১২:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে দেশে মৃত ৫৪, আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৮ হাজারের বেশি মানুষ

দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪ জনে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সাতটি জেলা এ দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো হলো খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ।

মৃত্যুর সর্বোচ্চ সংখ্যা কক্সবাজারে

জেলাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে কক্সবাজারে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ছয়জন, রাঙামাটিতে তিনজন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

আহতদের সংখ্যাও সবচেয়ে বেশি কক্সবাজারে। সেখানে আহত হয়েছেন ২৪ জন। চট্টগ্রামে আহত ১২ জন, বান্দরবানে দুজন এবং খাগড়াছড়িতে একজন আহত হয়েছেন।

বিস্তৃত ক্ষয়ক্ষতি

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে মোট ৫৯টি উপজেলা, ৩৩৪টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে মোট ১,০৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বর্তমানে এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৮ হাজার ৪২২ জন আশ্রয় নিয়েছেন। সরকারি সংস্থাগুলো তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি

এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, পূর্বাঞ্চলের বন্যাকবলিত ১১ জেলায় নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

সোমবার সচিবালয়ে বন্যাকবলিত এলাকার স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোর স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে, যাতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত না হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়।

সরকারি ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণ বিতরণসহ অন্যান্য জরুরি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নেওয়া মানুষের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সেবাও নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে দেশে মৃত ৫৪ জন; সাত জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, ১,০৪৯ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৩৮ হাজার ৪২২ মানুষ।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে দেশে মৃত ৫৪, আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৮ হাজারের বেশি মানুষ

০৯:২২:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪ জনে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সাতটি জেলা এ দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো হলো খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ।

মৃত্যুর সর্বোচ্চ সংখ্যা কক্সবাজারে

জেলাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে কক্সবাজারে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ছয়জন, রাঙামাটিতে তিনজন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

আহতদের সংখ্যাও সবচেয়ে বেশি কক্সবাজারে। সেখানে আহত হয়েছেন ২৪ জন। চট্টগ্রামে আহত ১২ জন, বান্দরবানে দুজন এবং খাগড়াছড়িতে একজন আহত হয়েছেন।

বিস্তৃত ক্ষয়ক্ষতি

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে মোট ৫৯টি উপজেলা, ৩৩৪টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে মোট ১,০৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বর্তমানে এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৮ হাজার ৪২২ জন আশ্রয় নিয়েছেন। সরকারি সংস্থাগুলো তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি

এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, পূর্বাঞ্চলের বন্যাকবলিত ১১ জেলায় নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

সোমবার সচিবালয়ে বন্যাকবলিত এলাকার স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোর স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে, যাতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত না হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়।

সরকারি ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণ বিতরণসহ অন্যান্য জরুরি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নেওয়া মানুষের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সেবাও নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে দেশে মৃত ৫৪ জন; সাত জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, ১,০৪৯ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৩৮ হাজার ৪২২ মানুষ।