০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

প্রশান্ত মহাসাগরে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল চীন, আগেই জানানো হয়েছিল সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে

প্রশান্ত মহাসাগরে একটি কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের দাবি করেছে চীন। সোমবার দেশটির নৌবাহিনী জানায়, একটি কৌশলগত পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে প্রশিক্ষণমূলক সিমুলেশন ওয়ারহেড বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয় এবং সেটি নির্ধারিত সমুদ্র এলাকায় নির্ভুলভাবে আঘাত হানে।

চীনের নৌবাহিনীর মুখপাত্র ওয়াং শুয়েমেং এক বিবৃতিতে জানান, স্থানীয় সময় ৬ জুলাই দুপুর ১২টা ১ মিনিটে গণমুক্তি বাহিনীর নৌবাহিনীর একটি কৌশলগত পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়। তিনি বলেন, এটি চীনের বার্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণের নিয়মিত অংশ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আগেই বিষয়টি জানানো হয়েছিল।

যৌথ নৌ-মহড়ার দিনেই উৎক্ষেপণ

ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার দিনই পূর্ব চীনের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বন্দর চিংদাও উপকূলে চীন ও রাশিয়ার বার্ষিক যৌথ নৌ-মহড়া শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে এই উৎক্ষেপণ ওই মহড়ার অংশ ছিল কি না, সে বিষয়ে চীনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

প্রতিবেশী দেশগুলোকে আগাম অবহিত

ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের আগে চীন কয়েকটি দেশকে আগাম সতর্ক করেছিল বলে জানা গেছে। পাপুয়া নিউগিনির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাস্টিন টকাচেঙ্কো জানান, চীনের রাষ্ট্রদূত ব্যক্তিগতভাবে তাকে ফোন করে এ বিষয়ে অবহিত করেছেন।

একইভাবে নিউজিল্যান্ড সরকারের একটি সূত্রও জানিয়েছে, চীন তাদের সম্ভাব্য আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে আগেই জানিয়েছিল। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি ঠিক কোথায় গিয়ে পড়বে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।

আগের পরীক্ষার ধারাবাহিকতা

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে চীনের রকেট ফোর্স আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করে ফরাসি পলিনেশিয়ার কাছাকাছি সমুদ্রে একটি ডামি ওয়ারহেড নিক্ষেপ করেছিল। চার দশকেরও বেশি সময় পর সেটিই ছিল আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর দিয়ে চীনের প্রথম দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ।

সে সময় বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, উৎক্ষেপিত অস্ত্রটি ডং ফেং-৩১ সিরিজের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র, যা তাপ-পরমাণু ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। ক্ষেপণাস্ত্রটি এমন একটি সমুদ্রাঞ্চলে পড়েছিল, যা আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃত।

আঞ্চলিক উদ্বেগ

প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা নিয়ে ইতোমধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কয়েকটি দেশ। নিউজিল্যান্ডের প্রতিরক্ষা বাহিনীর একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে সতর্ক করা হয়েছে, চীনের নৌ টহল এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের একটি স্থায়ী বাস্তবতায় পরিণত হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংও জানিয়েছেন, চীন সমুদ্রভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরিকল্পনা সম্পর্কে তাদের সরকারকে আগেই জানিয়েছিল। তবে তিনি এই পরীক্ষাকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।

তার ভাষায়, চীনের দ্রুত সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এমন এক প্রেক্ষাপটে ঘটছে, যেখানে উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম সম্পর্কে প্রয়োজনীয় স্বচ্ছতা এবং আস্থা সৃষ্টির বিষয়টি এখনও যথেষ্ট নয়। ফলে এ ধরনের পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে নতুন উদ্বেগ, আগাম অবহিত ছিল কয়েকটি দেশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

প্রশান্ত মহাসাগরে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল চীন, আগেই জানানো হয়েছিল সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে

০৯:২৯:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

প্রশান্ত মহাসাগরে একটি কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের দাবি করেছে চীন। সোমবার দেশটির নৌবাহিনী জানায়, একটি কৌশলগত পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে প্রশিক্ষণমূলক সিমুলেশন ওয়ারহেড বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয় এবং সেটি নির্ধারিত সমুদ্র এলাকায় নির্ভুলভাবে আঘাত হানে।

চীনের নৌবাহিনীর মুখপাত্র ওয়াং শুয়েমেং এক বিবৃতিতে জানান, স্থানীয় সময় ৬ জুলাই দুপুর ১২টা ১ মিনিটে গণমুক্তি বাহিনীর নৌবাহিনীর একটি কৌশলগত পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়। তিনি বলেন, এটি চীনের বার্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণের নিয়মিত অংশ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আগেই বিষয়টি জানানো হয়েছিল।

যৌথ নৌ-মহড়ার দিনেই উৎক্ষেপণ

ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার দিনই পূর্ব চীনের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বন্দর চিংদাও উপকূলে চীন ও রাশিয়ার বার্ষিক যৌথ নৌ-মহড়া শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে এই উৎক্ষেপণ ওই মহড়ার অংশ ছিল কি না, সে বিষয়ে চীনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

প্রতিবেশী দেশগুলোকে আগাম অবহিত

ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের আগে চীন কয়েকটি দেশকে আগাম সতর্ক করেছিল বলে জানা গেছে। পাপুয়া নিউগিনির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাস্টিন টকাচেঙ্কো জানান, চীনের রাষ্ট্রদূত ব্যক্তিগতভাবে তাকে ফোন করে এ বিষয়ে অবহিত করেছেন।

একইভাবে নিউজিল্যান্ড সরকারের একটি সূত্রও জানিয়েছে, চীন তাদের সম্ভাব্য আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে আগেই জানিয়েছিল। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি ঠিক কোথায় গিয়ে পড়বে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।

আগের পরীক্ষার ধারাবাহিকতা

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে চীনের রকেট ফোর্স আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করে ফরাসি পলিনেশিয়ার কাছাকাছি সমুদ্রে একটি ডামি ওয়ারহেড নিক্ষেপ করেছিল। চার দশকেরও বেশি সময় পর সেটিই ছিল আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর দিয়ে চীনের প্রথম দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ।

সে সময় বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, উৎক্ষেপিত অস্ত্রটি ডং ফেং-৩১ সিরিজের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র, যা তাপ-পরমাণু ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। ক্ষেপণাস্ত্রটি এমন একটি সমুদ্রাঞ্চলে পড়েছিল, যা আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃত।

আঞ্চলিক উদ্বেগ

প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা নিয়ে ইতোমধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কয়েকটি দেশ। নিউজিল্যান্ডের প্রতিরক্ষা বাহিনীর একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে সতর্ক করা হয়েছে, চীনের নৌ টহল এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের একটি স্থায়ী বাস্তবতায় পরিণত হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংও জানিয়েছেন, চীন সমুদ্রভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরিকল্পনা সম্পর্কে তাদের সরকারকে আগেই জানিয়েছিল। তবে তিনি এই পরীক্ষাকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।

তার ভাষায়, চীনের দ্রুত সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এমন এক প্রেক্ষাপটে ঘটছে, যেখানে উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম সম্পর্কে প্রয়োজনীয় স্বচ্ছতা এবং আস্থা সৃষ্টির বিষয়টি এখনও যথেষ্ট নয়। ফলে এ ধরনের পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে নতুন উদ্বেগ, আগাম অবহিত ছিল কয়েকটি দেশ।