আদালত

০১:৩৩:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

পাকিস্তানের পোলট্রি শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক রায়ে দেশটির ফেডারেল কনস্টিটিউশনাল কোর্ট (এফসিসি) ঘোষণা করেছে, পোলট্রি খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ও পোলট্রি খামারিদের অতিরিক্ত বিক্রয় কর দিতে হবে না। বাজেট ঘোষণার ঠিক আগে আসা এই সিদ্ধান্তকে শিল্পসংশ্লিষ্টদের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আদালত লাহোর হাইকোর্টের আগের একটি রায় বাতিল করে জানিয়েছে, নিবন্ধনবিহীন প্রতিষ্ঠানের কাছে পণ্য সরবরাহের কারণে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর আরোপ করা বিক্রয় কর ব্যবস্থার মূল নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

কী ছিল বিরোধের মূল বিষয়

বিতর্কের সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কর কর্তৃপক্ষের এক আদেশকে ঘিরে। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, পোলট্রি খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এমন খামারিদের কাছে পণ্য বিক্রি করে যারা কর ব্যবস্থায় নিবন্ধিত নন, তাহলে তাদের অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে।

No extra tax on poultry feed makers, rules FCC - Pakistan - DAWN.COM

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কয়েকটি পোলট্রি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আদালতের শরণাপন্ন হয়। পরে বিষয়টি সাংবিধানিক আদালতে গড়ায়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

রায়ে আদালত উল্লেখ করেছে, আইন অনুযায়ী কিছু খাত কর ছাড়ের সুবিধা পায় এবং এসব ক্ষেত্রে নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতাও থাকে না। পোলট্রি খামারিরা এমনই একটি শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

আদালত মনে করে, যাদের আইনই নিবন্ধনের বাইরে রেখেছে, তাদের কাছে পণ্য বিক্রি করার কারণে উৎপাদকদের ওপর অতিরিক্ত কর চাপানো অযৌক্তিক। বাস্তবে এই অতিরিক্ত করের বোঝা শেষ পর্যন্ত খামারিদের ওপরই গিয়ে পড়ত, যা পুরো কর ব্যবস্থার উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

রায়ে আরও বলা হয়, বিক্রয় কর কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধনকে উৎসাহিত করাই সংশ্লিষ্ট আইনের উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনগতভাবে নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতার বাইরে, তাদের ক্ষেত্রে সেই বিধান প্রয়োগ করা যায় না।

আগের নজিরের উল্লেখ

Court Declares 4% Extra Tax on Unregistered Poultry Farms Illegal

আদালত একই ধরনের একটি পুরোনো মামলার কথাও স্মরণ করেছে। ২০২১ সালে লাহোর হাইকোর্ট বরফ প্রস্তুতকারী একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে রায় দিয়েছিল এবং বলেছিল, প্রতিষ্ঠানটি অতিরিক্ত কর দিতে বাধ্য নয়। পরবর্তীতে দেশের সর্বোচ্চ আদালতও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।

বর্তমান মামলায় সাংবিধানিক আদালত বলেছে, লাহোর হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায় আইনের সঠিক ব্যাখ্যা প্রতিফলিত করেনি। ফলে কর কর্তৃপক্ষের দেওয়া আদেশও টেকসই নয়।

পোলট্রি শিল্পে সম্ভাব্য প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত পোলট্রি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও খামারিদের জন্য আর্থিক চাপ কমাবে। সাম্প্রতিক সময়ে খাদ্য, জ্বালানি ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে পোলট্রি খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল। অতিরিক্ত করের বোঝা না থাকায় উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারে।

একই সঙ্গে এই রায় ভবিষ্যতে কর-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের সাংবিধানিক আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে পোলট্রি খাতের জন্য একটি দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল। ফলে শিল্পসংশ্লিষ্টরা এখন নতুন বাজেটের আগে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবেন।

No additional sales tax for Poultry: FCC