১১:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

প্রতিদিন কত কাপ কফি নিরাপদ? গবেষণায় মিলল হৃদযন্ত্রের জন্য নতুন তথ্য

কফি পছন্দ করেন এমন মানুষের জন্য এসেছে নতুন তথ্য। সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্যাফেইনযুক্ত কফি পান নিরাপদ হতে পারে এবং তা হৃদযন্ত্রের কিছু সমস্যার ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে।

গবেষণা অনুযায়ী, দিনে সর্বোচ্চ পাঁচ কাপ পর্যন্ত কফি, অর্থাৎ প্রায় ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন, বেশির ভাগ মানুষের জন্য নিরাপদ সীমার মধ্যে থাকতে পারে। তবে কফি কীভাবে পান করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চিনি, সিরাপ বা নানা ধরনের মিশ্রণ ছাড়া কালো কফির ক্ষেত্রেই এসব সুবিধার কথা বলা হয়েছে।

দিনে দুই থেকে চার কাপ কফিতে মিলতে পারে উপকার

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন দুই থেকে চার কাপ কফি পানকারীদের মধ্যে হৃদরোগ, হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা ও স্ট্রোকের ঝুঁকি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। তবে চার কাপের বেশি কফি পান করলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্রের দুর্বলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কফির পরিমাণের পাশাপাশি ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, রক্তচাপ এবং জীবনযাপন পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কফি ও উচ্চ রক্তচাপের সম্পর্ক

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যাদের রক্তচাপ স্বাভাবিক, তাদের ক্ষেত্রে দিনে এক থেকে তিন কাপ কফি পান করলে কিছু পরিস্থিতিতে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে তিন কাপের বেশি পানকারীদের মধ্যে এই ঝুঁকি কম থাকার তথ্যও উঠে এসেছে।

গবেষকরা বলছেন, কফির প্রভাব সবার শরীরে একইভাবে কাজ করে না। তাই ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিবেচনা করে কফি পান করা উচিত।

Five Cups of Coffee a Day Is Fine for Most Adults, Heart Association Says -  WSJ

চিনি ছাড়া কফিতে বেশি স্বাস্থ্য উপকার

গবেষণায় নিয়মিত কালো কফি পান করার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে দুধ, চিনি, স্বাদ বাড়ানোর উপকরণ বা মিষ্টি সিরাপ যোগ করলে সেই উপকার কমে যেতে পারে।

বিশেষ করে অতিরিক্ত চিনি যুক্ত কফি স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে বিবেচনা করা যায় না বলে গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে।

চা উপকারী হলেও এনার্জি ড্রিঙ্কে সতর্কতা

কফি না খেলেও চিন্তার কারণ নেই। গবেষণায় বলা হয়েছে, চা পানকারীদের মধ্যেও হৃদযন্ত্রের কিছু সমস্যার ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে এনার্জি ড্রিঙ্ক নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এসব পানীয়তে সাধারণ কফির তুলনায় অনেক বেশি মাত্রায় ক্যাফেইন থাকতে পারে। বেশি পরিমাণে এনার্জি ড্রিঙ্ক গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দনের অনিয়মের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

কফি পানের ক্ষেত্রে ভারসাম্যই গুরুত্বপূর্ণ

গবেষণার মূল বার্তা হলো, কফি সম্পূর্ণ ক্ষতিকর নয়, আবার অতিরিক্ত পান করাও ভালো নয়। সঠিক পরিমাণে এবং কম মিশ্রণ দিয়ে কফি পান করলে অনেকের জন্য তা উপকারী হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কর্মব্যস্ত মানুষের জন্য দিনে তিন থেকে চার কাপ পর্যন্ত কালো কফি অনেক ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তবে শরীরে অস্বস্তি, ঘুমের সমস্যা বা হৃদস্পন্দনের পরিবর্তন দেখা দিলে পরিমাণ কমানো প্রয়োজন।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

প্রতিদিন কত কাপ কফি নিরাপদ? গবেষণায় মিলল হৃদযন্ত্রের জন্য নতুন তথ্য

০৯:২১:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

কফি পছন্দ করেন এমন মানুষের জন্য এসেছে নতুন তথ্য। সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্যাফেইনযুক্ত কফি পান নিরাপদ হতে পারে এবং তা হৃদযন্ত্রের কিছু সমস্যার ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে।

গবেষণা অনুযায়ী, দিনে সর্বোচ্চ পাঁচ কাপ পর্যন্ত কফি, অর্থাৎ প্রায় ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন, বেশির ভাগ মানুষের জন্য নিরাপদ সীমার মধ্যে থাকতে পারে। তবে কফি কীভাবে পান করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চিনি, সিরাপ বা নানা ধরনের মিশ্রণ ছাড়া কালো কফির ক্ষেত্রেই এসব সুবিধার কথা বলা হয়েছে।

দিনে দুই থেকে চার কাপ কফিতে মিলতে পারে উপকার

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন দুই থেকে চার কাপ কফি পানকারীদের মধ্যে হৃদরোগ, হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা ও স্ট্রোকের ঝুঁকি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। তবে চার কাপের বেশি কফি পান করলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্রের দুর্বলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কফির পরিমাণের পাশাপাশি ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, রক্তচাপ এবং জীবনযাপন পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কফি ও উচ্চ রক্তচাপের সম্পর্ক

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যাদের রক্তচাপ স্বাভাবিক, তাদের ক্ষেত্রে দিনে এক থেকে তিন কাপ কফি পান করলে কিছু পরিস্থিতিতে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে তিন কাপের বেশি পানকারীদের মধ্যে এই ঝুঁকি কম থাকার তথ্যও উঠে এসেছে।

গবেষকরা বলছেন, কফির প্রভাব সবার শরীরে একইভাবে কাজ করে না। তাই ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিবেচনা করে কফি পান করা উচিত।

Five Cups of Coffee a Day Is Fine for Most Adults, Heart Association Says -  WSJ

চিনি ছাড়া কফিতে বেশি স্বাস্থ্য উপকার

গবেষণায় নিয়মিত কালো কফি পান করার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে দুধ, চিনি, স্বাদ বাড়ানোর উপকরণ বা মিষ্টি সিরাপ যোগ করলে সেই উপকার কমে যেতে পারে।

বিশেষ করে অতিরিক্ত চিনি যুক্ত কফি স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে বিবেচনা করা যায় না বলে গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে।

চা উপকারী হলেও এনার্জি ড্রিঙ্কে সতর্কতা

কফি না খেলেও চিন্তার কারণ নেই। গবেষণায় বলা হয়েছে, চা পানকারীদের মধ্যেও হৃদযন্ত্রের কিছু সমস্যার ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে এনার্জি ড্রিঙ্ক নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এসব পানীয়তে সাধারণ কফির তুলনায় অনেক বেশি মাত্রায় ক্যাফেইন থাকতে পারে। বেশি পরিমাণে এনার্জি ড্রিঙ্ক গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দনের অনিয়মের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

কফি পানের ক্ষেত্রে ভারসাম্যই গুরুত্বপূর্ণ

গবেষণার মূল বার্তা হলো, কফি সম্পূর্ণ ক্ষতিকর নয়, আবার অতিরিক্ত পান করাও ভালো নয়। সঠিক পরিমাণে এবং কম মিশ্রণ দিয়ে কফি পান করলে অনেকের জন্য তা উপকারী হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কর্মব্যস্ত মানুষের জন্য দিনে তিন থেকে চার কাপ পর্যন্ত কালো কফি অনেক ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তবে শরীরে অস্বস্তি, ঘুমের সমস্যা বা হৃদস্পন্দনের পরিবর্তন দেখা দিলে পরিমাণ কমানো প্রয়োজন।