০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

প্রতিদিন একটি রুমাল (পর্ব-১৪)

হৈরব ও ভৈরব

‘কইকি, বিষয়-সম্পত্তি বেইচ্চালাও-‘

হৈরব বলে, ‘রইছে তো যেমুন এই ভিটিবাড়িটুকুন আর দেড়কানি জমি-‘

‘লাগলে ট্যাকা লও’

‘ঘরবাড়ি বেইচ্যা দাঁরামু কই বাবু, আমাগো কি আর যাওনের কুনো জাগা আছে।’

‘যাইতে লাগবো ক্যান, যতদিন ইচ্ছা থাকবা-‘

হৈরব মাথা নাড়ে। বলে, ‘না বাবু, বাপদাদার মাটি, মনে লইলেও পাপ’

গনিমিয়া তেড়ে উঠে বলে, ‘হইলো! অহনে আমার ট্যাকার কি করবা কয়ালাও!’

‘সুজানগরের নামকীর্তনটা হয়া লউক’ হৈরব চোরের মতো তার দিকে পিটপিট ক’রে তাকিয়ে বলে, ‘যতোটা পারি মিটায়া দিমু।’

এই সময় ভৈরব এসে দাঁড়ায় উঠোনে, দাঁড়িয়ে মড়মড়ে বাঁশপাতার মতো একটা গামছা দিয়ে ডলে ডলে গায়ের ঘাম মোছে।

এতোক্ষণে অবেলার নেশা গনিমিয়ার ভেতরে গেঁজে ওঠে। তিরিক্ষি মেজাজে সে বলে, ‘এই খাসিটারে খেদায়া দাও, ঘরে এমুন জোয়ান পোলা থাইকাও ফায়দাটা হইতাছে কি আঁধার ঘনিয়ে এসেছিলো অনেক আগেই, পষ্ট মুখ দেখা যায় না ভৈরবের; খুঁটিগাড়া হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে কেবল।

গনিমিয়ার মেজাজ এখন ঘনঘন ফের বদলায়। ভৈরবের উদ্দেশে বলে, ঢাকে বারি দিবার পারবিনিরে?’

ভৈরব বলে, ‘বুঝি না-

‘বুঝন লাগেনিরে বোদাই一’ প্রবল উৎসাহে দোল খেয়ে হৈরব বলে, ‘বাবু বাজনা শুনবো, বাজায়া শুনা!’

গনিমিয়া উঠে দাঁড়াতেই হৈরব ব্যাকুল হয়ে বললে, ‘উঠতাছেন যেমুন?’

‘গরমখান কি, শইল জ্বলতাছে, দেহি মাঠের মদে গিয়া বহা যায় কি না-

শক্তমুখে গড়গড় ক’রে মাঠের দিকে নেমে যায় গনিমিয়া এইটুকু ব’লেই; কিছু না বুঝে হৈরব ফ্যালফ্যাল ক’রে তাকিয়ে থাকে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

প্রতিদিন একটি রুমাল (পর্ব-১৪)

১২:০০:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুন ২০২৫

হৈরব ও ভৈরব

‘কইকি, বিষয়-সম্পত্তি বেইচ্চালাও-‘

হৈরব বলে, ‘রইছে তো যেমুন এই ভিটিবাড়িটুকুন আর দেড়কানি জমি-‘

‘লাগলে ট্যাকা লও’

‘ঘরবাড়ি বেইচ্যা দাঁরামু কই বাবু, আমাগো কি আর যাওনের কুনো জাগা আছে।’

‘যাইতে লাগবো ক্যান, যতদিন ইচ্ছা থাকবা-‘

হৈরব মাথা নাড়ে। বলে, ‘না বাবু, বাপদাদার মাটি, মনে লইলেও পাপ’

গনিমিয়া তেড়ে উঠে বলে, ‘হইলো! অহনে আমার ট্যাকার কি করবা কয়ালাও!’

‘সুজানগরের নামকীর্তনটা হয়া লউক’ হৈরব চোরের মতো তার দিকে পিটপিট ক’রে তাকিয়ে বলে, ‘যতোটা পারি মিটায়া দিমু।’

এই সময় ভৈরব এসে দাঁড়ায় উঠোনে, দাঁড়িয়ে মড়মড়ে বাঁশপাতার মতো একটা গামছা দিয়ে ডলে ডলে গায়ের ঘাম মোছে।

এতোক্ষণে অবেলার নেশা গনিমিয়ার ভেতরে গেঁজে ওঠে। তিরিক্ষি মেজাজে সে বলে, ‘এই খাসিটারে খেদায়া দাও, ঘরে এমুন জোয়ান পোলা থাইকাও ফায়দাটা হইতাছে কি আঁধার ঘনিয়ে এসেছিলো অনেক আগেই, পষ্ট মুখ দেখা যায় না ভৈরবের; খুঁটিগাড়া হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে কেবল।

গনিমিয়ার মেজাজ এখন ঘনঘন ফের বদলায়। ভৈরবের উদ্দেশে বলে, ঢাকে বারি দিবার পারবিনিরে?’

ভৈরব বলে, ‘বুঝি না-

‘বুঝন লাগেনিরে বোদাই一’ প্রবল উৎসাহে দোল খেয়ে হৈরব বলে, ‘বাবু বাজনা শুনবো, বাজায়া শুনা!’

গনিমিয়া উঠে দাঁড়াতেই হৈরব ব্যাকুল হয়ে বললে, ‘উঠতাছেন যেমুন?’

‘গরমখান কি, শইল জ্বলতাছে, দেহি মাঠের মদে গিয়া বহা যায় কি না-

শক্তমুখে গড়গড় ক’রে মাঠের দিকে নেমে যায় গনিমিয়া এইটুকু ব’লেই; কিছু না বুঝে হৈরব ফ্যালফ্যাল ক’রে তাকিয়ে থাকে।