প্রাচীন ইরানের ঐতিহ্যবাহী অলংকার ব্যবহার করে নতুন সিনেমার প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় অভিনেত্রী জেনডায়াকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। লন্ডনে একটি অনুষ্ঠানে তিনি যে কানের দুল পরেছিলেন, তা প্রায় সাতশ খ্রিস্টপূর্বাব্দের ইরানি প্রত্নসম্পদের অংশ বলে দাবি করা হচ্ছে।
প্রত্নতত্ত্ববিদ ও ইতিহাসবিদদের একাংশের অভিযোগ, এমন মূল্যবান সাংস্কৃতিক নিদর্শনকে সাজসজ্জার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা ঐতিহ্যের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখায় না।
প্রাচীন নিদর্শন ঘিরে বিতর্ক
জেনডায়া আসন্ন সিনেমা ‘দ্য ওডিসি’র প্রচারণার সময় দেবী অ্যাথেনা চরিত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। সেই সময় তার পরা কানের দুল দুটি ইরানের প্রাচীন নিদর্শনের সঙ্গে যুক্ত বলে জানানো হয়।
এই অলংকারগুলো জিভিয়ে অঞ্চলের প্রাচীন সম্পদের অংশ হিসেবে পরিচিত। এসব নিদর্শন বহু বছর আগে ইরান থেকে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন ব্যক্তিগত সংগ্রহ ও জাদুঘরে পৌঁছেছে বলে ইতিহাসবিদদের দাবি।

এই ঘটনাকে ঘিরে অনেক বিশেষজ্ঞ প্রশ্ন তুলেছেন, প্রাচীন ও আধ্যাত্মিক গুরুত্বসম্পন্ন বস্তু শুধুমাত্র সৌন্দর্য প্রদর্শনের জন্য ব্যবহার করা কতটা গ্রহণযোগ্য।
সাংস্কৃতিক মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন
ইরানি বংশোদ্ভূত শিল্প ইতিহাসবিদ সুসান বাবাইয়ের মতে, এসব বস্তু কেবল অলংকার নয়, এগুলো মানব সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তার মতে, প্রাচীন নিদর্শনকে ফ্যাশনের অংশ বানালে এর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করছেন, এই ঘটনা প্রাচীন সম্পদ সংরক্ষণ, মালিকানা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার বিষয়গুলোকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।
অলংকারের ব্যবহার নিয়ে প্রতিক্রিয়া
অলংকারটির বর্তমান মালিকপক্ষের দাবি, এগুলো আইনগত প্রক্রিয়া মেনে সংরক্ষিত আছে এবং প্রাচীন ইরানি শিল্পকলার প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতেই এগুলো প্রদর্শনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।

তাদের বক্তব্য, এর উদ্দেশ্য বাণিজ্যিক প্রচারণা নয়, বরং প্রাচীন পারস্যের শিল্প ও কারুশিল্প সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বাড়ানো।
ঐতিহ্য রক্ষার বড় আলোচনা
এই বিতর্ক শুধু জেনডায়ার পোশাক বা অলংকারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রাচীন নিদর্শনের মালিকানা ও সংরক্ষণ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইতিহাসবিদদের মতে, প্রাচীন সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধু সৌন্দর্য নয়, এর পেছনের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের আবেগকেও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
জেনডায়ার এই অলংকার পরার ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা শুধু জাদুঘর বা বিশেষজ্ঞদের বিষয় নয়, জনসাধারণের সচেতনতার সঙ্গেও এটি গভীরভাবে যুক্ত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















