০৮:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

প্রতিবাদের ময়দানে এক সাংবাদিকের যাত্রা: কৌতূহল, সংশয় ও গণতন্ত্রের প্রশ্ন

রাজধানীর অন্যতম পরিচিত প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা তৈরি হয়েছে। কেউ এটিকে তরুণদের ন্যায্য ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, আন্দোলনের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। এই দুই বিপরীত অবস্থানের মাঝখানে দাঁড়িয়ে একজন সাংবাদিকের মনে জন্ম নেয় একটি সহজ প্রশ্ন—ঘটনাস্থলে না গেলে আসলে সত্যটা জানা সম্ভব কি?

দূর থেকে নয়, কাছ থেকে দেখার ইচ্ছা

তিনি শুরু থেকেই নিজেকে গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জাতীয় স্বার্থ—এই তিনটির সমর্থক বলে মনে করেন। তাই আন্দোলনের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার আগে তিনি নিজেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে চান। তাঁর কাছে সাংবাদিকতার অন্যতম শর্ত হলো প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সত্য তুলে ধরা।

সহিংসতার খবর বাড়ায় কৌতূহল

ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এবং আহত হওয়ার খবর তাঁকে ভাবিয়ে তোলে। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দৃশ্যগুলো তাঁকে আরও কৌতূহলী করে তোলে। তবে একই সঙ্গে তাঁর মনে ছিল আশঙ্কা—ঘটনাস্থলে গেলে অনেকে হয়তো তাঁর উপস্থিতিকেই রাজনৈতিক সমর্থন হিসেবে ব্যাখ্যা করবেন।

পরিচিতদের অনীহা

প্রথমে তিনি কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু একজন পাসপোর্ট সংক্রান্ত ঝামেলার ভয়ে রাজি হন না। আরেকজন ব্যক্তিগত পরিকল্পনার কথা বলে এড়িয়ে যান। কেউ আবার মনে করেন, এমন প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার বাস্তব কোনো ফল নেই।

এই প্রতিক্রিয়াগুলো লেখককে বুঝিয়ে দেয়, রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে অনেকেই নিজের অবস্থান প্রকাশ করতে দ্বিধায় ভোগেন।

Satire | Going to Jantar Mantar - The Hindu

পরিবারের উদ্বেগ

বাড়িতেও তাঁর সিদ্ধান্ত সহজভাবে নেওয়া হয়নি। পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কেউ কৌতুক করে, কেউ আবার সমালোচনা করে তাঁকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করেন। সম্ভাব্য ইন্টারনেট বন্ধ, যান চলাচলে বাধা কিংবা পুলিশের পদক্ষেপ—সবই আলোচনায় উঠে আসে।

এই কথোপকথনের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়, একটি আন্দোলন শুধু রাজপথেই নয়, সাধারণ মানুষের ঘরেও নানা ধরনের বিতর্ক ও উদ্বেগ তৈরি করে।

সাংবাদিকতার দায়বদ্ধতা

সবশেষে তিনি সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। তাঁর যুক্তি, একজন সাংবাদিকের কাজ কোনো পক্ষ নেওয়া নয়; বরং ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা এবং বাস্তবতা তুলে ধরা। ব্যক্তিগত মত, সামাজিক চাপ কিংবা রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সত্য অনুসন্ধানই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বৃহত্তর প্রশ্ন

এই অভিজ্ঞতা শুধু একটি আন্দোলনের কাহিনি নয়। এটি গণতন্ত্রে প্রতিবাদ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা এবং সাধারণ মানুষের ভয়-সংশয়ের একটি প্রতিচ্ছবি। যখন সমাজে মতভেদ তীব্র হয়, তখন নিরপেক্ষভাবে সত্য অনুসন্ধান আরও কঠিন হয়ে ওঠে। কিন্তু সেই কঠিন পথই সাংবাদিকতার প্রকৃত পরীক্ষা।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

প্রতিবাদের ময়দানে এক সাংবাদিকের যাত্রা: কৌতূহল, সংশয় ও গণতন্ত্রের প্রশ্ন

০৭:৫২:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর অন্যতম পরিচিত প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা তৈরি হয়েছে। কেউ এটিকে তরুণদের ন্যায্য ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, আন্দোলনের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। এই দুই বিপরীত অবস্থানের মাঝখানে দাঁড়িয়ে একজন সাংবাদিকের মনে জন্ম নেয় একটি সহজ প্রশ্ন—ঘটনাস্থলে না গেলে আসলে সত্যটা জানা সম্ভব কি?

দূর থেকে নয়, কাছ থেকে দেখার ইচ্ছা

তিনি শুরু থেকেই নিজেকে গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জাতীয় স্বার্থ—এই তিনটির সমর্থক বলে মনে করেন। তাই আন্দোলনের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার আগে তিনি নিজেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে চান। তাঁর কাছে সাংবাদিকতার অন্যতম শর্ত হলো প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সত্য তুলে ধরা।

সহিংসতার খবর বাড়ায় কৌতূহল

ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এবং আহত হওয়ার খবর তাঁকে ভাবিয়ে তোলে। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দৃশ্যগুলো তাঁকে আরও কৌতূহলী করে তোলে। তবে একই সঙ্গে তাঁর মনে ছিল আশঙ্কা—ঘটনাস্থলে গেলে অনেকে হয়তো তাঁর উপস্থিতিকেই রাজনৈতিক সমর্থন হিসেবে ব্যাখ্যা করবেন।

পরিচিতদের অনীহা

প্রথমে তিনি কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু একজন পাসপোর্ট সংক্রান্ত ঝামেলার ভয়ে রাজি হন না। আরেকজন ব্যক্তিগত পরিকল্পনার কথা বলে এড়িয়ে যান। কেউ আবার মনে করেন, এমন প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার বাস্তব কোনো ফল নেই।

এই প্রতিক্রিয়াগুলো লেখককে বুঝিয়ে দেয়, রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে অনেকেই নিজের অবস্থান প্রকাশ করতে দ্বিধায় ভোগেন।

Satire | Going to Jantar Mantar - The Hindu

পরিবারের উদ্বেগ

বাড়িতেও তাঁর সিদ্ধান্ত সহজভাবে নেওয়া হয়নি। পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কেউ কৌতুক করে, কেউ আবার সমালোচনা করে তাঁকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করেন। সম্ভাব্য ইন্টারনেট বন্ধ, যান চলাচলে বাধা কিংবা পুলিশের পদক্ষেপ—সবই আলোচনায় উঠে আসে।

এই কথোপকথনের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়, একটি আন্দোলন শুধু রাজপথেই নয়, সাধারণ মানুষের ঘরেও নানা ধরনের বিতর্ক ও উদ্বেগ তৈরি করে।

সাংবাদিকতার দায়বদ্ধতা

সবশেষে তিনি সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। তাঁর যুক্তি, একজন সাংবাদিকের কাজ কোনো পক্ষ নেওয়া নয়; বরং ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা এবং বাস্তবতা তুলে ধরা। ব্যক্তিগত মত, সামাজিক চাপ কিংবা রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সত্য অনুসন্ধানই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বৃহত্তর প্রশ্ন

এই অভিজ্ঞতা শুধু একটি আন্দোলনের কাহিনি নয়। এটি গণতন্ত্রে প্রতিবাদ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা এবং সাধারণ মানুষের ভয়-সংশয়ের একটি প্রতিচ্ছবি। যখন সমাজে মতভেদ তীব্র হয়, তখন নিরপেক্ষভাবে সত্য অনুসন্ধান আরও কঠিন হয়ে ওঠে। কিন্তু সেই কঠিন পথই সাংবাদিকতার প্রকৃত পরীক্ষা।