০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

বন্ড সুবিধার অপব্যবহারে সংকটে দেশের বস্ত্রশিল্প

রপ্তানিকারকদের সহায়তার উদ্দেশ্যে চালু করা বন্ড সুবিধা এখন দেশের বস্ত্রশিল্পের জন্য বড় সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুল্কমুক্ত সুবিধার সুযোগ নিয়ে ভুয়া তথ্য দেখিয়ে অতিরিক্ত সুতা ও কাপড় আমদানি করে তা খোলাবাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে সরকার যেমন বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি দেশীয় স্পিনিং ও উইভিং মিলগুলো ধীরে ধীরে টিকে থাকার সক্ষমতা হারাচ্ছে।

বন্ড সুবিধার নামে অনিয়ম
উদ্যোক্তারা জানান, বন্ডেড ওয়্যারহাউজ ব্যবস্থার ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে একটি চক্র নিয়মিতভাবে সুতা ও কাপড় বাজারে ছাড়ছে। কাগজে কম মানের বা কম পরিমাণ দেখিয়ে বাস্তবে বেশি ও উন্নত মানের সুতা আমদানি করা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অস্তিত্বহীন কারখানার নামেও কাঁচামাল আনা হচ্ছে, যা পরে খোলাবাজারে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

খোলাবাজারে অবাধ বিক্রি
নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিনাশুল্কে আমদানিকৃত সুতা ও কাপড় কম দামে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে। এসব পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় দেশীয় মিলগুলো টিকতে পারছে না। ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতা ও কাপড় অনেক সময় অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে।

দেশীয় শিল্পের ওপর চাপ
এই অনিয়মের কারণে প্রাইমারি টেক্সটাইল খাত ইতোমধ্যে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেক কারখানা উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে, কিছু কারখানা বন্ধও হয়ে গেছে। উদ্যোক্তারা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি চলতে থাকলে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং ব্যাংকঋণ পরিশোধে সংকট তৈরি হবে।

বন্ড সুবিধার অপব্যবহারে বস্ত্রশিল্প হুমকির মুখে

 

অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবের শঙ্কা
টেক্সটাইল ও পোশাক খাত দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। এই খাত দুর্বল হয়ে পড়লে কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।

সমাধানে দ্রুত উদ্যোগের দাবি
উদ্যোক্তাদের মতে, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার বন্ধে কঠোর নজরদারি, নিয়মিত তদারকি ও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে দেশের প্রাইমারি বস্ত্রশিল্পকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে তারা সতর্ক করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

বন্ড সুবিধার অপব্যবহারে সংকটে দেশের বস্ত্রশিল্প

১১:১১:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

রপ্তানিকারকদের সহায়তার উদ্দেশ্যে চালু করা বন্ড সুবিধা এখন দেশের বস্ত্রশিল্পের জন্য বড় সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুল্কমুক্ত সুবিধার সুযোগ নিয়ে ভুয়া তথ্য দেখিয়ে অতিরিক্ত সুতা ও কাপড় আমদানি করে তা খোলাবাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে সরকার যেমন বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি দেশীয় স্পিনিং ও উইভিং মিলগুলো ধীরে ধীরে টিকে থাকার সক্ষমতা হারাচ্ছে।

বন্ড সুবিধার নামে অনিয়ম
উদ্যোক্তারা জানান, বন্ডেড ওয়্যারহাউজ ব্যবস্থার ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে একটি চক্র নিয়মিতভাবে সুতা ও কাপড় বাজারে ছাড়ছে। কাগজে কম মানের বা কম পরিমাণ দেখিয়ে বাস্তবে বেশি ও উন্নত মানের সুতা আমদানি করা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অস্তিত্বহীন কারখানার নামেও কাঁচামাল আনা হচ্ছে, যা পরে খোলাবাজারে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

খোলাবাজারে অবাধ বিক্রি
নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিনাশুল্কে আমদানিকৃত সুতা ও কাপড় কম দামে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে। এসব পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় দেশীয় মিলগুলো টিকতে পারছে না। ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতা ও কাপড় অনেক সময় অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে।

দেশীয় শিল্পের ওপর চাপ
এই অনিয়মের কারণে প্রাইমারি টেক্সটাইল খাত ইতোমধ্যে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেক কারখানা উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে, কিছু কারখানা বন্ধও হয়ে গেছে। উদ্যোক্তারা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি চলতে থাকলে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং ব্যাংকঋণ পরিশোধে সংকট তৈরি হবে।

বন্ড সুবিধার অপব্যবহারে বস্ত্রশিল্প হুমকির মুখে

 

অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবের শঙ্কা
টেক্সটাইল ও পোশাক খাত দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। এই খাত দুর্বল হয়ে পড়লে কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।

সমাধানে দ্রুত উদ্যোগের দাবি
উদ্যোক্তাদের মতে, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার বন্ধে কঠোর নজরদারি, নিয়মিত তদারকি ও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে দেশের প্রাইমারি বস্ত্রশিল্পকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে তারা সতর্ক করেছেন।