০৮:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

প্রশান্ত মহাসাগরে ব্লুফিন টুনার রেকর্ড উপস্থিতি, উল্টো চাপে জাপানের জেলেরা

জাপানের উপকূলে এ বছর অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে মূল্যবান প্রশান্ত মহাসাগরীয় ব্লুফিন টুনার উপস্থিতি। সাধারণভাবে এমন খবর জেলেদের জন্য সুখবর হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে এই বাড়তি মাছই এখন তাদের জন্য বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। নির্ধারিত আহরণসীমা বা কোটা পূরণ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক জেলেকেই জালে ধরা টুনা আবার সমুদ্রে ছেড়ে দিতে হচ্ছে। ফলে একদিকে সম্ভাব্য আয় হারাচ্ছেন তারা, অন্যদিকে মাছ ধরার পুরো প্রক্রিয়াই হয়ে উঠছে ব্যয়বহুল ও হতাশাজনক।

জালে ধরা মাছ, তবু ছেড়ে দিতে বাধ্য

জাপানের উত্তরাঞ্চলের উপকূলে মাছ ধরেন অনেক জেলে। চলতি বছরের মে মাসে তাদের অনেকের জালে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ব্লুফিন টুনা ধরা পড়ে। কিন্তু বছরের শুরুতেই অতিরিক্ত মাছ ধরে ফেললে পরবর্তী মৌসুমে আর কোটা অবশিষ্ট থাকবে না। অথচ শীতকালে ধরা টুনা আকারে বড়, চর্বিযুক্ত এবং বাজারে অনেক বেশি দামে বিক্রি হয়। তাই এখনই সব মাছ ধরে রাখার সুযোগ নেই।

এই পরিস্থিতিতে শত শত মাছ জালে ওঠার পরও সেগুলো সমুদ্রে ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। এতে শুধু সম্ভাব্য লাভই কমছে না, বরং অন্য মাছও হাতছাড়া হচ্ছে।

Japan's Fishermen🐟 Haul 4 Tons of Giant Bluefin Tuna in Less than 3 Days

 

 

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের ইঙ্গিত

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সমুদ্রের তাপমাত্রা পরিবর্তনের কারণে ব্লুফিন টুনার চলাচলের স্বাভাবিক পথ বদলে যেতে পারে। ফলে আগে যেসব এলাকায় তুলনামূলক কম মাছ দেখা যেত, সেখানে এখন বড় সংখ্যায় টুনা আসছে।

এটি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে জাপানের কিছু অঞ্চলে একসময়ের প্রচুর পরিমাণে পাওয়া স্কুইডের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় স্থানীয় মৎস্যশিল্পও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

কোটা ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধতা

অতিরিক্ত আহরণ ঠেকাতে কয়েক বছর আগে আন্তর্জাতিকভাবে ব্লুফিন টুনা ধরার কোটা ব্যবস্থা চালু করা হয়। এর আওতায় নির্দিষ্ট ওজনের বেশি টুনা ধরার জন্য প্রতিটি দেশের বার্ষিক সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

যদিও চলতি বছরের জন্য জাপানের কোটা আগের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে, তবুও এ বছর মাছের সংখ্যা এত বেশি বেড়েছে যে অনেক জেলে বছরের মাঝামাঝিতেই তাদের নির্ধারিত সীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। এপ্রিল মাসে জাপানের উপকূলে বড় আকারের ব্লুফিন টুনা ধরা পড়ার পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

Pacific bluefin tuna treading in dangerous waters - Nikkei Asia

বাড়তি কোটার প্রস্তাব

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাপান আগামী বছর বড় আকারের ব্লুফিন টুনার কোটা ২৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব সমর্থন করেছে। একই সঙ্গে ৩০ কেজির কম ওজনের টুনা ধরার অনুমোদন কিছুটা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে প্রজননক্ষম মাছের সংখ্যা সুরক্ষিত থাকে এবং ভবিষ্যতেও মজুত স্থিতিশীল থাকে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার বৈঠকে নতুন কোটার কাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বছরের শেষ দিকে আগামী দুই বছরের জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সংরক্ষণে সাফল্য, সামনে নতুন ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের সংরক্ষণ উদ্যোগের কারণেই ব্লুফিন টুনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অতিরিক্ত আহরণ নিয়ন্ত্রণের ফলে একসময় সংকটে থাকা এই প্রজাতির প্রজননক্ষম মজুত এখন অনেকটাই পুনরুদ্ধার হয়েছে।

তবে নতুন বাস্তবতা দেখিয়ে দিচ্ছে, শুধু সংরক্ষণ নয়, পরিবর্তিত জলবায়ু ও মাছের চলাচলের ধরণ বিবেচনায় রেখে কোটা ব্যবস্থাও সময়োপযোগী করতে হবে। তা না হলে সমুদ্রে মাছ থাকলেও জেলেরা তার অর্থনৈতিক সুবিধা পুরোপুরি নিতে পারবেন না।

প্রকাশের জন্য প্রস্তুত সম্পূর্ণ প্যাকেজটি নিচে দেওয়া হলো।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

প্রশান্ত মহাসাগরে ব্লুফিন টুনার রেকর্ড উপস্থিতি, উল্টো চাপে জাপানের জেলেরা

১২:৫৪:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

জাপানের উপকূলে এ বছর অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে মূল্যবান প্রশান্ত মহাসাগরীয় ব্লুফিন টুনার উপস্থিতি। সাধারণভাবে এমন খবর জেলেদের জন্য সুখবর হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে এই বাড়তি মাছই এখন তাদের জন্য বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। নির্ধারিত আহরণসীমা বা কোটা পূরণ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক জেলেকেই জালে ধরা টুনা আবার সমুদ্রে ছেড়ে দিতে হচ্ছে। ফলে একদিকে সম্ভাব্য আয় হারাচ্ছেন তারা, অন্যদিকে মাছ ধরার পুরো প্রক্রিয়াই হয়ে উঠছে ব্যয়বহুল ও হতাশাজনক।

জালে ধরা মাছ, তবু ছেড়ে দিতে বাধ্য

জাপানের উত্তরাঞ্চলের উপকূলে মাছ ধরেন অনেক জেলে। চলতি বছরের মে মাসে তাদের অনেকের জালে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ব্লুফিন টুনা ধরা পড়ে। কিন্তু বছরের শুরুতেই অতিরিক্ত মাছ ধরে ফেললে পরবর্তী মৌসুমে আর কোটা অবশিষ্ট থাকবে না। অথচ শীতকালে ধরা টুনা আকারে বড়, চর্বিযুক্ত এবং বাজারে অনেক বেশি দামে বিক্রি হয়। তাই এখনই সব মাছ ধরে রাখার সুযোগ নেই।

এই পরিস্থিতিতে শত শত মাছ জালে ওঠার পরও সেগুলো সমুদ্রে ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। এতে শুধু সম্ভাব্য লাভই কমছে না, বরং অন্য মাছও হাতছাড়া হচ্ছে।

Japan's Fishermen🐟 Haul 4 Tons of Giant Bluefin Tuna in Less than 3 Days

 

 

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের ইঙ্গিত

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সমুদ্রের তাপমাত্রা পরিবর্তনের কারণে ব্লুফিন টুনার চলাচলের স্বাভাবিক পথ বদলে যেতে পারে। ফলে আগে যেসব এলাকায় তুলনামূলক কম মাছ দেখা যেত, সেখানে এখন বড় সংখ্যায় টুনা আসছে।

এটি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে জাপানের কিছু অঞ্চলে একসময়ের প্রচুর পরিমাণে পাওয়া স্কুইডের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় স্থানীয় মৎস্যশিল্পও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

কোটা ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধতা

অতিরিক্ত আহরণ ঠেকাতে কয়েক বছর আগে আন্তর্জাতিকভাবে ব্লুফিন টুনা ধরার কোটা ব্যবস্থা চালু করা হয়। এর আওতায় নির্দিষ্ট ওজনের বেশি টুনা ধরার জন্য প্রতিটি দেশের বার্ষিক সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

যদিও চলতি বছরের জন্য জাপানের কোটা আগের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে, তবুও এ বছর মাছের সংখ্যা এত বেশি বেড়েছে যে অনেক জেলে বছরের মাঝামাঝিতেই তাদের নির্ধারিত সীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। এপ্রিল মাসে জাপানের উপকূলে বড় আকারের ব্লুফিন টুনা ধরা পড়ার পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

Pacific bluefin tuna treading in dangerous waters - Nikkei Asia

বাড়তি কোটার প্রস্তাব

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাপান আগামী বছর বড় আকারের ব্লুফিন টুনার কোটা ২৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব সমর্থন করেছে। একই সঙ্গে ৩০ কেজির কম ওজনের টুনা ধরার অনুমোদন কিছুটা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে প্রজননক্ষম মাছের সংখ্যা সুরক্ষিত থাকে এবং ভবিষ্যতেও মজুত স্থিতিশীল থাকে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার বৈঠকে নতুন কোটার কাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বছরের শেষ দিকে আগামী দুই বছরের জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সংরক্ষণে সাফল্য, সামনে নতুন ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের সংরক্ষণ উদ্যোগের কারণেই ব্লুফিন টুনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অতিরিক্ত আহরণ নিয়ন্ত্রণের ফলে একসময় সংকটে থাকা এই প্রজাতির প্রজননক্ষম মজুত এখন অনেকটাই পুনরুদ্ধার হয়েছে।

তবে নতুন বাস্তবতা দেখিয়ে দিচ্ছে, শুধু সংরক্ষণ নয়, পরিবর্তিত জলবায়ু ও মাছের চলাচলের ধরণ বিবেচনায় রেখে কোটা ব্যবস্থাও সময়োপযোগী করতে হবে। তা না হলে সমুদ্রে মাছ থাকলেও জেলেরা তার অর্থনৈতিক সুবিধা পুরোপুরি নিতে পারবেন না।

প্রকাশের জন্য প্রস্তুত সম্পূর্ণ প্যাকেজটি নিচে দেওয়া হলো।