০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

প্রতিদিন একটি রুমাল (পর্ব-২৫)

জোনাকি

ইচ্ছে হয়, ভালো করে মাথা ভিজাতে। ভরা বালতির ভেতরে মাথা গুঁজে দিতে। অবসন্নতা ক্রমশ কাবু করে ফেলে তাঁকে। অবসন্নতা, মনোবেদনা, স্থবিরতা, এদের আর এখন কোনো সংকোচ কিংবা দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নেই। বয়েসের কাছে নিদারুণভাবে তিরস্কৃত আবুল হোসেন, বয়েস তাকে ধিক্কার দেয়। গলা পর্যন্ত ঠেলে ওঠে গ্লানির গরল, অদ্ভুত এক গ্লানি।

শৈশবে বিমাতার সংসারে নির্মমভাবে প্রহৃত হয়েছেন আবুল হোসেন, মনে পড়ে সেইসব। মনে পড়ে গ্রাম, এক একটি দীর্ঘদিন, গ্রামের জলবায়ু, মেঠোপথ, বিস্তীর্ণ শস্যক্ষেত, মাটির গন্ধ, হুহু বাতাস, প্রহৃত হলেও সেখানে এসব ছিলো।

বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে পড়েন আবুল হোসেন। কেন এমন ঘটলো, ভেবে পেলেন না। কেন এভাবে বিগড়ে গেল মেজাজ। এখন আর আক্ষেপ করে কোনো লাভ নেই, জানেন একথা। তবু ইচ্ছে করলে, বন্যক্রোধকে দমন করতে পারলে, সবকিছু হয়তো এড়ানো যেত, এই ভেবে নিজেকে তাঁর অবিবেচক স্কুল বলে মনে হলো। ঘুরিয়েফিরিয়ে নানাভাবে তিনি একটি যুক্তি খাড়া করার চেষ্টা করতে থাকেন।

একবার মনে হলো সব কিছুর মূলে আছে দীর্ঘদিন পরে হঠাৎ করে তাঁর এই গ্রামে যাওয়া। তিনি যেন কেমন উন্মনা হয়ে পড়েছিলেন, কতো অচেনা এসব, ভারসাম্য রাখতে পারেননি শেষ পর্যন্ত। এতদিনের অভ্যস্ত চোখের পর্দায় নতুনভাবে কেবল অন্যায়ের চেহারা ঝিকমিক করে উঠেছিলো।

কতোদিন? হ্যাঁ দশদিন। মাত্র দশদিন। অথচ এই কয়েক দিনেই গ্রামের মাটিতে তিনি হয়ে উঠেছিলেন সুস্থ-সবল-প্রাণপূর্ণ। কেবল পেটপুরে খেয়েছেন আর ইচ্ছেমতো মাঠে মাঠে ঘুরেছেন। এক একদিন বেরিয়ে পড়েছেন এক একদিকে। কোনোদিন নাগেরচর, কোনোদিন আঁধারমানিক, কোনোদিন বা গোঁসাইচর, যেদিন যেখানে ইচ্ছে মনের সাধ মিটিয়ে ঘুরে ঘুরে বেড়িয়েছেন, খুঁজেছেন পরিচিত মানুষজন।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

প্রতিদিন একটি রুমাল (পর্ব-২৫)

১২:০০:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫

জোনাকি

ইচ্ছে হয়, ভালো করে মাথা ভিজাতে। ভরা বালতির ভেতরে মাথা গুঁজে দিতে। অবসন্নতা ক্রমশ কাবু করে ফেলে তাঁকে। অবসন্নতা, মনোবেদনা, স্থবিরতা, এদের আর এখন কোনো সংকোচ কিংবা দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নেই। বয়েসের কাছে নিদারুণভাবে তিরস্কৃত আবুল হোসেন, বয়েস তাকে ধিক্কার দেয়। গলা পর্যন্ত ঠেলে ওঠে গ্লানির গরল, অদ্ভুত এক গ্লানি।

শৈশবে বিমাতার সংসারে নির্মমভাবে প্রহৃত হয়েছেন আবুল হোসেন, মনে পড়ে সেইসব। মনে পড়ে গ্রাম, এক একটি দীর্ঘদিন, গ্রামের জলবায়ু, মেঠোপথ, বিস্তীর্ণ শস্যক্ষেত, মাটির গন্ধ, হুহু বাতাস, প্রহৃত হলেও সেখানে এসব ছিলো।

বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে পড়েন আবুল হোসেন। কেন এমন ঘটলো, ভেবে পেলেন না। কেন এভাবে বিগড়ে গেল মেজাজ। এখন আর আক্ষেপ করে কোনো লাভ নেই, জানেন একথা। তবু ইচ্ছে করলে, বন্যক্রোধকে দমন করতে পারলে, সবকিছু হয়তো এড়ানো যেত, এই ভেবে নিজেকে তাঁর অবিবেচক স্কুল বলে মনে হলো। ঘুরিয়েফিরিয়ে নানাভাবে তিনি একটি যুক্তি খাড়া করার চেষ্টা করতে থাকেন।

একবার মনে হলো সব কিছুর মূলে আছে দীর্ঘদিন পরে হঠাৎ করে তাঁর এই গ্রামে যাওয়া। তিনি যেন কেমন উন্মনা হয়ে পড়েছিলেন, কতো অচেনা এসব, ভারসাম্য রাখতে পারেননি শেষ পর্যন্ত। এতদিনের অভ্যস্ত চোখের পর্দায় নতুনভাবে কেবল অন্যায়ের চেহারা ঝিকমিক করে উঠেছিলো।

কতোদিন? হ্যাঁ দশদিন। মাত্র দশদিন। অথচ এই কয়েক দিনেই গ্রামের মাটিতে তিনি হয়ে উঠেছিলেন সুস্থ-সবল-প্রাণপূর্ণ। কেবল পেটপুরে খেয়েছেন আর ইচ্ছেমতো মাঠে মাঠে ঘুরেছেন। এক একদিন বেরিয়ে পড়েছেন এক একদিকে। কোনোদিন নাগেরচর, কোনোদিন আঁধারমানিক, কোনোদিন বা গোঁসাইচর, যেদিন যেখানে ইচ্ছে মনের সাধ মিটিয়ে ঘুরে ঘুরে বেড়িয়েছেন, খুঁজেছেন পরিচিত মানুষজন।