০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

বাংলাদেশি তরুণ পাকিস্তানে গিয়ে সেনা অভিযানে নিহত হলেন কীভাবে?

পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে যে বাংলাদেশি তরুণ নিহত হওয়ার খবর সংবাদমাধ্যমে এসেছে, তিনি দুবাই যাওয়ার কথা বলে দেড় বছর আগে দেশ ছাড়েন বলে তার পরিবার জানিয়েছে।

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে গত শুক্রবার রাতে নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ১৭ সদস্য নিহত হন।

দেশটির সংবাদমাধ্যম সামা টিভিতে, তাদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে খবর প্রচারিত হয়।

তবে তার নাম – পরিচয় সেখানে প্রকাশ করা হয়নি।

এছাড়া, পাকিস্তানি সাংবাদিক জাওয়াদ ইউসুফজাই তার সামাজিক প্ল্যাটফর্ম এক্স এ ফয়সালের দুইটি ছবি প্রকাশ করেন এবং তাদের একজন বাংলাদেশি চিহ্নিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

এছাড়া পাকিস্তান ও আশপাশে জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম মাহাজের এক্স পোস্টেও নিহত ফয়সালের একটি ছবি প্রকাশ করা হয়।

নিহত ফয়সালের বয়স ২২ বছর। নিহত ফয়সালের বাড়ি মাদারীপুর সদরের কালিকাপুর ইউনিয়নের ছোট দুধখালী গ্রামে।

নিহতের চাচা আব্দুল হালিম বিবিসি বাংলাকে এ কথা জানিয়েছেন।

মি. হালিম বলেন, ” দেড় থেকে দুই বছর আগে ২০২৪ সালের মার্চে ফয়সাল দুবাই যাওয়ার কথা বলে দেশ ছাড়ে। দেশ থেকে বের হওয়ার সপ্তাহখানেক পরে যোগাযোগ করছিল। জানাইছিল ইনডিয়া আছে। সেখান থেকে দুবাই যাচ্ছে বলে তার বড় ভাইকে বলছিল।”

নিহত ফয়সাল দেশ থেকে চলে যাওয়ার পর নিয়মিত যোগাযোগ করতো না, হাতে-গোনা কয়েকবার যোগাযোগ করেছে বলে দাবি করেন তার চাচা।

দেশ ছাড়ার পর প্রথমবার তিন – চার মাস পরে একদিন হঠাৎ ফয়সাল ফোন দেয় বলে জানান মি. হালিম।

সে সময় ফয়সাল পরিবারকে ভারত থেকে দুবাই চলে যাওয়ার কথা জানায়।

কার সাথে, কিভাবে গেছে পরিবার এসব বিস্তারিত জানতে চাইলে তা ফয়সাল পাশ কাটিয়ে যেতো বলে জানান তার চাচা।

মি. হালিম জানান, ” বলছে, এক ভাইয়ের সাথে গেছে, সে সম্পূর্ণ খরচ দিয়েছে। তার বেতন থেকে এখন মাসে মাসে কেটে নেয়। ডিটেইলস জিজ্ঞেস করলে পাশ কাটায়ে ফোন রাখতো। পরে মাসখানেক পরে আবার ফোন করে জানাইছে দুবাই আছে, ভালো আছে।”

তার চাচার দাবি, সে খুবই নিরীহ, ভদ্র এবং ভালো ছেলে। বড় হওয়ার পর ছবি তোলা অপছন্দ করতো ফয়সাল।

জন্মের পর থেকেই পরিবারের সাথে ঢাকায় থাকতো। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট ফয়সাল।

নিহত ফয়সাল ঢাকায় বিভিন্ন জায়গায় মসজিদের সামনে, ওয়াজ মাহফিল হয়- এমন স্থানে টুপি, তসবিহ, জায়নামাজ, ইসলামিক বই বিক্রি করতো বলে জানায় তার চাচা।

সে সময় ফয়সালের বড় ভাই আরমান ঢাকায় একটি এনজিওতে চাকরি করতো।

কিন্তু বাবা – মা সহ সংসারের ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ায় গ্রামের বাড়িতে চলে যায়।

ফয়সালের চাচা মি. হালিম বলেন, ” গত কোরবানির ঈদের সময় মাদারীপুর থানা থেকে পুলিশ ও ডিবি পুলিশ বাড়িতে আসছিল। ফয়সালের কথা জিজ্ঞেস করছে। ফয়সাল কোথায় থাকে জিজ্ঞেস করলে বলছিল দুবাই থাকে। কিন্তু তারা বলে সে পাকিস্তান আছে জানি কি না? “

তখনই প্রথমবার ফয়সালের পরিবার তার বিষয়ে এমন তথ্য জানতে পারে।

তিনি দাবি করেন, কোরবানি ঈদের আগে ফয়সালকে টাকা-পয়সা পাঠানো ও দেশে চলে আসার কথা বলে পরিবার।

কিন্তু ফয়সাল দেশে আসতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলে, তাকে অনেক টাকা খরচ করে নেওয়া হয়েছে, সে আসতে পারবে না।

তবে কিভাবে ফয়সালের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন- এমন প্রশ্নে তার চাচা মি. হালিম জানান, গতকালকে রোববার ঢাকা থেকে এক সাংবাদিক ফয়সালের মৃত্যুর সংবাদ জানান।

” এক সাংবাদিক ছবি পাঠায়ে বলে দেখেন আপনাদের ছেলে কিনা। ছবি দেখে ফয়সালরে চিনছি আমরা। পরে ডিবি, পুলিশ সবাই আসছে ” বলেন মি. হালিম।

নিহত ফয়সালের চাচা মি. হালিম ভাইয়ের ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

” যারা এ সমস্ত কাজ করে অপরাধ করে তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করুক। আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয় ” বলেন মি. হালিম।

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, ফয়সালের নিহত হওয়ার খবরে সোমবার মাদারিপুরে তার গ্রামের বাড়িতে সাংবাদিকরা গিয়ে দেখেন, তার পরিবারের সদস্যরা আহাজারি করছেন।

BBC News বাংলা

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

বাংলাদেশি তরুণ পাকিস্তানে গিয়ে সেনা অভিযানে নিহত হলেন কীভাবে?

১১:০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে যে বাংলাদেশি তরুণ নিহত হওয়ার খবর সংবাদমাধ্যমে এসেছে, তিনি দুবাই যাওয়ার কথা বলে দেড় বছর আগে দেশ ছাড়েন বলে তার পরিবার জানিয়েছে।

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে গত শুক্রবার রাতে নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ১৭ সদস্য নিহত হন।

দেশটির সংবাদমাধ্যম সামা টিভিতে, তাদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে খবর প্রচারিত হয়।

তবে তার নাম – পরিচয় সেখানে প্রকাশ করা হয়নি।

এছাড়া, পাকিস্তানি সাংবাদিক জাওয়াদ ইউসুফজাই তার সামাজিক প্ল্যাটফর্ম এক্স এ ফয়সালের দুইটি ছবি প্রকাশ করেন এবং তাদের একজন বাংলাদেশি চিহ্নিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

এছাড়া পাকিস্তান ও আশপাশে জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম মাহাজের এক্স পোস্টেও নিহত ফয়সালের একটি ছবি প্রকাশ করা হয়।

নিহত ফয়সালের বয়স ২২ বছর। নিহত ফয়সালের বাড়ি মাদারীপুর সদরের কালিকাপুর ইউনিয়নের ছোট দুধখালী গ্রামে।

নিহতের চাচা আব্দুল হালিম বিবিসি বাংলাকে এ কথা জানিয়েছেন।

মি. হালিম বলেন, ” দেড় থেকে দুই বছর আগে ২০২৪ সালের মার্চে ফয়সাল দুবাই যাওয়ার কথা বলে দেশ ছাড়ে। দেশ থেকে বের হওয়ার সপ্তাহখানেক পরে যোগাযোগ করছিল। জানাইছিল ইনডিয়া আছে। সেখান থেকে দুবাই যাচ্ছে বলে তার বড় ভাইকে বলছিল।”

নিহত ফয়সাল দেশ থেকে চলে যাওয়ার পর নিয়মিত যোগাযোগ করতো না, হাতে-গোনা কয়েকবার যোগাযোগ করেছে বলে দাবি করেন তার চাচা।

দেশ ছাড়ার পর প্রথমবার তিন – চার মাস পরে একদিন হঠাৎ ফয়সাল ফোন দেয় বলে জানান মি. হালিম।

সে সময় ফয়সাল পরিবারকে ভারত থেকে দুবাই চলে যাওয়ার কথা জানায়।

কার সাথে, কিভাবে গেছে পরিবার এসব বিস্তারিত জানতে চাইলে তা ফয়সাল পাশ কাটিয়ে যেতো বলে জানান তার চাচা।

মি. হালিম জানান, ” বলছে, এক ভাইয়ের সাথে গেছে, সে সম্পূর্ণ খরচ দিয়েছে। তার বেতন থেকে এখন মাসে মাসে কেটে নেয়। ডিটেইলস জিজ্ঞেস করলে পাশ কাটায়ে ফোন রাখতো। পরে মাসখানেক পরে আবার ফোন করে জানাইছে দুবাই আছে, ভালো আছে।”

তার চাচার দাবি, সে খুবই নিরীহ, ভদ্র এবং ভালো ছেলে। বড় হওয়ার পর ছবি তোলা অপছন্দ করতো ফয়সাল।

জন্মের পর থেকেই পরিবারের সাথে ঢাকায় থাকতো। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট ফয়সাল।

নিহত ফয়সাল ঢাকায় বিভিন্ন জায়গায় মসজিদের সামনে, ওয়াজ মাহফিল হয়- এমন স্থানে টুপি, তসবিহ, জায়নামাজ, ইসলামিক বই বিক্রি করতো বলে জানায় তার চাচা।

সে সময় ফয়সালের বড় ভাই আরমান ঢাকায় একটি এনজিওতে চাকরি করতো।

কিন্তু বাবা – মা সহ সংসারের ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ায় গ্রামের বাড়িতে চলে যায়।

ফয়সালের চাচা মি. হালিম বলেন, ” গত কোরবানির ঈদের সময় মাদারীপুর থানা থেকে পুলিশ ও ডিবি পুলিশ বাড়িতে আসছিল। ফয়সালের কথা জিজ্ঞেস করছে। ফয়সাল কোথায় থাকে জিজ্ঞেস করলে বলছিল দুবাই থাকে। কিন্তু তারা বলে সে পাকিস্তান আছে জানি কি না? “

তখনই প্রথমবার ফয়সালের পরিবার তার বিষয়ে এমন তথ্য জানতে পারে।

তিনি দাবি করেন, কোরবানি ঈদের আগে ফয়সালকে টাকা-পয়সা পাঠানো ও দেশে চলে আসার কথা বলে পরিবার।

কিন্তু ফয়সাল দেশে আসতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলে, তাকে অনেক টাকা খরচ করে নেওয়া হয়েছে, সে আসতে পারবে না।

তবে কিভাবে ফয়সালের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন- এমন প্রশ্নে তার চাচা মি. হালিম জানান, গতকালকে রোববার ঢাকা থেকে এক সাংবাদিক ফয়সালের মৃত্যুর সংবাদ জানান।

” এক সাংবাদিক ছবি পাঠায়ে বলে দেখেন আপনাদের ছেলে কিনা। ছবি দেখে ফয়সালরে চিনছি আমরা। পরে ডিবি, পুলিশ সবাই আসছে ” বলেন মি. হালিম।

নিহত ফয়সালের চাচা মি. হালিম ভাইয়ের ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

” যারা এ সমস্ত কাজ করে অপরাধ করে তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করুক। আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয় ” বলেন মি. হালিম।

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, ফয়সালের নিহত হওয়ার খবরে সোমবার মাদারিপুরে তার গ্রামের বাড়িতে সাংবাদিকরা গিয়ে দেখেন, তার পরিবারের সদস্যরা আহাজারি করছেন।

BBC News বাংলা