০৮:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

প্রথম ধাপে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ৬ বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বিদেশে পাচার হওয়া ঋণের অর্থ ফেরাতে প্রথম ধাপে ছয়টি বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাদের বিরুদ্ধে বকেয়া ঋণ, অর্থ পাচারের অভিযোগ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পাচার হওয়া ঋণ উদ্ধারে নতুন উদ্যোগ
বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশে পাচার হওয়া ঋণের অর্থ উদ্ধারে কৌশলগত পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ছয়টি বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করেছে। তবে কৌশলগত কারণে এখনো এসব গোষ্ঠীর নাম প্রকাশ করা হয়নি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র জানায়, এসব গোষ্ঠীকে বেছে নেওয়া হয়েছে তাদের বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ, অর্থ পাচারের অভিযোগ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে।

গোয়েন্দা তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে নির্বাচন
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, শক্ত প্রমাণ রয়েছে যে এসব গোষ্ঠী ব্যাংক খাত থেকে নেওয়া বিপুল ঋণের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করেছে। দ্রুত ফল পাওয়ার জন্য যেসব গোষ্ঠীকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এবং আলোচিত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, তাদেরই প্রথম ধাপে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

বিদেশি আদালতে দেওয়ানি মামলা প্রস্তুতি
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধার সংস্থা এবং মামলা পরিচালনার অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় বিদেশি আদালতে দেওয়ানি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা অর্থের গতিপথ অনুসন্ধান, বিদেশে থাকা সম্পদের অবস্থান নির্ধারণ এবং অর্থ ফেরানোর আইনি কৌশল নির্ধারণে কাজ করবেন।

গভর্নরের কঠোর নির্দেশনা
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ব্যাংকগুলোকে এই প্রক্রিয়ায় আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, পাচার হওয়া এই অর্থ মূলত আমানতকারীদের সম্পদ।

মঙ্গলবার ‘সিভিল অ্যাসেট রিকভারি স্ট্যাটাস আপডেট’ শীর্ষক এক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন গভর্নর, যিনি স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যানও।

তিনি ব্যাংকগুলোর উদ্দেশে বলেন, এটি জাতীয় অগ্রাধিকার। যদি কোনো ব্যাংক এ ধরনের মামলা পরিচালনার সময় রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে, তাহলে সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তিনি নিজেই সেই চাপ মোকাবেলার দায়িত্ব নেবেন।

দুই পথে অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়া
পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের কাজ দুটি পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে।

একটি হলো ফৌজদারি মামলা, যা সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

অন্যটি হলো দেওয়ানি মামলা, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিক আইনজীবী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করে বিদেশি আদালতে ক্ষতিপূরণ ও সম্পদ ফেরতের জন্য মামলা করবে।

আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি
বৈঠকে জানানো হয়, ইতোমধ্যে ১০টি ব্যাংক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মোট ৩৬টি গোপনীয়তা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

বেসরকারি ব্যাংকগুলো দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে নিলেও রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তথ্য আদান-প্রদান এবং গোপনীয়তা চুক্তি সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে আরও বড় পরিকল্পনা
প্রথম ধাপে ছয়টি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক এই কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে।

দ্বিতীয় ধাপে দেওয়ানি সম্পদ পুনরুদ্ধার কাঠামোর আওতায় ১০০টিরও বেশি সম্ভাব্য মামলার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করেন, প্রথম ধাপে এই ছয়টি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সফল আইনি পদক্ষেপ নেওয়া গেলে তা একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করবে এবং বড় অঙ্কের ঋণখেলাপিদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়াবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

প্রথম ধাপে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ৬ বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

০৫:৫৭:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

বিদেশে পাচার হওয়া ঋণের অর্থ ফেরাতে প্রথম ধাপে ছয়টি বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাদের বিরুদ্ধে বকেয়া ঋণ, অর্থ পাচারের অভিযোগ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পাচার হওয়া ঋণ উদ্ধারে নতুন উদ্যোগ
বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশে পাচার হওয়া ঋণের অর্থ উদ্ধারে কৌশলগত পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ছয়টি বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করেছে। তবে কৌশলগত কারণে এখনো এসব গোষ্ঠীর নাম প্রকাশ করা হয়নি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র জানায়, এসব গোষ্ঠীকে বেছে নেওয়া হয়েছে তাদের বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ, অর্থ পাচারের অভিযোগ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে।

গোয়েন্দা তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে নির্বাচন
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, শক্ত প্রমাণ রয়েছে যে এসব গোষ্ঠী ব্যাংক খাত থেকে নেওয়া বিপুল ঋণের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করেছে। দ্রুত ফল পাওয়ার জন্য যেসব গোষ্ঠীকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এবং আলোচিত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, তাদেরই প্রথম ধাপে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

বিদেশি আদালতে দেওয়ানি মামলা প্রস্তুতি
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধার সংস্থা এবং মামলা পরিচালনার অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় বিদেশি আদালতে দেওয়ানি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা অর্থের গতিপথ অনুসন্ধান, বিদেশে থাকা সম্পদের অবস্থান নির্ধারণ এবং অর্থ ফেরানোর আইনি কৌশল নির্ধারণে কাজ করবেন।

গভর্নরের কঠোর নির্দেশনা
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ব্যাংকগুলোকে এই প্রক্রিয়ায় আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, পাচার হওয়া এই অর্থ মূলত আমানতকারীদের সম্পদ।

মঙ্গলবার ‘সিভিল অ্যাসেট রিকভারি স্ট্যাটাস আপডেট’ শীর্ষক এক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন গভর্নর, যিনি স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যানও।

তিনি ব্যাংকগুলোর উদ্দেশে বলেন, এটি জাতীয় অগ্রাধিকার। যদি কোনো ব্যাংক এ ধরনের মামলা পরিচালনার সময় রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে, তাহলে সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তিনি নিজেই সেই চাপ মোকাবেলার দায়িত্ব নেবেন।

দুই পথে অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়া
পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের কাজ দুটি পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে।

একটি হলো ফৌজদারি মামলা, যা সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

অন্যটি হলো দেওয়ানি মামলা, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিক আইনজীবী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করে বিদেশি আদালতে ক্ষতিপূরণ ও সম্পদ ফেরতের জন্য মামলা করবে।

আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি
বৈঠকে জানানো হয়, ইতোমধ্যে ১০টি ব্যাংক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মোট ৩৬টি গোপনীয়তা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

বেসরকারি ব্যাংকগুলো দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে নিলেও রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তথ্য আদান-প্রদান এবং গোপনীয়তা চুক্তি সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে আরও বড় পরিকল্পনা
প্রথম ধাপে ছয়টি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক এই কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে।

দ্বিতীয় ধাপে দেওয়ানি সম্পদ পুনরুদ্ধার কাঠামোর আওতায় ১০০টিরও বেশি সম্ভাব্য মামলার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করেন, প্রথম ধাপে এই ছয়টি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সফল আইনি পদক্ষেপ নেওয়া গেলে তা একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করবে এবং বড় অঙ্কের ঋণখেলাপিদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়াবে।